20 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeবিনোদনডেভিড শ্যাড্র্যাক স্মিথের ‘পাবলিক অ্যাক্সেস’ ডকুমেন্টারি সানড্যান্সে প্রদর্শিত

ডেভিড শ্যাড্র্যাক স্মিথের ‘পাবলিক অ্যাক্সেস’ ডকুমেন্টারি সানড্যান্সে প্রদর্শিত

ডেভিড শ্যাড্র্যাক স্মিথ পরিচালিত ‘পাবলিক অ্যাক্সেস’ নামের ডকুমেন্টারি, নিউ ইয়র্কের ম্যানহাটন ক্যাবল টেলিভিশনের পাবলিক অ্যাক্সেস প্রোগ্রামকে কেন্দ্র করে, সাম্প্রতিক সানড্যান্স ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে ইউ.এস. ডকুমেন্টারি প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করেছে। ছবিটি ১ ঘণ্টা ৪৬ মিনিট (প্রায় ১০৭ মিনিট) দীর্ঘ এবং ২০২৬ সালের জানুয়ারি মাসে প্রথমবারের মতো জনসাধারণের সামনে উপস্থাপিত হয়।

সানড্যান্সের অফিসিয়াল প্রোগ্রাম বর্ণনায় ছবিটিকে “অব্যবস্থা” শব্দ দিয়ে চিহ্নিত করা হয়েছে, যা চলচ্চিত্রে উপস্থিত কর্মীদের কথায়ও পুনরাবৃত্তি হয়েছে। এই শব্দটি চলচ্চিত্রের সামগ্রিক গঠন ও বর্ণনায় প্রায়ই শোনা যায়, যা দর্শকদেরকে ঐ সময়ের অগোছালো পরিবেশের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেয়।

ডিরেক্টর ডেভিড শ্যাড্র্যাক স্মিথের লক্ষ্য ছিল ৫০ বছরের পাবলিক অ্যাক্সেস প্রোগ্রামের ইতিহাসকে সীমিত কাঠামো ও নির্দেশনা ছাড়া উপস্থাপন করা, যাতে দর্শকরা সেই সময়ের স্বতঃস্ফূর্ততা ও বিশৃঙ্খলা অনুভব করতে পারেন। ছবিটি মূলত আর্কাইভাল উপকরণ ব্যবহার করে তৈরি, যেখানে ম্যানহাটন ক্যাবল টেলিভিশনের কর্মীদের কণ্ঠে বর্ণনা যুক্ত করা হয়েছে, কোনো সরাসরি সাক্ষাৎকার বা ক্যামেরার সামনে কথা বলা দৃশ্য নেই।

ম্যানহাটন ক্যাবল টেলিভিশন ১৯৭১ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়, যখন টেলিভিশন শিল্প প্রধানত তিনটি বড় ব্রডকাস্ট নেটওয়ার্কের আধিপত্যে ছিল। শহরের উদ্যোগে এই চ্যানেলটি তৈরি করা হয়েছিল, যাতে সাধারণ মানুষকে টেলিভিশন উৎপাদনের সুযোগ প্রদান করা যায় এবং মিডিয়ার গণতান্ত্রিকীকরণে সহায়তা করা যায়। এই লক্ষ্যকে সামনে রেখে, পাবলিক অ্যাক্সেস প্রোগ্রামটি স্থানীয় সম্প্রদায়ের বিভিন্ন কণ্ঠকে টেলিভিশনে তুলে ধরতে সক্ষম হয়।

চলচ্চিত্রে দেখানো হয়েছে কীভাবে এই প্রোগ্রামটি সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বিকশিত হয়েছে, তবে একই সঙ্গে তার কাঠামোগত দুর্বলতা ও পরিচালনাগত চ্যালেঞ্জও স্পষ্ট হয়। আর্কাইভাল ফুটেজের মধ্যে কিছু অংশ চমকপ্রদ ও তথ্যবহুল, অন্যদিকে কিছু অংশে অপ্রয়োজনীয় কাট ও অপ্রাসঙ্গিক দৃশ্যের সংমিশ্রণ দেখা যায়, যা সমালোচকদের মতে ছবিটিকে কখনো কখনো বিশৃঙ্খল করে তুলেছে।

