জাতীয় সংসদীয় নির্বাচনের ত্রয়োদশ ভোট ও গণভোটের জন্য পোস্টাল ভোটের শেষ সময় নির্ধারিত হয়েছে ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটের দিন বিকেল ৪:৩০ টায়, যা নির্বাচন কমিশনের (ইসিসি) সর্বশেষ নির্দেশনা। এই সময়সীমা অতিক্রম করলে ভোটের ফলাফলে সেই পত্র গণনা করা হবে না। পোস্টাল ভোটের মাধ্যমে ভোটদানকারী নাগরিকদের দ্রুত পদক্ষেপ নিতে ইসিসি বিশেষভাবে অনুরোধ জানিয়েছে।
ইসিসি ভোটারদের পরামর্শ দিয়েছে যে, পোস্টাল ভোটের কাগজ পেয়ে তৎক্ষণাৎ তা পূরণ করে নিকটস্থ ডাকঘর বা পোস্টবক্সে জমা দেওয়া উচিত। দেরি না করে ভোটের প্যাকেট পাঠালে গণনা প্রক্রিয়ায় কোনো বাধা না থাকে। ভোটারদের জন্য সময়সীমা সম্পর্কে স্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে যাতে কোনো ভোট বাতিল না হয়।
ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সেলিম আহমেদ খান, ইসিসির আউট অফ কান্ট্রি ভোটিং সিস্টেম ডেভেলপমেন্ট ও ইমপ্লিমেন্টেশন ইনিশিয়েটিভের প্রধান, এই সিদ্ধান্ত নিশ্চিত করেছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, পোস্টাল ভোটের আবেদনকারী সকলকে দ্রুত কাজ করতে হবে। এছাড়া, ভোটের হলুদ খামটি নিকটস্থ পোস্ট অফিসে বা নির্ধারিত পোস্টবক্সে জমা দিতে হবে।
ইসিসি স্পষ্ট করে বলেছে যে, ১২ ফেব্রুয়ারি বিকেল ৪:৩০ টার পরে প্রাপ্ত ভোট পত্রগুলো গণনা থেকে বাদ দেওয়া হবে। তাই ভোটারদের জন্য সময়মতো কাগজপত্র পাঠানো অত্যন্ত জরুরি। এই নির্দেশনা অনুসরণ না করলে ভোটার তার ভোটের অধিকার হারাতে পারেন।
পোস্টাল ভোটিং ব্যবস্থা ২১ জানুয়ারি সন্ধ্যা ৫ টা থেকে বিদেশে বসবাসকারী নাগরিক, নির্বাচনী দায়িত্বে থাকা সরকারি কর্মকর্তা এবং আইনগত কারাগারে থাকা ব্যক্তিদের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে। এই সময়ে ভোটাররা তাদের ভোটের কাগজ পেয়ে তা পূরণ করতে পারবে।
বাংলাদেশে বর্তমানে মোট ১২.৭৬ কোটি নিবন্ধিত ভোটার রয়েছে। এদের মধ্যে ১,৫৩৩,৬৮৩ জন ভোটার পোস্টাল ভোট বিডি অ্যাপের মাধ্যমে নিবন্ধন করেছেন, যার মধ্যে ১,২৮১,৪৩৫ পুরুষ ও ২৫২,২৪৬ নারী। এই সংখ্যা দেশের পোস্টাল ভোটের ব্যবহার বাড়ার ইঙ্গিত দেয়।
ইসিসি ইতিমধ্যে ১২২টি দেশ জুড়ে ৭,২৮,০২৩টি পোস্টাল ভোটের কাগজ পাঠিয়ে দিয়েছে। ভোটাররা ভোটের কাগজে নির্বাচনী প্রতীক দেখতে পাবেন এবং ইমেইলের মাধ্যমে ভোট দিতে পারবেন। এই পদ্ধতি ভোটারদের জন্য সুবিধাজনক এবং দ্রুতগতি নিশ্চিত করে।
পোস্টাল ভোট বিডি অ্যাপটি ১৮ নভেম্বর চালু করা হয় এবং পরের দিন থেকে নিবন্ধন শুরু হয়। অ্যাপের মাধ্যমে ভোটার সহজে নিবন্ধন করে ভোটের কাগজ পেতে পারেন। এই ডিজিটাল ব্যবস্থা ভোটারদের জন্য আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে ভোটদানকে সহজ করেছে।
নিবন্ধন সংখ্যা অনুযায়ী সৌদি আরবের ভোটার সংখ্যা সর্বোচ্চ, যেখানে ২,৩৯,১৮৬ জন নিবন্ধিত। জেলা ভিত্তিতে কুমিল্লা ১,১২,০৯০ ভোটার দিয়ে শীর্ষে রয়েছে, তারপরে ঢাকা ১,০৮,৭৫৭ ভোটার। এই তথ্যগুলো পোস্টাল ভোটের ভৌগোলিক বিস্তারকে তুলে ধরে।
পোস্টাল ভোটের আওতায় মোট ৭,৬১,১৪১ জন ভোটার নিবন্ধিত, যার মধ্যে নির্বাচনী দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা ও আইনগত কারাগারে থাকা ব্যক্তিরাও অন্তর্ভুক্ত। এদের মধ্যে ৬,২৮৫ জন আইনগত কারাগারে আছেন। পোস্টাল ভোট ১৯৭২ সাল থেকে বাংলাদেশের নির্বাচনী প্রক্রিয়ার অংশ, তবে এইবার ইসিসি প্রথমবারের মতো আইটি-সহায়িত অনলাইন সিস্টেম চালু করেছে। এই নতুন পদ্ধতি ভোটারদের জন্য দ্রুত এবং স্বচ্ছ ভোটদান নিশ্চিত করবে।



