মুম্বাই পুলিশের মতে, অভিনেতা ও স্ব-নামধারী চলচ্চিত্র সমালোচক কামাল আর খান, যাকে সাধারণত KRK নামে চেনা যায়, অ্যান্ডেরি অঞ্চলে ঘটিত গুলিবর্ষণ মামলায় গ্রেফতার করা হয়েছে। গুলিবর্ষণটি জানুয়ারি ১৮ তারিখে লেখক-নির্দেশক নীরজ কুমার মিশ্রার বাসভবনে ঘটেছে, যেখানে কোনো আহত ব্যক্তি রিপোর্ট করা হয়নি।
গ্রেফতারটি শুক্রবার রাতের দিকে, খানের স্টুডিও থেকে করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে, মুম্বাই পুলিশ তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে আটক করে এবং তার লাইসেন্সধারী বন্দুক থেকে চারটি গুলি চালানোর স্বীকারোক্তি নেয়। ব্যবহার করা অস্ত্রটি পরবর্তীতে পুলিশ কর্তৃক বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।
গুলিবর্ষণের সঠিক উদ্দেশ্য এখনো পরিষ্কার হয়নি। খানের বিবরণে তিনি বলেন, গুলি চালানো কোনো ইচ্ছাকৃত কাজ ছিল না এবং এটি দুর্ঘটনা হিসেবে ঘটেছে। তিনি দাবি করেন, বন্দুক পরিষ্কার করার সময় পরীক্ষা করার জন্য গুলি চালানো হয়েছিল। গুলি চালানোর সময় তিনি বন্দুকটি তার বাড়ির সামনে অবস্থিত ম্যানগ্রোভ এলাকায় লক্ষ্য করেন, যা তিনি নিরাপদ ও অশূন্য বলে ধারণা করেন। তবে হাওয়ার তীব্রতা গুলির দিক পরিবর্তন করে, ফলে কমপক্ষে একটি গুলি নির্ধারিত এলাকার বাইরে গিয়ে অ্যান্ডেরি-ওশিওয়ারা এলাকায় অবস্থিত একটি বাসভবনে পৌঁছায়।
গুলিবর্ষণকৃত বাসভবনের দ্বিতীয় তলায় লেখক-নির্দেশক নীরজ কুমার মিশ্রা বাস করেন, আর চতুর্থ তলায় মডেল প্রতীক বায়েডের বাসস্থান। গুলির প্রভাব সত্ত্বেও কোনো শারীরিক ক্ষতি বা আঘাতের রিপোর্ট পাওয়া যায়নি।
প্রাথমিক পর্যায়ে গুলিবর্ষণের দায়ী ব্যক্তি সম্পর্কে মুম্বাই পুলিশের কাছে কোনো স্পষ্ট সূত্র ছিল না। তবে পরবর্তী প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণ ও তদন্তের মাধ্যমে খানের জড়িত থাকার সম্ভাবনা উঠে আসে, যা তাকে গ্রেফতার করার মূল কারণ হয়ে দাঁড়ায়। বর্তমানে খান মুম্বাই পুলিশের হেফাজতে রয়েছেন, এবং তদন্তকর্তারা তার বিবৃতি ও ঘটনার বিশদ পরীক্ষা চালিয়ে যাচ্ছেন।
মুম্বাই পুলিশ জানিয়েছে, গুলিবর্ষণের পেছনের কারণ ও সম্ভাব্য আইনি দায়িত্ব নির্ধারণের জন্য আরও ফরেনসিক বিশ্লেষণ এবং সাক্ষ্য সংগ্রহ করা হবে। গুলিবর্ষণ ঘটেছে এমন বাসভবনের অন্যান্য বাসিন্দা ও প্রতিবেশীদের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহের কাজও চলমান।
এই ঘটনার ফলে অ্যান্ডেরি ও ওশিওয়ারা এলাকার নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগ বাড়েছে। মুম্বাই পুলিশের স্থানীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা শক্তিশালী করার পাশাপাশি, নাগরিকদের অস্ত্র ব্যবহার সংক্রান্ত সচেতনতা বাড়ানোর জন্য বিশেষ নির্দেশনা জারি করার সম্ভাবনা রয়েছে।
অধিক তথ্য না থাকলেও, খানের গ্রেফতার ও গুলিবর্ষণের তদন্তের অগ্রগতি ভবিষ্যতে মামলার চূড়ান্ত রায়ে প্রভাব ফেলবে বলে অনুমান করা হচ্ছে। মুম্বাই পুলিশ সংশ্লিষ্ট সকল প্রমাণ সংগ্রহ ও আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পর, সংশ্লিষ্ট আদালতে মামলাটি উপস্থাপন করবে।



