গতরাতে চট্টগ্রামের বায়েজিদ বস্তামি থানা অধীনে শাহীদানগর ও লোহারপুল এলাকায় এক কসাইকে হত্যা করে দেহের অংশগুলো বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে ৩৯ বছর বয়সী এক নারী গ্রেফতার করা হয়েছে।
মৃতদেহের মালিক ছিলেন ৩৮ বছর বয়সী আনিস, যিনি রাউজান উপজেলার বাসিন্দা এবং অক্সিজেন এলাকায় কসাই হিসেবে কাজ করতেন।
পুলিশের অনুসন্ধানে জানা যায়, শাহীদানগর ও লোহারপুলের খাল ও অন্যান্য জায়গা থেকে ধারাবাহিকভাবে দেহের অংশগুলো উদ্ধার করা হয়েছে। প্রথমে অক্সিজেন চৌরাস্তার কাছে দুইটি বিচ্ছিন্ন হাত ও দুইটি পা পাওয়া গিয়েছিল, পরে লোহারপুলের একটি খাল থেকে শিরোনামসহ দেহের অংশ পুনরুদ্ধার করা হয়।
ফরেনসিক দল আঙুলের ছাপের মাধ্যমে আনিসের পরিচয় নিশ্চিত করে, ফলে হত্যার শিকারকে সুনির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত করা সম্ভব হয়।
শাহীদানগর এলাকায় অনুসন্ধানকালে সাফিয়া নামে ৩৯ বছর বয়সী রাউজান বাসিন্দা গ্রেপ্তার হয়। তার পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পরই পুলিশ অতিরিক্ত দেহের অংশগুলো পুনরুদ্ধার করে।
ডেপুটি কমিশনার আমিরুল ইসলাম সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন, সাফিয়ার বিবৃতি অনুসারে দেহের অংশগুলো বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল এবং তার ভাইয়েরও এই মামলায় জড়িত থাকার সন্দেহ রয়েছে।
সাফিয়ার ভাইকে সন্দেহভাজন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে এবং বর্তমানে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এছাড়াও দুইজন সন্দেহভাজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে।
প্রাথমিকভাবে, বৃহস্পতিবার রাতের দিকে অক্সিজেন চৌরাস্তার কাছে বিচ্ছিন্ন হাত ও পা পাওয়া গিয়েছিল, যা পরে ফরেনসিক বিশ্লেষণে শিহরণজনকভাবে শিহরণযুক্ত দেহের অংশ হিসেবে চিহ্নিত হয়।
পরবর্তীতে, লোহারপুলের একটি খাল থেকে শিরোনামসহ দেহের অংশ উদ্ধার করা হয়, যা শিকারের পরিচয় নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
বায়েজিদ বস্তামি থানার ওয়ান-ইন-চার্জ জাহেদুল কবিরের মতে, সাফিয়া ও আনিস দীর্ঘ সময়ের অবিবাহিত সম্পর্কের মধ্যে ছিলেন।
সম্প্রতি দুজনের মধ্যে একটি তর্কের পরই এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে, এবং দেহের অংশগুলো ছড়িয়ে দেওয়ার মাধ্যমে অপরাধ লুকিয়ে রাখার চেষ্টা করা হয়েছে।
পুলিশ বর্তমানে মামলাটির তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে এবং সংশ্লিষ্ট সকল সন্দেহভাজনকে আইনি প্রক্রিয়ার আওতায় আনতে প্রস্তুত। অতিরিক্ত তথ্য পাওয়া গেলে তা জনসাধারণের জানাতে হবে।



