শনি সকাল রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার বাবনপুর জাফরপাড়ায় বাংলাদেশ জামায়াত-এ-ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান চব্বিশ শহীদ আবু সাঈদের সমাধি পরিদর্শন করে কবর জিয়ারত করেন। কবর জিয়ারত শেষে তিনি যুবকদের ভোটের গুরুত্ব ও নির্বাচনী অংশগ্রহণের আহ্বান জানান, যাতে ভবিষ্যৎ নির্বাচনে তরুণ ভোটারদের ইচ্ছা প্রতিফলিত হয়।
শফিকুর রহমান কবর জিয়ারতের সময় উল্লেখ করেন, শহীদদের ত্যাগ ও সাহসের প্রতি সম্মান জানাতে এবং দেশের ন্যায়, ইনসাফ ও জবাবদিহি ভিত্তিক উন্নয়ন গড়তে সকলকে একত্রে কাজ করতে হবে। তিনি যুবকদের উদ্দেশ্যে বলেন, আল্লাহর অনুগ্রহে তাদের প্রত্যাশার বাংলাদেশ গড়তে পারবে এবং সমাজের নেতৃত্বের চাবি তাদের হাতে তুলে দিয়ে পেছন থেকে সমর্থন ও সাহস প্রদান করা হবে।
আবু সাঈদের পরিবার সদস্যদের সঙ্গে কথা বলার সময় শফিকুর রহমান শহীদদের ত্যাগকে সম্মান জানিয়ে শোকসন্তপ্ত পরিবারকে সমবেদনা প্রকাশ করেন। তিনি আরও জোর দিয়ে বলেন, শহীদদের স্বপ্ন বাস্তবায়নে সংগঠন অবিচল থাকবে এবং জনগণের আকাঙ্ক্ষা পূরণে ন্যায়পরায়ণ বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে একসাথে এগিয়ে নিতে চাই।
নির্বাচনী অংশগ্রহণের আহ্বানকে শক্তিশালী করতে শফিকুর রহমান যুবকদের প্রস্তুত হওয়ার নির্দেশ দেন। তিনি বলেন, ভোটের সময় কেউ যেন তাদের ভোট নিয়ে হেরফের না করতে পারে, এজন্য তরুণদের যোদ্ধার মতো লড়াই করতে হবে এবং জনতার বিজয় নিশ্চিত করতে হবে। তিনি বিশ্বাস প্রকাশ করেন, জামায়াত-এ-ইসলামীর যুবকরা এই দায়িত্ব সফলভাবে পালন করবে।
কবর জিয়ারত অনুষ্ঠানে জামায়াত-এ-ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আবদুল হালিম, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা মমতাজ উদ্দিন, রংপুর-৬ আসনের প্রার্থী মাওলানা নুরুল আমিন, রংপুর-৪ আসনের প্রার্থী ও এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি সিবগাতুল্লাহসহ অন্যান্য শিবির নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
কবর জিয়ারত শেষে শফিকুর রহমান গাইবান্ধার পলাশবাড়ির দিকে রওনা দেন, যেখানে তিনি একটি নির্বাচনী সমাবেশে অংশগ্রহণের পরিকল্পনা করেছেন। সমাবেশে তিনি উপস্থিত ভক্ত ও সমর্থকদের সঙ্গে আলোচনা করে নির্বাচনের প্রস্তুতি ও সংগঠনের কৌশল নিয়ে কথা বলবেন।
শফিকুর রহমানের এই সফর ও বক্তব্য জামায়াত-এ-ইসলামীর তরুণ ভোটারদের সংগঠিত করার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তিনি উল্লেখ করেন, যুবকদের সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে নির্বাচনে কাঙ্ক্ষিত ফল অর্জন করা সম্ভব হবে এবং দলটি এই লক্ষ্যে সকল প্রচেষ্টা চালিয়ে যাবে।
এই অনুষ্ঠান ও ঘোষণার মাধ্যমে জামায়াত-এ-ইসলামীর নেতৃত্বের তরুণ ভোটারদের প্রতি আস্থা ও সমর্থন স্পষ্ট হয়েছে, যা আসন্ন নির্বাচনের পূর্বাভাসে রাজনৈতিক গতিবিধিতে প্রভাব ফেলতে পারে।



