27 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিবরগুনা-২-এ জামায়াত-এ-ইসলামি র‍্যালিতে ধর্মভিত্তিক সংসদ প্রতিনিধি দাবি

বরগুনা-২-এ জামায়াত-এ-ইসলামি র‍্যালিতে ধর্মভিত্তিক সংসদ প্রতিনিধি দাবি

২২ জানুয়ারি বৃহস্পতিবার, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারাভিযানের প্রথম রাতে, বরগুনা জেলায় বামনা উপজেলার ডৌয়াতলা স্কুল মাঠে জামায়াত-এ-ইসলামি আয়োজিত একটি নির্বাচনী সভায় আফজাল হোসেন নামের এক ব্যক্তি ধর্মভিত্তিক সংসদ প্রতিনিধি নিয়ে উগ্র বক্তব্য রাখেন। তিনি উল্লেখ করেন যে দেশের ৮০ শতাংশ জনসংখ্যা মুসলিম, তাই কোনো অ-ইসলামিক বা অনুপযুক্ত সংসদ সদস্যের উপস্থিতি স্বীকারযোগ্য নয়।

সেই সভা জামায়াত-এ-ইসলামি মনোনীত বরগুনা-২ আসনের প্রার্থীর সমর্থনে অনুষ্ঠিত হয় এবং আফজাল হোসেনকে সংগঠকরা অংশগ্রহণকারী হিসেবে স্বীকৃতি দেন। সভার সময় তিনি ধর্মীয় নীতি ও রাজনৈতিক কাঠামোর সংযোগ তুলে ধরে বলেন, যদি জনগণ কোরআন চান, তবে জামায়াত-এ-ইসলামি সংসদীয় শাসনতন্ত্রকে কোরআনের নীতিতে ভিত্তিক করে গড়ে তুলবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, যেখানে অধিকাংশ মানুষ মুসলিম, সেখানে অ-ইসলামিক বা অনুপযুক্ত প্রতিনিধি থাকা সম্ভব নয়।

আফজাল হোসেনের বক্তব্যে তিনি শাসনের ধরন নিয়ে আলোকপাত করেন, কোরআনের শাসনকে সর্বোচ্চ মানদণ্ড হিসেবে গ্রহণের পক্ষে মত প্রকাশ করেন। তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, চুরি করলে হাত কেটে দেওয়া উচিত, এধরনের কঠোর শাস্তি তিনি আদর্শ শাসন হিসেবে উল্লেখ করেন। এই ধরনের মন্তব্যের ফলে উপস্থিত অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে তীব্র আলোচনা দেখা যায়।

বক্তব্যের পর, জামায়াত-এ-ইসলামি বরগুনা-২ আসনের প্রার্থী ডা. সুলতান আহমদ উপস্থিত ছিলেন এবং আফজাল হোসেনের মন্তব্যের প্রতি স্পষ্টভাবে মন্তব্য করেন। ডা. আহমদ জানান, আফজাল হোসেন দলীয় পুরোনো সদস্য নয়, তিনি নতুন মানুষ এবং স্থানীয় পরিচিতি মাত্র। তিনি জোর দিয়ে বলেন, দলের কোনো উচ্চপদস্থ নেতা বা তার নিজের পক্ষ থেকে এমন কোনো বক্তব্য প্রকাশিত হয়নি।

ডা. আহমদ আরও উল্লেখ করেন, জামায়াত-এ-ইসলামিতে যোগদান একটি নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ার মাধ্যমে হয় এবং নির্বাচনের সময় তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হয় না। তিনি নিজের বক্তৃতা থেকে স্পষ্ট করে বলেন, তিনি কোনো বিরোধী দলের নাম উল্লেখ করেননি এবং কোনো ব্যক্তির নামও উল্লেখ করেননি। এই ব্যাখ্যা দলের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা ও সংগঠন পদ্ধতি সম্পর্কে ধারণা দেয়।

বরগুনা জেলায় বামনা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. পলাশ আহমেদ জানান, বিষয়টি নিয়ে তারা পরবর্তীতে তদন্ত করবেন। তিনি উল্লেখ করেন, যদি লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়, তবে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এই মন্তব্য থেকে বোঝা যায়, স্থানীয় প্রশাসন বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে।

এই ঘটনার ফলে জামায়াত-এ-ইসলামির নির্বাচনী প্রচারাভিযানে কিছুটা উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। ধর্মীয় ভিত্তিক উগ্র মন্তব্যের ফলে দলের ইমেজ ও ভোটারদের ধারণা প্রভাবিত হতে পারে, বিশেষ করে ধর্মনিরপেক্ষ ভোটার ও সংখ্যালঘু গোষ্ঠীর মধ্যে। তবে দলীয় নেতারা ইতিমধ্যে বিষয়টি নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য পদক্ষেপ গ্রহণের ইঙ্গিত দিয়েছেন।

ভবিষ্যতে, নির্বাচনের সময় এ ধরনের ধর্মীয় রেটোরিকের ব্যবহার রাজনৈতিক আলোচনার বিষয় হয়ে উঠতে পারে এবং নির্বাচনী কমিশনের নজরে আসতে পারে। নির্বাচনের ফলাফল ও পার্টির কৌশল নির্ধারণে এই ধরনের বিবৃতি কীভাবে প্রভাব ফেলবে, তা সময়ের সাথে স্পষ্ট হবে।

৮০/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ইত্তেফাক
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments