27 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিড. মাহদী আমীন বললেন, ভারত‑বিএনপি চুক্তি দাবি ‘অপকৌশল বা অজ্ঞতা’

ড. মাহদী আমীন বললেন, ভারত‑বিএনপি চুক্তি দাবি ‘অপকৌশল বা অজ্ঞতা’

ড. মাহদী আমীন, বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র, শনিবার (২৪ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে একটায় ঢাকা শহরের একটি সংবাদ সম্মেলনে ভারত‑বিএনপি চুক্তি সংক্রান্ত দাবিকে অপকৌশল বা অজ্ঞতা বলে নিন্দা করেন। তিনি উল্লেখ করেন, এই ধরনের দাবি কোনো প্রমাণের ভিত্তিতে না হয়ে কেবল অনুমান ও গুজবের ওপর নির্ভরশীল।

মহদী আমীন এই মন্তব্যের পূর্বে বাংলাদেশ জামায়াত-এ-ইসলামি নায়েবে আমির ড. আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ তাহেরের বক্তব্যকে লক্ষ্যবস্তু করে কথা বলেন। ড. তাহেরের মতে, বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান ভারতের সঙ্গে তিনটি শর্তে চুক্তি করে দেশে ফিরে এসেছেন। এই দাবি তিনি কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার কালিকাপুর ইউনিয়নের ছুফুয়া এলাকায় নির্বাচনী সমাবেশে প্রকাশ করেন।

ড. তাহেরের দাবির ভিত্তি হিসেবে তিনি আনন্দবাজার পত্রিকায় প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনের উল্লেখ করেন, যেখানে বলা হয়েছে যে চুক্তির শর্তগুলো হল ফ্যাসিবাদী সংযোগযুক্ত ব্যক্তিদের পুনর্বাসন, বাংলাদেশের আত্মরক্ষার জন্য অস্ত্র ক্রয়ের ক্ষেত্রে ভারতের অনুমতি নেওয়া, এবং ইসলামপন্থী গোষ্ঠীর দমন। তিনি এই শর্তগুলোকে ভারতের সঙ্গে কোনো গোপন চুক্তির প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপন করেন।

মহদী আমীন ড. তাহেরের এই বক্তব্যের প্রতি তীব্র সমালোচনা জানান। তিনি বলেন, যে কোনো রাজনৈতিক নেতার এমন দাবি সমর্থন করার জন্য স্পষ্ট প্রমাণ উপস্থাপন করা বাধ্যতামূলক, তবে ড. তাহের এ পর্যন্ত কোনো প্রমাণ দেখাতে পারেননি। তার মতে, মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া তথ্যের কোনো বাস্তবতা বা সত্যতা নেই।

মহদী আমীন আরও যুক্তি দেন, এই ধরনের মন্তব্যের মূল উদ্দেশ্য হল জনমতকে বিভ্রান্ত করা এবং রাজনৈতিক উত্তেজনা সৃষ্টি করা। তিনি উল্লেখ করেন, যদি এই তথ্য ভুলভাবে দেওয়া হয়ে থাকে, তবে তা অজ্ঞতার ফল, আর যদি ইচ্ছাকৃতভাবে প্রচার করা হয়ে থাকে, তবে তা রাজনৈতিক অপকৌশল। যাই হোক, তিনি জোর দিয়ে বলেন, ভারত‑বিএনপি চুক্তির দাবি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং অপপ্রচার।

বিএনপি’র রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি সম্পর্কে মহদী আমীন স্পষ্ট করে বলেন, দলের মূল লক্ষ্য হল বাংলাদেশের স্বার্থ, সার্বভৌমত্ব এবং জনগণের ক্ষমতা রক্ষা করা। তিনি জোর দেন, “সবার আগে বাংলাদেশ” এই নীতি অনুসারে দলটি কাজ করে। তার মতে, এই নীতি সবসময়ই দলের নীতিমালার কেন্দ্রে থাকে।

তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি দীর্ঘদিন ধরে তিস্তা ও পদ্মা নদীর পানির ন্যায্য ভাগের দাবি নিয়ে প্রতিবাদ ও সমাবেশ আয়োজন করে আসছে। মহদী আমীন এই আন্দোলনকে দলের বাস্তব রাজনৈতিক কার্যক্রমের উদাহরণ হিসেবে উপস্থাপন করেন, যা জনগণের মৌলিক অধিকার রক্ষার লক্ষ্যে পরিচালিত।

এই বিবৃতি দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে নতুন আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। ড. মাহদী আমীন এবং ড. আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ তাহেরের মধ্যে মতবিরোধের ফলে ভবিষ্যতে উভয় পক্ষের মধ্যে আরও তীব্র বিতর্কের সম্ভাবনা দেখা দিচ্ছে। বিশেষত, বিএনপি’র নেতৃত্বের ওপর প্রশ্ন উঠতে পারে এবং দলটি তার নীতি ও কৌশল পুনর্বিবেচনা করতে পারে।

বিএনপি’র অভ্যন্তরীণ বিশ্লেষকরা সম্ভাব্য পরবর্তী পদক্ষেপ হিসেবে দলের যোগাযোগ কৌশল শক্তিশালী করা এবং জনমত গঠনকে লক্ষ্য করে নতুন প্রচারাভিযান চালু করার কথা উল্লেখ করছেন। একই সঙ্গে, জামায়াত-এ-ইসলামি নেতারা এই বিতর্কে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করতে পারে, যাতে রাজনৈতিক মঞ্চে তাদের প্রভাব বজায় থাকে।

সারসংক্ষেপে, ড. মাহদী আমীন ভারতের সঙ্গে কোনো গোপন চুক্তি না থাকার দাবি পুনর্ব্যক্ত করে, ড. তাহেরের মন্তব্যকে অজ্ঞতা বা অপকৌশল হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। তিনি প্রমাণের অভাবের ওপর জোর দিয়ে, এই ধরনের গুজবের বিরোধিতা করেছেন এবং বিএনপি’র মূল রাজনৈতিক লক্ষ্যকে পুনরায় তুলে ধরেছেন। ভবিষ্যতে এই বিতর্ক কীভাবে বিকশিত হবে, তা দেশের রাজনৈতিক গতিপথে প্রভাব ফেলতে পারে।

৮০/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ইত্তেফাক
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments