অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতায় আসার পর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উচ্চপদস্থ পদে পরিবর্তন আনা হলেও, সংস্কার কমিশন গঠনের বদলে স্তরভিত্তিক দুইটি পরামর্শক কমিটি গঠন করা হয়েছে; উচ্চশিক্ষা ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনকে পুনর্গঠন করে উচ্চশিক্ষা কমিশন গঠনের প্রক্রিয়া চলছে, তবে এসব উদ্যোগের কার্যকরী বাস্তবায়ন এখনো অনিশ্চিত।
শিক্ষা সংক্রান্ত পরিবর্তনগুলোতে মন্ত্রণালয় থেকে শুরু করে বিদ্যালয় পর্যায়ে ব্যক্তিগত পরিবর্তন ঘটলেও, গণঅভ্যুত্থানের পর প্রত্যাশিত কাঠামোগত সংস্কার দেখা যায়নি। বিশাল গুণগত উন্নতির রূপরেখা তৈরি করতে একটি স্বাধীন সংস্কার কমিশনের প্রয়োজন ছিল, যা এখনো গঠিত হয়নি।
তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা এবং গণসাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে চৌধুরী স্ট্রিমকে বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে শিক্ষা নীতি অগ্রাধিকারের শীর্ষ থেকে সরে গেছে। তিনি উল্লেখ করেন, সংস্কার কমিটি গঠনের পরেও বাস্তবায়নের জন্য শিক্ষিত জনগোষ্ঠীর সক্রিয় অংশগ্রহণ অপরিহার্য।
২০২৪ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর প্রাথমিক ও উপানুষ্ঠানিক শিক্ষার মানোন্নয়নের জন্য একটি পরামর্শক কমিটি গঠন করা হয়। ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক মনজুর আহমেদকে কমিটির প্রধান হিসেবে নিযুক্ত করা হয় এবং গত বছরের ১০ ফেব্রুয়ারি কমিটির চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।
কমিটি প্রাথমিক শিক্ষার মূল সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে বেশ কিছু পদক্ষেপ প্রস্তাব করে। প্রধান শিক্ষকদের দশম গ্রেডে বেতন প্রদান, স্বতন্ত্র বেতন কাঠামো তৈরি, সহকারী শিক্ষকদের বেতনগ্রেড উন্নয়ন এবং প্রধান শিক্ষক পদে সম্পূর্ণ বিভাগীয় পদোন্নতি অন্তর্ভুক্ত ছিল। তবে এই সুপারিশগুলো এখনো বাস্তবায়িত হয়নি।
সম্প্রতি প্রাথমিক সহকারী শিক্ষকদের বেতন ও কাজের শর্ত নিয়ে প্রতিবাদে তারা কিছুদিনের জন্য পাঠদান বন্ধ করে দেয়। একই সময়ে, সরকার প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষাকে পুনরায় চালু করে, যেখানে সরকারি ও বেসরকারি বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির ৪০ শতাংশ শিক্ষার্থীকে অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হবে।
রাশেদা কে চৌধুরী উল্লেখ করেন, বৃত্তি পরীক্ষার পুনঃপ্রবর্তন শিক্ষার্থীদের মধ্যে বৈষম্য সৃষ্টি করে এবং বাস্তবিক কোনো উপকারে আসবে না। তিনি বলেন, এই সিদ্ধান্তটি সেই আন্দোলনের পর এসেছে, যা অন্তর্বর্তী সরকারকে ক্ষমতায় এনেছিল, এবং এখন কোটা পদ্ধতি পুনরায় চালু করা হয়েছে, যা কোচিং সেন্টার ও বিশেষ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের সুবিধা দেবে।
উচ্চশিক্ষা ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের পুনর্গঠন চলমান, তবে উচ্চশিক্ষা কমিশন গঠনের প্রক্রিয়া এখনও শেষ হয়নি। এই ধীরগতি শিক্ষার সামগ্রিক সংস্কার পরিকল্পনার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
শিক্ষাবিদ ও নীতি নির্ধারকরা এখনো আশা করছেন যে, গঠিত কমিটিগুলোর সুপারিশগুলো বাস্তবায়নের জন্য স্পষ্ট সময়সীমা ও তহবিল নিশ্চিত করা হবে। অন্যথায়, প্রাথমিক স্তরে বেতন ও পদোন্নতির প্রতিশ্রুতি শুধুই কাগজে লেখা পরিকল্পনা রয়ে যাবে।
পাঠকদের জন্য ব্যবহারিক পরামর্শ: যদি আপনার সন্তান প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় অংশ নিতে চায়, তবে সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের বিজ্ঞপ্তি ও সময়সূচি নিয়মিত অনুসরণ করুন এবং কোটা পদ্ধতির শর্তাবলী সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা রাখুন। এছাড়া, শিক্ষকদের বেতন ও পদোন্নতির বিষয়ে তথ্য জানার জন্য শিক্ষাবিদদের সঙ্গে সংলাপ বজায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ।



