ইন্টার মিলান শুক্রবার সান সিরোতে পিসার বিরুদ্ধে ৬-২ গোলে জয়লাভ করে সিরি এ-তে ছয় পয়েন্টের সুবিধা অর্জন করেছে। দুই গোলের পিছনে থেকে ফিরে আসা দলটি শীঘ্রই শীর্ষে ফিরে এসেছে, যখন পিসা প্রথমার্ধে দুই গোলের সুবিধা নিয়ে মাঠে প্রবেশ করেছিল।
ম্যাচের শুরুতেই স্টেফানো মোরেও ইন্টারের গলপোস্টে দু’টি গোল করে দলকে দু’গোলের পিছনে ফেলেছিল। ১১তম মিনিটে গলকিপার ইয়ান সামারের পাসে ত্রুটি থেকে মোরেও চিপ শট দিয়ে মাঝখানে থেকে গলপোস্টের ওপরে দিয়ে বলটি নেটের পিছনে পাঠায়। এরপর তিনি হেডার দিয়ে একই সময়ে পিসার সুবিধা দ্বিগুণ করে।
ইন্টারের পালা ৩৯তম মিনিটে পিয়োটর জেলিনস্কির পেনাল্টি দিয়ে শুরু হয়। পেনাল্টি সফল হওয়ার পর লাউতারো মার্টিনেজ এবং পিও এস্পোসিতো দুজনেই শক্তিশালী হেডার দিয়ে গোল করে, যা প্রথমার্ধের শেষের দিকে ইন্টারকে সমতা ভেঙে এগিয়ে নিয়ে যায়। শেষার্ধে ইন্টার আরও তিনটি গোল যোগ করে, যেখানে ফেডেরিকো দিমার্কো, অঁজে-ইয়ান বনি এবং হেনরিক মখিতারিয়ান স্কোরিং লাইনকে সম্পূর্ণ করে।
দিমার্কো ম্যাচের পরে বলেছিলেন, “আমি যখন মাঠে নামি, তখন অর্ধেকের আগে এক গোল করার পরিকল্পনা থাকে, আর তার পরের সময় পিসার জন্য দীর্ঘ দ্বিতীয়ার্ধ হতে পারে। তবে আমরা তিনটি গোল করে পরিস্থিতি পরিবর্তন করেছি। কখনও কখনও অনেক ম্যাচের পর আমরা ভুল পদ্ধতিতে খেলি, কিন্তু এই মুহূর্তে পরিবর্তন করা গুরুত্বপূর্ণ ছিল।” তার এই মন্তব্যে দলটির আত্মবিশ্বাস স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
ইন্টারের এই জয়টি এ সি মিলান এবং নাপোলির ওপর চাপ বাড়িয়ে দেয়। এ সি মিলান আগামী রবিবার দক্ষিণে রোমা (চতুর্থ স্থান) এর মুখোমুখি হবে, যেখানে গ্যাসপারিনি অধীনে রোমা ধারাবাহিকভাবে উন্নতি করছে। অন্যদিকে নাপোলি তৃতীয় স্থানে নয় পয়েন্টের পিছিয়ে রয়েছে, এবং টুরিনে চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে, যেখানে ১০-জনের ফি.সি. কোপেনহেগেনের সঙ্গে ড্রের পর চ্যাম্পিয়ন্স লিগ থেকে বাদ পড়ার ঝুঁকি রয়েছে।
পিসা বর্তমানে লিগের শেষ দশটি ম্যাচে মাত্র চার পয়েন্ট সংগ্রহ করেছে এবং টেবিলের নিচের দিকে অবস্থান করছে। এই পরাজয়টি তাদের জন্য কঠিন সময়ের আরেকটি সূচক, বিশেষ করে যখন দলটি অক্টোবর ১৯৯০ থেকে সান সিরোতে প্রথমবারের মতো উপস্থিত হয়। প্রায় পাঁচ হাজার দূরবর্তী ভক্তের উল্লাসে মোরেওয়ের প্রথম গোলের পর, তিনি আবার হেডার দিয়ে পিসার সুবিধা দ্বিগুণ করেন, যা ভক্তদের মধ্যে উত্তেজনা বাড়িয়ে দেয়।
ইন্টারের এই জয় সিরি এ-তে শীর্ষে ছয় পয়েন্টের ব্যবধান তৈরি করে, যা শিরোপা প্রতিদ্বন্দ্বীদের জন্য কঠিন চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। দলটি এখন দশ ম্যাচের অপ্রতিদ্বন্দ্বী শৃঙ্খলা বজায় রেখেছে এবং শিরোপা রক্ষার পথে দৃঢ় পদক্ষেপ নিচ্ছে।



