গত বছরের এই সময়ে জাতীয় দলের নির্বাচক হিসেবে হান্নানকে দেখা গিয়েছিল। তবে ২ ফেব্রুয়ারি তিনি নির্বাচক কমিটি থেকে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন এবং কোচিং ক্যারিয়ার গড়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। এই পরিবর্তন তার ক্রিকেট জীবনের নতুন অধ্যায়ের সূচনা করে।
পদত্যাগের পর হান্নানকে অল্প সময়ের মধ্যেই আবাহনী লিমিটেডের প্রধান কোচ হিসেবে নিয়োগ করা হয়। দেশের রাজনৈতিক পরিবর্তনের ফলে আবাহনীর আর্থিক অবস্থা দুর্বল হয়ে পড়ে, ফলে শক্তিশালী দল গঠন কঠিন হয়ে ওঠে। তবুও হান্নানের নেতৃত্বে দলটি ধারাবাহিকভাবে পারফর্ম করে এবং ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের শিরোপা জয় করে, যা তার কোচিং দক্ষতার প্রমাণ।
আবাহনী লিমিটেডের শিরোপা জয়ে হান্নানের কৌশলগত পরিকল্পনা ও দল গঠনকে বড় ভূমিকা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। তার পদ্ধতি ছিল মাঠে সরাসরি কাজ করা, খেলোয়াড়দের শক্তি অনুযায়ী ভূমিকা নির্ধারণ এবং প্রতিপক্ষের বিশ্লেষণ। এই পদ্ধতি পরবর্তীতে তার পরবর্তী দায়িত্বে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
বিপিএলের রাজশাহী ওয়ারিয়র্সের প্রধান কোচের দায়িত্ব হান্নান গ্রহণ করেন। তিনি দলকে টুর্নামেন্টের নিলাম টেবিলে উপস্থাপন, স্কোয়াড গঠন, কৌশল নির্ধারণ, বিদেশি খেলোয়াড়ের সিলেকশন এবং বিকল্প পরিকল্পনা সহ সব দিকেই পেশাদারিত্বের ছাপ রেখে কাজ করেন। তার নেতৃত্বে দলটি শুরুর পর্যায়ে শীর্ষে উঠে এবং শেষ পর্যন্ত শিরোপা জয় করে।
শিরোপা জয়ের পর রাজশাহী অধিনায়ক হান্নানের কাজের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, “হান্নান আউটস্ট্যান্ডিং কাজ করেছেন। ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে এবং বিপিএলে উভয় ক্ষেত্রেই তার ফলাফল স্পষ্ট। ফলাফল ছাড়াও তার কমিটমেন্ট ও পরিকল্পনা প্রশংসনীয়।” এই মন্তব্য হান্নানের কোচিং পদ্ধতির কার্যকারিতা ও তার দলের উপর ইতিবাচক প্রভাবকে তুলে ধরে।
খেলোয়াড়ি জীবনে হান্নান ২০১০ সালের আগে জাতীয় দলের ১৭টি টেস্ট ও ২০টি ওয়ানডে ম্যাচে ব্যাটসম্যান হিসেবে অংশগ্রহণ করেন। তার ক্যারিয়ার শেষ হওয়ার পর ২০১০ সালে তিনি লেভেল ওয়ান কোচিং কোর্স সম্পন্ন করেন এবং পরের বছর লেভেল টু কোর্সে স্নাতক হন। এই প্রশিক্ষণ তাকে আধুনিক কোচিং পদ্ধতির সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেয়।
কোচিং ক্ষেত্রে হান্নানের প্রথম পদ ছিল রাজশাহী ওয়ারিয়র্সের সহকারী কোচ, যেখানে তিনি দুইটি বিপিএল সিজনে কাজ করেন। এরপর একই ফ্র্যাঞ্চাইজির আরেকটি দল, রাজশাহী কিংসের জন্য দুই দফা সহকারী কোচের দায়িত্ব পালন করেন। ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে তিনি আবাহনী লিমিটেড ও শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাবের ব্যাটিং কোচ হিসেবে কাজ করেন, যেখানে ব্যাটিং লাইনআপের গঠন ও শট নির্বাচন উন্নত করা তার মূল কাজ ছিল।
জাতীয় লিগে হান্নান ঢাকা মেট্রোর প্রধান কোচের দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগেও কোচিং দায়িত্ব পালন করেন। এই অভিজ্ঞতা তাকে বিভিন্ন ফরম্যাটে দল পরিচালনা ও কৌশল নির্ধারণে দক্ষ করে তুলেছে।
৪৩ বছর বয়সে হান্নান বিপিএলে শিরোপা জয় করে কোচিং ক্যারিয়ারের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক অর্জন করেন। তার সাফল্য তরুণ কোচদের জন্য উদাহরণস্বরূপ এবং দেশের ক্রীড়া ব্যবস্থায় কোচিং পেশার গুরুত্বকে পুনরায় জোর দেয়।
বিপিএল পরবর্তী সিজনের সূচি শীঘ্রই প্রকাশিত হবে, যেখানে হান্নান আবার কোন দলে কোচিং দায়িত্ব নেবেন তা এখনও নিশ্চিত নয়। তবে তার পূর্বের সাফল্য এবং দল গঠনের পদ্ধতি ভবিষ্যৎ দলে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি আনতে পারে।



