ইন্টার‑সিটি মেঘনা এক্সপ্রেসের ইঞ্জিনে কম্প্রেশার ত্রুটির কারণে চাঁদপুর স্টেশনে ছয় ঘণ্টা পর্যন্ত চলাচল বন্ধ থাকে, ফলে তিনশো অধিক যাত্রী দীর্ঘ সময় অপেক্ষায় কষ্ট পায়।
সকাল পাঁচটায় চাঁদপুর থেকে চট্টগ্রামমুখী ট্রেনটি রওনা হওয়ার কথা ছিল, তবে ইঞ্জিনের ত্রুটির ফলে নির্ধারিত সময়ে রেলপথে নামতে পারে না। রেলওয়ের সূত্রে জানানো হয়েছে যে, একই সময়ে ট্রেনটি ছাড়ার পরিকল্পনা থাকা সত্ত্বেও ইঞ্জিনের সমস্যার কারণে যাত্রা বিলম্বিত হয়।
চাঁদপুর স্টেশনের সহকারী স্টেশন মাস্টার শোয়েব সিকদার জানান, ইঞ্জিনের কম্প্রেশার ত্রুটি সনাক্ত হওয়ার পর তাৎক্ষণিক মেরামত সম্ভব না হওয়ায় ট্রেনটি স্টেশনে আটকে থাকে। ত্রুটি সমাধানের জন্য লাকসাম থেকে বিকল্প ইঞ্জিন আনা হয় এবং সংযুক্ত করার কাজ শেষ হওয়ার পর ট্রেনটি বেলা ১১টা ১০ মিনিটে গন্তব্যের দিকে রওনা হয়।
স্টেশনে আটকে থাকা সময়ে যাত্রীদের বিশেষ করে নারী, শিশু ও বয়স্কদের উপর প্রভাব বেশি পড়ে। তাপমাত্রা শীতের মাঝামাঝি হওয়ায়, দীর্ঘ অপেক্ষা তাদের জন্য শারীরিক ও মানসিক কষ্টের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
যাত্রীরা জানান, তারা ভোর পাঁচটায় পরিবারসহ স্টেশনে উপস্থিত হয় এবং নির্ধারিত সময়ে ট্রেন না ছাড়ার ফলে দীর্ঘ সময় বসে থাকতে বাধ্য হয়। কিছু যাত্রী বলেন, ট্রেনের যান্ত্রিক সমস্যার পুনরাবৃত্তি তাদের ভোগান্তি বাড়িয়ে দেয় এবং দ্রুত সমাধান না হলে ভবিষ্যতে আরও অসুবিধা হতে পারে।
একজন যাত্রী মহসিনের মতে, রেলওয়ে কর্তৃপক্ষকে যান্ত্রিক ত্রুটির দ্রুত সমাধানের জন্য কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন, যাতে যাত্রীদের অপ্রয়োজনীয় কষ্ট না হয়। তিনি আরও উল্লেখ করেন, রক্ষণাবেক্ষণ কাজের মানোন্নয়ন এবং জরুরি ইঞ্জিনের প্রাপ্যতা নিশ্চিত করা জরুরি।
স্টেশন মাস্টার শোয়েব সিকদার জানান, বিকল্প ইঞ্জিন সংযুক্তির পর ট্রেনের গতি স্বাভাবিক হয়ে যায় এবং নির্ধারিত গন্তব্যে পৌঁছানোর সময়সূচি পুনরায় চালু হয়। তবে দীর্ঘ সময়ের বিলম্বের ফলে যাত্রীদের পরিকল্পনা ব্যাহত হয় এবং কিছু ক্ষেত্রে সংযোগকারী ট্রেন মিস করার ঝুঁকি থাকে।
এই ঘটনার ফলে চাঁদপুর ও আশেপাশের যাত্রীদের দৈনন্দিন যাতায়াতের উপর প্রভাব পড়ে। অনেকেই জানান, তারা কর্মস্থল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বা চিকিৎসা সেবার জন্য নির্ভরযোগ্য রেল পরিষেবা প্রত্যাশা করে, এবং এ ধরনের অপ্রত্যাশিত বিলম্ব তাদের জীবনের রুটিনে বাধা সৃষ্টি করে।
রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, ভবিষ্যতে ইঞ্জিনের নিয়মিত পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও রক্ষণাবেক্ষণকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে, যাতে একই ধরনের ঘটনা পুনরায় না ঘটে। এছাড়া জরুরি ইঞ্জিনের দ্রুত ব্যবস্থা নিশ্চিত করার জন্য স্টেশনগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো হবে।
যাত্রীদের নিরাপত্তা ও স্বাচ্ছন্দ্য রক্ষা করা রেল পরিষেবার মূল লক্ষ্য, তাই এই ধরনের যান্ত্রিক ত্রুটি দ্রুত সমাধান করা এবং সময়মতো বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি।
চাঁদপুরে মেঘনা এক্সপ্রেসের এই বিলম্ব রেল পরিষেবার নির্ভরযোগ্যতা ও রক্ষণাবেক্ষণ ব্যবস্থার গুরুত্বকে আবারও তুলে ধরেছে। যাত্রীদের জন্য সময়মত ও নিরাপদ যাত্রা নিশ্চিত করতে রেলওয়ের অব্যাহত মনোযোগ এবং প্রোঅ্যাকটিভ পদক্ষেপের প্রয়োজন রয়েছে।



