রংপুরের পিরগঞ্জ উপজেলায় অবস্থিত বাবনপুর গ্রামে আজ সকালবেলা জামায়াত-এ-ইসলামি আমীর ডা. শাফিকুর রহমান আবু সাঈদের সমাধিতে প্রার্থনা শেষে দেশের গৌরব রক্ষার প্রতিশ্রুতি জানান। তিনি জুলাই ২০২৪-এ ঘটিত বিদ্রোহের শহীদকে স্মরণ করে, দেশের কোনো এক ইঞ্চি ভূমি ঋণ না দিয়ে রক্ষা করার সংকল্প প্রকাশ করেন।
শাফিকুরের বক্তব্যের মূল বিষয় ছিল দেশের মর্যাদা রক্ষায় কোনো আপস না করা। তিনি উল্লেখ করেন, “আবু সাঈদের মতো বুকে শিরা খুলে দাঁড়িয়ে আমরা দেশের জন্য একইভাবে দাঁড়াবো।” এ কথা বলার সময় তিনি সমাধি পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন, যা উপস্থিতদের মধ্যে দৃঢ়তা জাগিয়ে তুলেছিল।
প্রধানমন্ত্রীর নীতি অনুসারে, শাফিকুর একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেছিলেন, ধর্ম ও সম্প্রদায়ের পার্থক্য নির্বিশেষে সকল নাগরিকের সমান অধিকার নিশ্চিত করে, দক্ষতা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে জাতি গঠনে অবদান রাখতে হবে।
ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং কোনো গোপন স্বার্থ না রাখার কথা তিনি জোর দিয়ে বললেন। শাফিকুরের মতে, জামায়াত-এ-ইসলামি এখনো ন্যায়বিচার অর্জনের জন্য কাজ করছে এবং কোনো ব্যক্তিগত স্বার্থের পিছনে নেই।
রাজনৈতিক আচরণ নিয়ে তিনি উল্লেখ করেন, ৫ আগস্ট ২০২৪ থেকে জামায়াত-এ-ইসলামি দল ঘুষ, জমি দখল, দুর্নীতি, মামলার মাধ্যমে হয়রানি বা ব্যক্তিগত প্রতিশোধ থেকে বিরত রয়েছে। এই সময়কালে দলটি স্বচ্ছতা বজায় রাখতে বিশেষ মনোযোগ দিয়েছে।
শাফিকুর জামায়াত-এ-ইসলামি নেতৃত্বাধীন দশদলীয় জোটের ঐক্যকে জোরালোভাবে তুলে ধরেন। তিনি ভোটারদেরকে জোটের সমর্থন করার আহ্বান জানান, “আমাদের সঙ্গে দাঁড়ালে বাংলাদেশই সুরক্ষিত হবে, জীবনের গৌরব ও মর্যাদা নিশ্চিত হবে।” এই বক্তব্যে তিনি দেশের নিরাপত্তা ও নাগরিকের গৌরবের সঙ্গে জোটের সংযোগ স্থাপন করেন।
প্রথমবার ভোটদানকারী ও তরুণ ভোটারদের উদ্দেশ্যে শাফিকুর বিশেষ বার্তা দেন। তিনি বললেন, “আপনাদের ভোটের প্রকৃত প্রতিফলন নিশ্চিত করতে প্রস্তুত থাকুন, প্রয়োজনে আবারও জুলাইয়ের যোদ্ধাদের মতো লড়াই করতে হতে পারে। জনগণের জয় পুনরুদ্ধার করা আমাদের দায়িত্ব।” এভাবে তিনি তরুণদের রাজনৈতিক অংশগ্রহণে উৎসাহিত করেন।
আবু সাঈদের পরিবারকে সমবেদনা জানিয়ে শাফিকুর তার পিতা মাকবুল হোসেনকে আলিঙ্গন করেন এবং পরিবারের স্বাস্থ্যের অবস্থা সম্পর্কে জানেন। এই মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি উপস্থিতদের মধ্যে সহানুভূতি বাড়িয়ে তুলেছে।
এই অনুষ্ঠানে জামায়াত-এ-ইসলামির সহকারী সচিব জেনারেল মাওলানা আবদুল হালিম, কেন্দ্রীয় কর্মকমিটির সদস্য প্রিন্সিপাল মাওলানা মমতাজ উদ্দিন, রংপুর‑৬ প্রার্থী মাওলানা নুরুল আমিন, রংপুর‑৪ প্রার্থী ও ন্যাশনাল কনগ্রেস পার্টি সদস্য সচিব আকতার হোসেন, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির কেন্দ্রীয় সচিব সিবগতুল্লাহ এবং অন্যান্য কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানের পরে অন্য রাজনৈতিক দলগুলোর কাছ থেকে কোনো তাত্ক্ষণিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি, ফলে শাফিকুরের এই ঘোষণার প্রভাব ও পরবর্তী রাজনৈতিক গতিপথের দিকে নজর বাড়ছে।