বিবিধ বিশ্লেষণে উল্লেখ করা হয়েছে যে, যদিও ছবির বর্ণনায় কখনো কখনো অযৌক্তিক দৃশ্যাবলী ও অপ্রয়োজনীয় শৈল্পিক উপাদান দেখা যায়, তবুও এতে গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক রেকর্ড ও মূল্যবান অন্তর্দৃষ্টি রয়েছে। এই উপাদানগুলো ম্যানহাটন ক্যাবল টেলিভিশনের কর্মীদের অভিজ্ঞতা ও তাদের প্রচেষ্টাকে আলোকিত করে, যা টেলিভিশন শিল্পের বিকাশে অবদান রেখেছে।

চলচ্চিত্রের নির্মাণে ব্যবহৃত কণ্ঠস্বরের বর্ণনা মূলত ম্যানহাটন ক্যাবল টেলিভিশনের কর্মীদেরই, যারা নিজেদের কাজের পটভূমি ও উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করে। এই পদ্ধতি দর্শকদেরকে সরাসরি তথ্য সরবরাহের পাশাপাশি ঐ সময়ের পরিবেশের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করতে সহায়তা করে। তবে, কিছু সমালোচক উল্লেখ করেন যে, কথ্য বর্ণনা ও দৃশ্যের সমন্বয় কখনো কখনো অপ্রয়োজনীয়ভাবে জটিল হয়ে ওঠে, ফলে মূল বার্তা হারিয়ে যেতে পারে।

চলচ্চিত্রের প্রযোজনা ও তত্ত্বাবধানে সময়নিষ্ঠ এক্সিকিউটিভ চার্লট শিফ-জোনসের ভূমিকা উল্লেখযোগ্য। তিনি টাইম ইনক.-এর একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ছিলেন এবং ম্যানহাটন ক্যাবল টেলিভিশনের প্রাথমিক পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণে অংশগ্রহণ করেন। তার তত্ত্বাবধানে পাবলিক অ্যাক্সেস প্রোগ্রামটি সম্প্রসারিত হয় এবং বিভিন্ন সামাজিক গোষ্ঠীর জন্য টেলিভিশন উৎপাদনের সুযোগ তৈরি হয়।

সামগ্রিকভাবে, ‘পাবলিক অ্যাক্সেস’ ডকুমেন্টারিটি একটি ঐতিহাসিক দৃষ্টিকোণ থেকে ম্যানহাটন ক্যাবল টেলিভিশনের উত্থান ও পতনকে চিত্রিত করে, যেখানে তার স্বতঃস্ফূর্ততা ও অগোছালো প্রকৃতি উভয়ই তুলে ধরা হয়েছে। ছবিটি সানড্যান্সের প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশে উপস্থিত হয়ে, টেলিভিশন শিল্পের গণতান্ত্রিকীকরণে অবদান রাখা এই উদ্যোগের গুরুত্বকে পুনরায় আলোচনার সুযোগ তৈরি করেছে।

এই চলচ্চিত্রটি দর্শকদেরকে পাবলিক অ্যাক্সেসের ইতিহাসের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেয় এবং একই সঙ্গে মিডিয়া উৎপাদনের স্বাধীনতা ও দায়িত্বের প্রশ্ন উত্থাপন করে। ভবিষ্যতে টেলিভিশন ও ডিজিটাল মিডিয়ার বিকাশে এই ধরনের স্বতঃস্ফূর্ত, কম কাঠামোগত প্রকল্পের ভূমিকা কী হবে, তা নিয়ে আলোচনা অব্যাহত থাকবে।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: Hollywood Reporter – Movies
বিনোদন প্রতিবেদক
বিনোদন প্রতিবেদক
AI-powered বিনোদন content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments