28 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিলক্ষ্মীপুরে বিএনপি নেতার ভোট আহ্বান, জামায়াত-এ-ইসলামি নেতারা নিন্দা

লক্ষ্মীপুরে বিএনপি নেতার ভোট আহ্বান, জামায়াত-এ-ইসলামি নেতারা নিন্দা

শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারি, লক্ষ্মীপুরের রায়পুর পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডে অনুষ্ঠিত বিএনপি নির্বাচনী র্যালিতে সাবেক নেতা বাহার উদ্দিন ভোটারদের সরাসরি আহ্বান জানিয়ে বিতর্ক উস্কে দেন। তিনি আওয়ামী লীগের কিছু সদস্যকে প্রশংসা করে, তাদের বিরুদ্ধে কোনো মামলা বা হামলার হুমকি না থাকলে ভোট দিতে বলেছিলেন। একই সঙ্গে তিনি রাইসের শীষে ভোট দিতে উৎসাহিত করে, ভোটারদেরকে কোনো ধরণের বাধা থেকে মুক্তি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন।

বাহার উদ্দিন রায়পুরের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্বতন সভাপতি, এবং স্থানীয় স্তরে তিনি দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক কার্যক্রমে যুক্ত ছিলেন। র্যালিতে তার বক্তব্যের কিছু অংশ মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে তিনি “আওয়ামী লীগের অনেক ভালো লোক আছে, যারা চাঁদাবাজ না, সন্ত্রাস না” বলে উল্লেখ করেন এবং “আপনারা ভোটেরল্লাই যাইবেন” বলে ভোটারদেরকে আহ্বান জানান। তিনি আরও বলেন, “এক ভাই হিসাবে চাইলাম, ধানের শীষে ভোট মারো, তোমরা তো আর জমাতে যাইতা ন”।

লক্ষ্মীপুর-২ (রায়পুর) আসনে বিএনপি থেকে প্রার্থী হিসেবে আবুল খায়ের ভূঁইয়া প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, আর একই আসনে জামায়াত-এ-ইসলামির প্রার্থী এস ইউ এম রুহুল আমিন ভূঁইয়া। এই দুই প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বীর পাশাপাশি মোট পাঁচজন স্বাধীন বা অন্যান্য দলের প্রার্থীও নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন।

স্থানীয় জামায়াত-এ-ইসলামি নেতারা বাহার উদ্দিনের এই ধরনের ভোট আহ্বানকে অনাকাঙ্ক্ষিত বলে প্রকাশ করেন। তারা উল্লেখ করেন, কোনো রাজনৈতিক দলের নেতা বা কর্মীর বিরুদ্ধে মামলা-হামলার ভয়ভীতি ব্যবহার করে ভোট চাওয়া গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার নীতির বিরোধী। তাদের মতে, এমন ভাষা নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও ন্যায়পরায়ণতাকে ক্ষুণ্ন করে।

জামায়াত-এ-ইসলামির প্রতিনিধিরা আরও যোগ করেন, “ভোটের জন্য এমন প্রলোভনমূলক বা হুমকিমূলক ভাষা ব্যবহার করা স্বাভাবিক নয়, এটি ভোটারদের স্বাধীন সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করার চেষ্টা”। তারা দাবি করেন, সকল প্রার্থীর উচিত ন্যায়সঙ্গত প্রতিযোগিতা এবং ভোটারদেরকে স্বচ্ছ তথ্য প্রদান করা।

বাহার উদ্দিনের পক্ষ থেকে প্রকাশিত মন্তব্যে বলা হয়েছে, তার বক্তব্যের কিছু অংশ ভুলভাবে তুলে ধরা হয়েছে এবং তা বিভ্রান্তি সৃষ্টি করেছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, তার মূল উদ্দেশ্য ছিল শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান এবং রাজনৈতিক সম্প্রীতি বজায় রাখা। তিনি উল্লেখ করেন, “আমি কোনো ধরনের হুমকি বা প্রলোভন দিয়ে ভোট চাইনি, বরং সকলের সঙ্গে মিলেমিশে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছি”।

বাহার উদ্দিনের এই ব্যাখ্যা সত্ত্বেও, তার র্যালিতে ব্যবহৃত ভাষা স্থানীয় রাজনৈতিক পরিবেশে উত্তেজনা বাড়িয়ে তুলেছে। ভোটারদের মধ্যে এই ধরনের মন্তব্যের প্রতি প্রতিক্রিয়া মিশ্র, কিছু লোক তাকে সরল ও সরাসরি যোগাযোগের জন্য প্রশংসা করে, আবার অন্যরা তার পদ্ধতিকে অনৈতিক বলে সমালোচনা করে।

আসন্ন নির্বাচনের আগে এই রকম বিতর্কমূলক বক্তব্যগুলো প্রার্থীদের মধ্যে কৌশলগত পার্থক্য তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে রায়পুরের মতো গ্রামীণ এলাকায় ভোটারদের মনোভাব গঠন করতে ভাষার প্রভাব বড়। তাই উভয় দলই এখন তাদের প্রচারাভিযানকে আরও সতর্কভাবে পরিচালনা করার চেষ্টা করবে।

নির্বাচন কমিশনের তত্ত্বাবধানে নির্বাচনী প্রক্রিয়া চলবে, তবে নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। র্যালির পর কিছু এলাকায় ছোটখাটো সংঘর্ষের সম্ভাবনা নিয়ে স্থানীয় প্রশাসন সতর্কতা অবলম্বন করেছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, এই ধরনের বিতর্কমূলক বক্তব্য ভবিষ্যতে ভোটারদের মধ্যে পার্টি ভিত্তিক বিভাজনকে তীব্র করতে পারে এবং নির্বাচনী ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারে। তবে তারা আরও যোগ করেন, ভোটারদের মূল উদ্বেগ এখনও উন্নয়ন, অবকাঠামো এবং কর্মসংস্থান, যা শেষ পর্যন্ত ভোটের সিদ্ধান্তকে নির্ধারণ করবে।

সারসংক্ষেপে, রায়পুরের এই নির্বাচনী র্যালিতে বাহার উদ্দিনের বক্তব্য স্থানীয় রাজনৈতিক আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে। জামায়াত-এ-ইসলামি নেতাদের নিন্দা এবং তার নিজের ব্যাখ্যা উভয়ই ভোটারদের মধ্যে আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে, যা আসন্ন নির্বাচনের গতি ও ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারে।

৮০/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ইত্তেফাক
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments