ড. আহমেদ বিন উসমান আল‑তুয়াইজিরি, সৌদি আরবের শূরা কাউন্সিলের প্রাক্তন সদস্য, শুক্রবার মিডল ইস্ট মনিটরে প্রকাশিত একটি প্রবন্ধে যুক্তরাষ্ট্র‑ইসরাইলের কূটনৈতিক ঘনিষ্ঠতার পরিপ্রেক্ষিতে সংযুক্ত আরব আমিরাতের ভূমিকা সম্পর্কে সতর্কতা প্রকাশ করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, আমিরাত ইসরাইলের জন্য একটি ‘ট্রোজান ঘোড়া’ হিসেবে কাজ করে, যা মধ্যপ্রাচ্য ও আরব অঞ্চলে ইসরাইলের প্রভাব বিস্তার ও অস্থিতিশীলতা বাড়াতে সহায়তা করে।
প্রবন্ধে আল‑তুয়াইজিরি বলেন, ইসরাইলের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক সম্পর্কের পরিপ্রেক্ষিতে, আমিরাতের কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক নীতি ইসরাইলের কৌশলগত লক্ষ্যকে সমর্থন করার দিকে ঝুঁকেছে। তিনি যুক্তি দেন, এই সহযোগিতা ইসরাইলকে গাজা উপত্যকার সামরিক কার্যক্রমে সরাসরি সহায়তা প্রদান করতে সক্ষম করেছে, যা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছে।
আল‑তুয়াইজিরি আরও উল্লেখ করেন, গাজা ছাড়াও, আমিরাতের নীতি ইয়েমেন, লিবিয়া, সুদান, তিউনিশিয়া, মিশর এবং সোমালিয়ার মতো দেশগুলিতে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টিতে ভূমিকা রাখে। তিনি দাবি করেন, এই দেশগুলিতে আমিরাতের আর্থিক ও লজিস্টিক সহায়তা স্থানীয় সংঘাতকে তীব্রতর করে এবং ইসরাইলের কৌশলগত স্বার্থকে সুরক্ষিত করে।
তিনি বলেন, আমিরাতের ইসরাইলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা কেবল সামরিক সহায়তায় সীমাবদ্ধ নয়; এটি ধর্মীয়, ভূ-রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক ক্ষেত্রেও ইসরাইলের স্বার্থকে সমর্থন করে। আল‑তুয়াইজিরি যুক্তি দেন, আমিরাতের এই নীতি ইসরাইলের প্রতি শত্রুতা, ধর্মীয় ও অর্থনৈতিক হিংসা থেকে উদ্ভূত, যা অঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী আরব ও মুসলিম ঐক্যের বিরোধী।
আল‑তুয়াইজিরি উল্লেখ করেন, আমিরাতের লক্ষ্য নিজেকে মধ্যপ্রাচ্যের একটি প্রভাবশালী দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা, যা ইসরাইলের সঙ্গে কৌশলগত অংশীদারিত্বের মাধ্যমে অর্জন করা সম্ভব। তিনি বলেন, এই কৌশল ইসরাইলের ‘ইহুদিবাদী’ নীতির প্রতি সমর্থনকে নির্দেশ করে এবং আরব দেশগুলোর মধ্যে ঐক্যকে ক্ষুণ্ণ করে।
প্রবন্ধে তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন, আমিরাতের ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক আরব ও মুসলিম ঐক্যের বিরুদ্ধে একটি সুপরিকল্পিত বিশ্বাসঘাতকতা। তিনি বলেন, “আমিরাত নিজেকে ইহুদিবাদের হাতে সমর্পণ করেছে” এবং এই পদক্ষেপকে অঞ্চলের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি হিসেবে চিহ্নিত করেন।
আল‑তুয়াইজিরি দাবি করেন, আমিরাতের এই নীতি ইসরাইলকে গাজা উপত্যকার সামরিক বর্বরতা চালিয়ে যেতে সহায়তা করেছে। তিনি উল্লেখ করেন, গাজায় ইসরাইলের সামরিক অভিযান চলাকালীন আমিরাতের সরবরাহ শৃঙ্খল ও আর্থিক সহায়তা সরাসরি সংঘাতে প্রভাব ফেলেছে।
ইসরাইলের সঙ্গে আমিরাতের সহযোগিতা শুধুমাত্র গাজা সীমাবদ্ধ নয়; আল‑তুয়াইজিরি বলেন, আমিরাতের আর্থিক সহায়তা ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধ, লিবিয়ার রাজনৈতিক অস্থিরতা, সুদান ও তিউনিশিয়ার অভ্যন্তরীণ সংঘাতকে তীব্রতর করেছে। তিনি যুক্তি দেন, এই সহায়তা স্থানীয় গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে অস্ত্র সরবরাহ ও লজিস্টিক সমর্থন প্রদান করে।
সৌদি শূরা কাউন্সিলের প্রাক্তন সদস্য হিসেবে, আল‑তুয়াইজিরি ইসরাইল‑আমিরাত সম্পর্ককে আরব বিশ্বের জন্য একটি নিরাপত্তা হুমকি হিসেবে উপস্থাপন করেন। তিনি উল্লেখ করেন, এই সম্পর্কের ফলে আরব দেশগুলোর মধ্যে পারস্পরিক অবিশ্বাস বাড়বে এবং ঐতিহ্যবাহী মিত্রতা ক্ষয়প্রাপ্ত হবে।
আল‑তুয়াইজিরি ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক প্রভাবের দিকে ইঙ্গিত করেন, যদি আমিরাতের নীতি অব্যাহত থাকে, তবে আরব ও মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে কূটনৈতিক বিচ্ছিন্নতা বৃদ্ধি পাবে। তিনি সতর্ক করেন, এই বিচ্ছিন্নতা ইসরাইলের কৌশলগত স্বার্থকে আরও শক্তিশালী করবে এবং অঞ্চলে দীর্ঘমেয়াদী অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করবে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, আমিরাতের এই কৌশল আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টিতে তার সুনাম ক্ষয় করবে, বিশেষ করে মানবাধিকার সংস্থা ও মধ্যপ্রাচ্য বিশ্লেষকদের কাছ থেকে কঠোর সমালোচনা পাবার সম্ভাবনা রয়েছে। আল‑তুয়াইজিরি দাবি করেন, এই সমালোচনা আমিরাতের আন্তর্জাতিক অবস্থানকে দুর্বল করবে এবং তার ভবিষ্যৎ কূটনৈতিক সম্পর্ককে প্রভাবিত করবে।
শেষে, আল‑তুয়াইজিরি জোর দিয়ে বলেন, আরব দেশগুলোর উচিত ইসরাইলের সঙ্গে এমন কোনো সহযোগিতা না করা, যা অঞ্চলের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতাকে হুমকির মুখে ফেলে। তিনি আহ্বান জানান, আরব ও মুসলিম দেশগুলোকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে ইসরাইলের ‘ট্রোজান ঘোড়া’ হিসেবে কাজ করা কোনো দেশের বিরুদ্ধে সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিত।



