ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলায় রাত ৩:৩০ টার দিকে একটি তল্লাশি চৌকিতে পুলিশ সদস্য ইজাউল হক ভূঁইয়া (৪৩) ছুরি দিয়ে আঘাতপ্রাপ্ত হন। আক্রমণকারী হিসেবে স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা রুহুল আমিনের পুত্র মো. শাহরিয়ার আহমেদ (২৮) চিহ্নিত হয়েছে।
হালুয়াঘাট পৌরসভার পাগলপাড়া এলাকায় সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) এবং তিনজন সহকর্মীর দল চোরাচালান রোধে রাতের তল্লাশি চালাচ্ছিল। তারা একটি মোটরসাইকেল থামিয়ে দুই তরুণের চলাচল নিয়ে প্রশ্ন করতে থাকে।
শাহরিয়ার ও তার সঙ্গীর সঙ্গে প্রশ্নোত্তর চলাকালীন মোটরসাইকেল থামানোর কারণ নিয়ে উত্তেজনা বাড়ে। পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থল থেকে দূরে গিয়ে শাহরিয়ার বাবা রুহুল আমিনের বাড়িতে গিয়ে বিষয়টি জানায়।
বাবার বাড়ি থেকে ফিরে আসার পথে শাহরিয়ার এক পুলিশ সদস্যের পিঠে ছুরি দিয়ে আঘাত করে। আঘাতপ্রাপ্ত সদস্যকে হালুয়াঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়, পরে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সার্জারিতে ভর্তি করা হয়।
আহত পুলিশ সদস্যের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় পরের দিন বিকালে সংশ্লিষ্ট উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা মিজানুর রহমান ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে রোগীর অবস্থা পর্যবেক্ষণ করেন।
আক্রমণের পর শাহরিয়ার তৎক্ষণাৎ পালিয়ে যায়। তবে পুলিশ দ্রুত অনুসন্ধান চালিয়ে সন্ধ্যায় তার মোটরসাইকেল আটক করে এবং সকাল ১ টার দিকে তাকে গ্রেফতার করে।
শাহরিয়ার গ্রেফতারকালে তার বাবা রুহুল আমিনকেও জিজ্ঞাসাবাদে হেফাজতে নেওয়া হয়। রুহুল আমিনের বিরুদ্ধে কোনো অপরাধের প্রমাণ না থাকায় তাকে মুচলেকায় ছেড়ে দেওয়া হয়।
হালুয়াঘাট থানায় ২৩ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে ঘটনাটির ওপর ভিত্তি করে মামলা দায়ের করা হয়। মামলায় এএসআই নওয়াব আলি বাদী হিসেবে নাম উল্লেখ করেছেন এবং সন্দেহভাজন শাহরিয়ার ও অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন।
শাহরিয়ার ও তার বাবার গ্রেফতার, পাশাপাশি স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতার জামিনের পর, তদন্ত এখনও চলমান। পুলিশ দল তল্লাশি চৌকির সময় ঘটনার সঠিক কারণ ও সংশ্লিষ্ট সকলের দায়িত্ব নির্ধারণে কাজ করছে।
অধিকতর তথ্য প্রকাশের অপেক্ষায়, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আদালতে মামলার পরবর্তী শুনানির সময় নির্ধারণের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে।



