28 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeস্বাস্থ্যঅবিবাহিত তরুণ-তরুণীর মধ্যে এইচআইভি সংক্রমণ বৃদ্ধি পেয়েছে

অবিবাহিত তরুণ-তরুণীর মধ্যে এইচআইভি সংক্রমণ বৃদ্ধি পেয়েছে

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে বাংলাদেশে নতুন এইচআইভি রোগীর সংখ্যা ১,৮৯১-এ পৌঁছেছে এবং একই সময়ে ২১৯ জনের মৃত্যু ঘটেছে। নতুন শনাক্ত রোগীদের মধ্যে অবিবাহিত তরুণ-তরুণীর অংশ ৪২ শতাংশ, যা গত বছরের ৩১.৫ শতাংশের তুলনায় এক বছরের মধ্যে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি নির্দেশ করে।

এই ডেটা ২০২৪ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৫ সালের নভেম্বর পর্যন্ত সংগ্রহ করা হয়েছে এবং জাতীয় এইডস ও এসটিডি নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির অধীনে প্রকাশিত হয়েছে। বিশ্লেষণ থেকে দেখা যায়, অবিবাহিত যুবকদের মধ্যে সংক্রমণ হার আগের বছরের তুলনায় দশ শতাংশের বেশি বেড়েছে, যা জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগ বাড়িয়ে তুলেছে।

রাজধানীর বাইরে, যশোর জেলায় ২০২৫ সালে ৫০ জনের বেশি নতুন এইচআইভি রোগী শনাক্ত হয়েছে। স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্মীরা জানিয়েছেন, আক্রান্তদের মধ্যে স্কুল ও কলেজে পড়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা তুলনামূলকভাবে বেশি। এই বয়সের তরুণদের সচেতনতা কম থাকলেও কৌতূহল বেশি, ফলে ঝুঁকিপূর্ণ আচরণে লিপ্ত হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে।

বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করছেন, সংক্রমণ বৃদ্ধির পেছনে একাধিক কারণ একসঙ্গে কাজ করছে। ইনজেক্টেবল ড্রাগ ব্যবহারকালে একই সুচ ভাগাভাগি, কনডম ছাড়া যৌন সম্পর্ক, একাধিক সঙ্গীর সঙ্গে সম্পর্ক এবং সঙ্গীর স্বাস্থ্য অবস্থা সম্পর্কে অজ্ঞতা প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। তদুপরি, পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যৌন স্বাস্থ্য বিষয়ক খোলামেলা আলোচনা না হওয়াও একটি বড় বাধা।

জাতিসংঘের এইডস কর্মসূচি (ইউএনএইডস) এর বাংলাদেশ অফিসের পরিচালক সায়মা খান উল্লেখ করেছেন, অবিবাহিত রোগীদের অধিকাংশের বয়স ২৫ বছরের নিচে। এই বয়স গোষ্ঠীতে রোমাঞ্চ ও ঝুঁকি নেওয়ার প্রবণতা বেশি, ফলে সচেতনতার অভাবের কারণে ঝুঁকিপূর্ণ আচরণে জড়িয়ে পড়ে।

একটি স্থানীয় এনজিওর প্রতিনিধি জানান, অল্পবয়সী অনেকেই ঝুঁকির মাত্রা বুঝতে পারেন না এবং কনডমসহ সুরক্ষা ব্যবস্থার তথ্য সামাজিক ট্যাবুর কারণে গোপন থাকে। এই ট্যাবু ভাঙা এবং যৌন স্বাস্থ্য সম্পর্কে সঠিক তথ্য পৌঁছে দেওয়া জরুরি বলে তিনি জোর দিয়েছেন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলি এখন তরুণদের লক্ষ্য করে সচেতনতা বৃদ্ধি, কনডম বিতরণ এবং নিরাপদ যৌন আচরণ সম্পর্কে শিক্ষা প্রদানকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। পাশাপাশি, ইনজেক্টেবল ড্রাগ ব্যবহারকারীদের জন্য নিরাপদ সরঞ্জাম সরবরাহ এবং শেয়ারিং বন্ধ করার জন্য বিশেষ প্রচার চালু করা হয়েছে।

যশোরের মতো উচ্চ সংক্রমণ হারযুক্ত এলাকায় স্কুল ও কলেজে যৌন স্বাস্থ্য শিক্ষা কর্মসূচি চালু করা এবং পরিবারে খোলামেলা আলোচনা উৎসাহিত করা পরিকল্পনা করা হয়েছে। এসব পদক্ষেপের লক্ষ্য হল তরুণদের মধ্যে ঝুঁকি কমিয়ে, সংক্রমণ হ্রাস করা এবং রোগীর মানসিক সমর্থন নিশ্চিত করা।

এইচআইভি এখনও সম্পূর্ণ নিরাময়যোগ্য না হলেও, অ্যান্টি-রেট্রোভাইরাল থেরাপি (এআরটি) রোগীর জীবনের গুণগত মান উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত করে। তাই সময়মত পরীক্ষা, সঠিক চিকিৎসা এবং ধারাবাহিক ফলো-আপ রোগীর স্বাস্থ্যের জন্য অপরিহার্য।

প্রতিবেদনটি শেষ করে বলা যায়, তরুণ সমাজে এইচআইভি সংক্রমণ বৃদ্ধি একটি বাস্তব চ্যালেঞ্জ, যা মোকাবিলার জন্য সরকার, স্বাস্থ্য সংস্থা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং সমাজের সমন্বিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন। আপনি কি আপনার আশেপাশের তরুণদের জন্য নিরাপদ যৌন আচরণ সম্পর্কে তথ্য শেয়ার করছেন?

৮০/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ইত্তেফাক
স্বাস্থ্য প্রতিবেদক
স্বাস্থ্য প্রতিবেদক
AI-powered স্বাস্থ্য content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments