২৪ জানুয়ারি, ২০২৬ শনিবার, জামাতের বর্তমান নেতা, যাকে জামাত আমির বলা হয়, আরাফাত রহমান কোকোর ১১তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে একটি প্রকাশনা জানিয়েছেন। প্রকাশনাটি জামাতের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে পোস্ট করা হয় এবং দেশের বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।
আরাফাত রহমান কোকো ২০১৫ সালে মৃত্যুবরণ করেন এবং জামায়াত-এ-ইসলামির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নেতা হিসেবে স্মরণীয়। তিনি পার্টির সংগঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন এবং দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যে সক্রিয় ছিলেন। তার মৃত্যুর পর থেকে পার্টি তার স্মৃতিকে সম্মান জানাতে নিয়মিত অনুষ্ঠান আয়োজন করে আসছে।
মৃত্যুবার্ষিকীর দিনে জামাত আমির একটি সংক্ষিপ্ত বার্তা শেয়ার করেন, যেখানে তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন, “জীবন যাবে, কিন্তু অন্যায়ের কাছে মাথা নত করব না”। এই বাক্যটি কোকোর আত্মার প্রতি সম্মান ও পার্টির ন্যায়বিচারবোধের পুনর্ব্যক্তি হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে।
বক্তব্যের সঙ্গে তিনি পার্টির সদস্যদেরকে আহ্বান জানান যে, কোকোর আদর্শ অনুসরণ করে অবিচার ও দমনমূলক নীতির বিরুদ্ধে সংগ্রাম চালিয়ে যেতে হবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ভবিষ্যতে কোনো রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জই পার্টিকে তার মূলমন্ত্র থেকে বিচ্যুত করতে পারবে না।
বক্তব্য প্রকাশের পর জামাতের বিভিন্ন শাখা থেকে সদস্যরা কোকোর সমাধিস্থলে সমাবেশের আয়োজন করে। সমাবেশে পার্টির উচ্চপদস্থ নেতারা উপস্থিত ছিলেন এবং কোকোর স্মৃতিচারণা, তীর্থযাত্রা ও পার্টির ঐতিহাসিক সংগ্রামের কথা স্মরণ করা হয়। সমাবেশে অংশগ্রহণকারীরা একত্রে কোকোর ছবি ও স্মৃতিচিহ্ন প্রদর্শন করে।
এই সময়ে দেশের রাজনৈতিক পরিবেশ তীব্র উত্তেজনায় রয়েছে, কারণ আসন্ন জাতীয় নির্বাচন নিকটবর্তী। জামাতের এই প্রকাশনা পার্টির ভেতরে ঐক্যবদ্ধতা বজায় রাখার পাশাপাশি ভোটারদের কাছে তাদের নীতি ও দৃষ্টিভঙ্গি পুনরায় তুলে ধরার একটি কৌশলগত পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ফেসবুক পোস্টটি প্রকাশের পর কয়েক ঘন্টার মধ্যে হাজার হাজার লাইক ও শেয়ার পায়। সামাজিক মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা পোস্টের মূল বক্তব্যকে সমর্থন জানিয়ে মন্তব্য করেন এবং কোকোর স্মৃতিকে সম্মান জানানোর জন্য বিভিন্ন পোস্ট শেয়ার করেন।
প্রতিপক্ষের কোনো রাজনৈতিক দল বা সংগঠন থেকে এই প্রকাশনা সম্পর্কে তাত্ক্ষণিক কোনো মন্তব্য আসে না। তবে বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, জামাতের এই ধরনের স্মরণীয় অনুষ্ঠান পার্টির ভিত্তি শক্তিশালী করতে এবং সমর্থকদের মনোভাব জোরদার করতে সহায়ক হতে পারে।
সামগ্রিকভাবে, জামাত আমিরের এই বক্তব্য কোকোর স্মৃতিকে সম্মান জানিয়ে পার্টির ন্যায়বিচারবোধকে পুনর্ব্যক্ত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ভবিষ্যতে পার্টি কীভাবে এই স্মরণীয় বার্তাকে বাস্তব নীতি ও কর্মে রূপান্তর করবে, তা দেশের রাজনৈতিক গতিপথে প্রভাব ফেলতে পারে।



