28 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeঅপরাধবাড্ডা আবাসিক ভবনের নিচে ব্যাংক কর্মকর্তা সুবীরের মৃতদেহ উদ্ধার, পোস্টমর্টেম চলমান

বাড্ডা আবাসিক ভবনের নিচে ব্যাংক কর্মকর্তা সুবীরের মৃতদেহ উদ্ধার, পোস্টমর্টেম চলমান

ঢাকার উত্তর বাড্ডা এলাকায় ২৩ জানুয়ারি সন্ধ্যায় এক আবাসিক ভবনের নিচে ৩০ বছর বয়সী ব্যাংক কর্মকর্তা সুবীর বিশ্বাসের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। সুবীরের পরিবার জানায়, তিনি মাদারীপুর জেলার রাজৈর উপজেলার বাউনগতি গ্রাম থেকে আসা এবং তার বাবার নাম শচীন বিশ্বাস।

পুলিশের দল স্থানীয় আলীর মোড়ে অবস্থিত এক সোসাইটির বোনের বাসা থেকে মৃতদেহ তুলে নিয়ে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে যায়। হাসপাতালে পৌঁছানোর পর চিকিৎসকবৃন্দ শারীরিক পরীক্ষা শেষে রাত সাড়ে আটটায় তার মৃত্যুর ঘোষণা দেন।

মৃতদেহ উদ্ধার হওয়ার পর বাড্ডা থানা দ্রুতই অপমৃত্যু মামলা দায়ের করে। মামলার তদন্তে উপপরিদর্শক (এসআই) আরাফাত হোসেনের তত্ত্বাবধানে তদন্ত চলছে। তিনি জানান, সন্ধ্যা পাঁচটার দিকে ৯৯৯ জরুরি নম্বরে কল পাওয়ার পর দলটি ঘটনাস্থলে পৌঁছে মৃতদেহ উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়।

সুবীরের কর্মস্থল জনতা ব্যাংকের সোনামিয়া মার্কেট শাখা, যা সিদ্ধিরগঞ্জ উপজেলার অধীনে অবস্থিত। শাখা ও বাসা দুটোই একই এলাকায় থাকায় তিনি দৈনন্দিন কাজকর্মে সেখানে উপস্থিত থাকতেন। সম্প্রতি তিনি বাড্ডার একতা সোসাইটিতে তার বোন নিপা বারৈয়ের বাড়িতে গিয়ে ছিলেন।

পরিবারের তথ্য অনুযায়ী, সুবীরের শারীরিক স্বাস্থ্যের সঙ্গে মানসিক অবস্থা দুর্বল ছিল। ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্টে দেখা গেছে, তিনি জ্বর ও টাইফয়েডে আক্রান্ত ছিলেন এবং দীর্ঘ সময় একাকীত্বে ভুগছিলেন। আত্মীয়দের মতে, তিনি প্রায়ই নিজের মৃত্যুর কথা বলতেন এবং ডিপ্রেশনের লক্ষণ দেখাতেন।

সুবীরের পরিবার জানায়, সাম্প্রতিক নির্বাচনের পর তার বাগদত্তা একটি বেসরকারি কিন্ডারগার্টেনের শিক্ষিকার সঙ্গে বিয়ের পরিকল্পনা ছিল। বিয়ের ব্যবস্থা সম্পন্ন হওয়ার পরই তার অচেনা মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়।

অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তার মতে, ঘটনাস্থলে উপস্থিত সিসিটিভি ক্যামেরা রেকর্ডে দেখা যায়, সুবীর একা ছাদে উঠে আট তলা থেকে নিচে ঝাঁপ দিয়েছেন। আশেপাশের লোকজনের বর্ণনা অনুযায়ী, তিনি ছাদে দাঁড়িয়ে ছিলেন এবং হঠাৎ করে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন।

শরীরের আঘাতের বিবরণে বলা হয়েছে, আট তলা থেকে পড়ে যাওয়ার ফলে তার হাত ভেঙে গিয়েছে, হাড় বের হয়ে এসেছে এবং মুখ-মাথা থেঁতলানো অবস্থায় পাওয়া গেছে। মাথার স্কাল্পেও গুরুতর ক্ষতি হয়েছে। এসব আঘাতের ভিত্তিতে পোস্টমর্টেম করা হবে এবং ফলাফল পরিবারের কাছে জানানো হবে।

অপমৃত্যু মামলার অধীনে প্রমাণ-সাক্ষ্য সংগ্রহ অব্যাহত রয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজ, সাক্ষীর বিবৃতি এবং মৃতদেহের শারীরিক পরীক্ষা সবই তদন্তের অংশ হিসেবে বিবেচিত হবে। পোস্টমর্টেমের ফলাফল পাওয়া মাত্রই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ মামলার চূড়ান্ত রায় জানাবে।

এই ঘটনার পর বাড্ডা থানার কর্মকর্তারা স্থানীয় বাসিন্দাদেরকে সতর্ক করেছেন যে, মানসিক সমস্যায় ভুগছেন এমন ব্যক্তিদের সঙ্গে সহানুভূতিশীলভাবে আচরণ করা এবং প্রয়োজনে মানসিক স্বাস্থ্য সেবা গ্রহণে উৎসাহিত করা জরুরি। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা রোধে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং মানসিক স্বাস্থ্য সেবা সহজলভ্য করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: Banglastream
অপরাধ প্রতিবেদক
অপরাধ প্রতিবেদক
AI-powered অপরাধ content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments