ডা. শফিকুর রহমান, জামায়াত-এ-ইসলামির আমির, গাইবান্ধা জেলার পলাশবাড়ির এস এম পাইলট উচ্চবিদ্যালয়ে শনিবার (২৪ জানুয়ারি) অনুষ্ঠিত এক জনসভায় উত্তরাঞ্চলের নদী পুনরুজ্জীবনের পরিকল্পনা ঘোষণা করেন। তিনি জানালেন, যদি দলটি সরকার গঠন করে, তবে প্রথম কাজ হবে মৃত নদীগুলোকে আবার বাঁচিয়ে তোলা। এই প্রতিশ্রুতি দেশের জলসম্পদ ও কৃষি উন্নয়নের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত, যা তিনি ভোটারদের কাছে তুলে ধরেছেন।
সেই সভায় ডা. শফিকুর রহমান নদীকে দেশের রক্তনালী হিসেবে উল্লেখ করে, অতীতের অবহেলার ফলে পরিবেশ ও মানুষের জীবনে যে ক্ষতি হয়েছে তা তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন, গত পাঁচ‑চল্লিশ বছর ধরে সরকারী অগ্রাহ্যের ফলে উত্তরাঞ্চলের বহু নদী শুষ্ক হয়ে গেছে, যা স্থানীয় অর্থনৈতিক ও সামাজিক কাঠামোকে দুর্বল করেছে।
রিপোর্ট অনুযায়ী, একসময় তিস্তা, ধরলা, করতোয়া ও ব্রহ্মপুত্রের জলে জাহাজ চলত, কিন্তু আজ এই নদীগুলোতে সাধারণ নৌকা চলাতেও কঠিনতা দেখা দেয়। ডা. শফিকুর রহমানের মতে, এই নদীগুলোকে পুনরুজ্জীবিত করলে নর্থবঙ্গের সামগ্রিক জীবনযাত্রা পুনরুদ্ধার হবে, ইনশাআল্লাহ।
নদী পুনরুদ্ধারের পরিকল্পনায় তিনি বিশেষভাবে তিস্তা, ধরলা, করতোয়া ও ব্রহ্মপুত্রের অবস্থা উন্নত করার কথা উল্লেখ করেন। তিনি আশ্বাস দেন, সরকার গঠনের পর প্রথমেই এই চারটি নদীর জন্য বিশেষ প্রকল্প চালু হবে, যাতে পানির প্রবাহ পুনরুদ্ধার এবং সেচের ব্যবস্থা পুনর্স্থাপন করা যায়।
এছাড়া, ডা. শফিকুর রহমান উত্তরাঞ্চলকে কৃষিভিত্তিক সমৃদ্ধ অঞ্চলে রূপান্তরের লক্ষ্যও প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, এই অঞ্চলটির মানুষ কঠোর পরিশ্রমী ও সরল, তবে বর্তমান জলসঙ্কটের কারণে ফসলের উৎপাদন হ্রাস পাচ্ছে, যদিও সার ব্যবহার করা হচ্ছে।
মাটি উর্বরতা কমে যাওয়ার মূল কারণ হিসেবে তিনি নদী ও মিঠা পানির অভাবকে প্রধান দায়ী হিসেবে চিহ্নিত করেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, যদি নদীর জল পুনরুদ্ধার করা যায়, তবে কৃষি উৎপাদন বাড়বে এবং কৃষকদের আয় বৃদ্ধি পাবে।
ডা. শফিকুর রহমান দেশের নিরাপত্তা ও স্বাধীনতার সঙ্গে জলসম্পদ উন্নয়নের সম্পর্কেও আলোকপাত করেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, বাংলাদেশে কোনো আধিপত্যের ছাপ দেখতে চান না এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে চান।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, দেশের ওপর কোনো বাহ্যিক হুকুম চালানোর ইচ্ছা নেই এবং দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়গুলোতে স্বায়ত্তশাসন বজায় রাখার গুরুত্ব তুলে ধরেন। এদিকে, তিনি অতীতের পাঁচ‑চল্লিশ বছরের শাসনকে ফ্যাসিবাদী অভিজ্ঞতা হিসেবে সমালোচনা করেন, যা আর পুনরাবৃত্তি না হওয়ার আহ্বান জানান।
ডা. শফিকুর রহমানের বক্তব্যে উল্লেখযোগ্য যে, তিনি জনগণকে আমূল পরিবর্তনের জন্য আহ্বান জানিয়ে, ভোটের মাধ্যমে তাদের সমর্থন চাইছেন। তিনি বলেন, আগামী ১২ তারিখে অনুষ্ঠিতব্য গণভোট ও সাধারণ নির্বাচনে অংশগ্রহণের মাধ্যমে এই পরিবর্তন সম্ভব হবে।
এই শপথের সঙ্গে সঙ্গে তিনি ভোটারদেরকে অনুরোধ করেন, যেন তারা তার দলকে ক্ষমতায় আনলে নদী পুনরুজ্জীবন ও কৃষি উন্নয়নের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সুযোগ পায়। তিনি আশ্বাস দেন, সরকার গঠনের পর দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে প্রকল্পগুলো শুরু করা হবে।
প্রতিপক্ষের দৃষ্টিকোণ থেকে, কিছু বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেছেন যে নদী পুনরুজ্জীবনের জন্য প্রয়োজনীয় তহবিল ও প্রযুক্তি নিশ্চিত করা হবে কিনা তা এখনও প্রশ্নের মুখে। তবে ডা. শফিকুর রহমানের দল এই উদ্বেগের উত্তর হিসেবে, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও দেশীয় সম্পদ ব্যবহার করে প্রকল্পটি চালু করার পরিকল্পনা প্রকাশ করেছে।
সারসংক্ষেপে, জামায়াত-এ-ইসলামির আমিরের এই প্রতিশ্রুতি উত্তরাঞ্চলের জলসঙ্কট সমাধান, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি এবং দেশের সার্বিক উন্নয়নের দিকে একটি নতুন দৃষ্টিভঙ্গি উপস্থাপন করে। ভোটারদের সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে, এই পরিকল্পনা বাস্তবে রূপ নেবে কিনা।



