ইতালির ক্যাথলিক মিশনারি লুসিও বেনিনাটি, ১২ জানুয়ারি কারওয়ান বাজারে নতুন অফিস খুলে বাংলাদেশের পথশিশুদের জন্য কাজ শুরু করেছেন। তিনি ইতিমধ্যে তিন বছর ধরে দেশে বসবাস করছেন এবং তার লক্ষ্য হল শিশুরা আর রাস্তায় না থাকে।
ব্রাদার লুসিও মিলান ভিত্তিক পন্টিফিক্যাল ইনস্টিটিউট ফর ফরেন মিশনসের সদস্য এবং ক্যাথলিক মিশনারি হিসেবে কাজ করেন। তার মিশন হল দরিদ্র ও ঝুঁকিপূর্ণ শিশুদের মৌলিক সেবা প্রদান করা, যাতে তারা নিরাপদ ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে পারে।
বাংলাদেশে তার প্রথম অফিসটি কারওয়ান বাজারের আলোর কার্যালয়ে স্থাপন করা হয়। সেখানে তিনি স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক ও দাতাদের সঙ্গে সমন্বয় করে বিভিন্ন কার্যক্রম চালু করেন। তার কাজের মূল কেন্দ্রবিন্দু হল রেলস্টেশন, বাস টার্মিনাল, পার্ক এবং অন্যান্য জনসমাগমস্থলে থাকা শিশুরা।
লুসিও ২০ বছরের বেশি সময় ধরে পথশিশুদের সঙ্গে কাজ করছেন এবং তার অভিজ্ঞতা ব্রাজিলের কিছু শহরেও রয়েছে। বাংলাদেশে তিনি ‘পথশিশু সেবা সংগঠন’ নামে একটি সংস্থা গড়ে তুলেছেন, যার মাধ্যমে খাবার, স্বাস্থ্যসেবা এবং শিক্ষামূলক কার্যক্রম প্রদান করা হয়।
তার মতে, শিশুরা রাস্তায় থাকা মানে তাদের মৌলিক মানবিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হওয়া। তিনি বারবার জোর দিয়ে বলেন যে সমাজের দায়িত্ব হল এই শিশুদেরকে নিরাপদ পরিবেশে ফিরিয়ে আনা।
লুসিওের স্বপ্ন হল এমন একটি সমাজ গড়ে তোলা যেখানে পথশিশুদের জন্য আলাদা কোনো সেবা প্রয়োজন না থাকে। তিনি আশা করেন যে ভবিষ্যতে কোনো শিশুকে রাস্তায় কাজ করতে বা বেঁচে থাকতে না হয়। এই লক্ষ্য অর্জনের জন্য তিনি স্থানীয় সরকার, এনজিও এবং সাধারণ জনগণের সহযোগিতা চান।
সম্প্রতি তিনি গাজা ও ইউক্রেনের যুদ্ধবিধ্বস্ত অঞ্চলের পরিস্থিতি উল্লেখ করে বলেন, এই দেশগুলোর শিশুরা যুদ্ধের ভয়, ধ্বংস এবং অনিশ্চয়তার মধ্যে বড় হচ্ছে। তিনি উল্লেখ করেন, “শিশুরা যেন শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ পরিবেশে বড় হতে পারে, তা আমাদের সবার দায়িত্ব।”
বাংলাদেশে তার বর্তমান বাসস্থান পন্টিফিক্যাল ইনস্টিটিউট ফর ফরেন মিশনসের পরিচালিত একটি আবাসিক ইউনিট, যেখানে তিনি নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যবিধি বজায় রেখে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।
দৈনন্দিন কাজের মধ্যে তিনি রাস্তায় থাকা শিশুরা যাতে হাসি হারায় না, তা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন সৃজনশীল কার্যক্রম আয়োজন করেন। গান, নাচ, চিত্রাঙ্কন এবং ছোটখাটো খেলাধুলা তাদের মনোবল বাড়ায় এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা গড়ে তুলতে সাহায্য করে।
লুসিওের মতে, শিশুরা যখন নিরাপদ পরিবেশে থাকে, তখন তাদের শিক্ষার সুযোগও বাড়ে। তিনি স্থানীয় স্কুলের সঙ্গে সমন্বয় করে শিক্ষার প্রবেশদ্বার খুলতে কাজ করছেন, যাতে রাস্তায় থাকা শিশুরা নিয়মিত পাঠশালায় অংশ নিতে পারে।
তার কাজের ফলে ইতিমধ্যে শতাধিক শিশুর জীবন পরিবর্তিত হয়েছে; তারা এখন খাবার, স্বাস্থ্যসেবা এবং শিক্ষার সুবিধা পাচ্ছে। যদিও চ্যালেঞ্জ এখনও রয়ে গেছে, লুসিও বিশ্বাস করেন যে ধারাবাহিক প্রচেষ্টা ও সমন্বয়ের মাধ্যমে আরও বড় পরিবর্তন আনা সম্ভব।
পাঠকরা যদি এই উদ্যোগে অংশ নিতে চান, তবে স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করে দান, সময় বা দক্ষতা ভাগ করে নিতে পারেন। এছাড়া, রাস্তায় থাকা শিশুরা সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব।
আপনার আশেপাশে যদি কোনো পথশিশু থাকে, তবে তার সঙ্গে কথা বলে, খাবার বা মৌলিক সামগ্রী দিয়ে সাহায্য করা একটি ছোট কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হতে পারে। এই ধরনের ছোট উদ্যোগগুলো একত্রে বড় পরিবর্তনের সূচনা করতে পারে।



