গুলশানের বিএনপি নির্বাচনী কার্যালয়ে শনিবার অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে দলের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের উপদেষ্টা মাহদী আমীন ভারত‑বিএনপি চুক্তি সংক্রান্ত দাবিকে ভিত্তিহীন বলে খণ্ডন করেন।
মাহদী আমীন জানান, জামায়াত-এ-ইসলামি নায়েব আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহেরের ভারত‑বিএনপি চুক্তি সংক্রান্ত মন্তব্যের পক্ষে কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করা সম্ভব নয় এবং এমন কোনো তথ্যের বাস্তবতা নেই। তিনি উল্লেখ করেন, মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া তথ্যের কোনো সত্যতা না থাকায় তা রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরির অপকৌশল হিসেবে বিবেচিত হয়।
বিএনপি স্পষ্ট করে জানায়, ভারতের সঙ্গে কোনো চুক্তি বা সমঝোতা করা হয়েছে এমন কোনো নথি বা সাক্ষ্য নেই। দল এটিকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বিভ্রান্তি এবং রাজনৈতিক অপপ্রচার হিসেবে চিহ্নিত করেছে।
মাহদী আমীন আরও উল্লেখ করেন, জামায়াত-এ-ইসলামি নেতার এই দাবি যদি ভুল তথ্যের ওপর ভিত্তি করে হয়, তবে তা সংশ্লিষ্ট নেতার অজ্ঞতার ফলও হতে পারে, তবে তা দলকে প্রভাবিত করবে না। তিনি জোর দিয়ে বলেন, বিএনপির ভারত‑বিএনপি চুক্তি সংক্রান্ত অভিযোগ সম্পূর্ণভাবে ভিত্তিহীন।
গত বৃহস্পতিবার কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার কালিকাপুর ইউনিয়নের ছুফুয়া এলাকায় জামায়াত-এ-ইসলামি নেতা সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের একটি নির্বাচনী সমাবেশে ভারতের আনন্দবাজার পত্রিকায় প্রকাশিত একটি সংবাদ উল্লেখ করে দাবি করেন, যে বিরোধী দল ভারতের সঙ্গে তিনটি শর্তে চুক্তি করেছে। তবে সংশ্লিষ্ট দল এই দাবির কোনো প্রতিবাদ জানায়নি, যা আজকের সংবাদ সম্মেলনে আলোচনার বিষয় হয়ে ওঠে।
মাহদী আমীন বলেন, গণ‑অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা মানে ইতিবাচক রাজনীতি গড়ে তোলা, যেখানে অপপ্রচার, অপকৌশল বা অপরাজনীতির কোনো স্থান নেই। তিনি আরও উল্লেখ করেন, বিএনপির রাজনীতি সবসময় বাংলাদেশ‑পন্থী, এবং তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশের স্বার্থ, সার্বভৌমত্ব ও জনগণের ক্ষমতায়নই মূল ভিত্তি।
দলের অতীতের কিছু উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপের কথাও মাহদী আমীন তুলে ধরেন। তিনি বলেন, পানির ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিত করতে তিস্তা ও পদ্মা পারের ধারাবাহিক আন্দোলন করা, সীমান্তে ফেলানি হত্যার ঘটনার পর প্রথম প্রতিবাদ করা—all এসবই বিএনপির স্বতন্ত্র অবস্থানকে প্রতিফলিত করে।
শহীদ জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী, বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে আধিপত্যবাদের বিরোধে দল যে পদক্ষেপ নিয়েছে, তা দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপটে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলেছে। মাহদী আমীন উল্লেখ করেন, এসব ঐতিহাসিক পদক্ষেপের মাধ্যমে দল জনমত গঠন ও জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছে।
বিএনপি এই অবস্থান থেকে ভবিষ্যতে ভারতের সঙ্গে কোনো চুক্তি নিয়ে আলোচনা হলে তা স্বচ্ছতা ও ন্যায়সঙ্গত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে হবে, এমনই দলীয় নীতি। বর্তমানে দলীয় নেতৃত্বের স্পষ্ট বার্তা হল, ভারত‑বিএনপি চুক্তি সংক্রান্ত কোনো গুজব বা অপ্রমাণিত দাবি দেশের রাজনৈতিক পরিবেশকে অস্থির করতে পারে, তাই সেসবকে তীব্রভাবে নিন্দা করা হবে।
এই বিবৃতি দেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে, কারণ ভারত‑বাংলাদেশ সম্পর্কের কোনো পরিবর্তন বা চুক্তি দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে প্রভাব ফেলতে পারে। তবে বিএনপি স্পষ্ট করে জানিয়েছে, এমন কোনো চুক্তি না থাকলে তা নিয়ে গুজব ছড়ানোকে রাজনৈতিক অপপ্রচার হিসেবে গণ্য করা হবে।
বিএনপি দল ভবিষ্যতে নির্বাচনী কৌশল ও জনমত গঠনে এই অবস্থান বজায় রাখবে, এবং দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য সকল বহিরাগত হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান নেবে।



