বিএফএল-এ পারভেজ হোসেন ইমন মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যান হিসেবে শুরুর পর দ্রুত ওপেনার হিসেবে তোলার সুযোগ পেলেন এবং শীর্ষ রান সংগ্রাহক হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করলেন। পুরো মৌসুমে বামহাতি ব্যাটসম্যানদের মধ্যে তার রানের পরিমাণ সর্বোচ্চ, যা তাকে শীর্ষে রাখে।
গত মৌসুমে চারজন ব্যাটসম্যানের রানের পরিমাণ চারশের বেশি, আর একজনের রেকর্ড পাঁচশে পৌঁছেছিল। তবে এই সিজনে কেউই চারশের সীমা অতিক্রম করতে পারেনি; পারভেজই একমাত্র যিনি তা কাছাকাছি পৌঁছেছেন। তার পাশাপাশি তাওহিদ হৃদয়, তানজিদ হাসান, নাজমুল হোসেন শান্ত এবং ডেভিড মালান প্রত্যেকে তিনশের বেশি রান করেছেন।
সিলেট টাইটান্স দল পারভেজকে ৩.৫ কোটি টাকায় অধিগ্রহণ করেছে। যদিও তিনি স্বাভাবিকভাবে ওপেনার, তবে প্রথম পাঁচটি ম্যাচে তাকে চার নম্বরে পাঠানো হয়। এই অবস্থানেই তিনি ধারাবাহিকভাবে ভালো পারফরম্যান্স দেখিয়ে দলকে সমর্থন করেন।
প্রথম ম্যাচে রাজশাহী ওয়ারিয়র্সের বিপক্ষে তিনি ৬৫ রান না হারিয়ে ৩৩ বলের মধ্যে পাঁচটি চৌকো এবং চারটি ছক্কা মারেন। পরের গেমে নোয়াখালী এক্সপ্রেসের বিরুদ্ধে ৬০ বলে ৪১ রান করেন, আর তৃতীয় ম্যাচে ঢাকা ক্যাপিটালসের সামনে ৪৪ বলে ৩২ রান যোগ করেন।
চার নম্বরে পাঁচটি ম্যাচে পারভেজের গড় ৫০.২৫ এবং স্ট্রাইক রেট ১৩৬.৭৩, মোট ২০১ রান। এই ধারাবাহিকতা তাকে ওপেনিংয়ে তোলার সিদ্ধান্তের পেছনে মূল কারণ হিসেবে কাজ করে।
ওপেনার হিসেবে ফিরে আসার পর নোয়াখালী বিরোধী প্রথম দুই গেমে তিনি প্রত্যাশিত পারফরম্যান্স দিতে পারেননি। তবে রঙপুর রাইডার্সের মুখোমুখি হয়ে তিনি ৫২ বলে ৪১ রান না হারিয়ে তিনটি চৌকো ও তিনটি ছক্কা মারেন, যা দলের জয় নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারে রঙপুর রাইডার্সের বিপক্ষে সিলেট টাইটান্সের হারের পর পারভেজের শেষ ইনিংস ছিল রাজশাহী ওয়ারিয়র্সের বিরুদ্ধে ৪৮ বলে ৩৪ রান। পুরো মৌসুমে তিনি ১২ ইনিংসে গড় ৩৯.৫০ এবং স্ট্রাইক রেট ১৩২.৯৯ দিয়ে মোট ৩৯৫ রান সংগ্রহ করেন।
এই পারফরম্যান্সের স্বীকৃতিতে তাকে ‘সেরা ব্যাটসম্যান’ পুরস্কার প্রদান করা হয়। যদিও তার দল ফাইনালে পৌঁছাতে পারেনি, পুরস্কারটি সেরা বোলার শারিফুল ইসলাম গ্রহণ করেন, যা পারভেজের অর্জনের গুরুত্বকে আরও তুলে ধরে।
পারভেজের কাছাকাছি রোস্টারে তাওহিদ হৃদয়ও উল্লেখযোগ্য পারফরম্যান্স দেখিয়েছেন। এলিমিনেটর ম্যাচে রঙপুর রাইডার্সের হয়ে তিনি ১১ ইনিংসে গড় ৩৮.২০ এবং স্ট্রাইক রেট ১৩৭.৯০ দিয়ে মোট ৩৮২ রান করেন।
তবে মৌসুমের শুরুর দিকে হৃদয়ের পারফরম্যান্স তেমন উজ্জ্বল ছিল না। প্রথম ছয়টি গেমে তিনি তৃতীয় বা চতুর্থ অবস্থানে খেললেও মাত্র একবারই পাঁচটি রান করেন, গড় ১৭.৬৬ এবং মোট ১০৯ রান সংগ্রহ করেন।
বিএফএল-এ পারভেজের ধারাবাহিকতা এবং হৃদয়ের পরবর্তী উন্নতি উভয়ই দলকে ভবিষ্যতে শক্তিশালী প্রতিপক্ষ হিসেবে গড়ে তুলতে সহায়তা করবে। পরবর্তী ম্যাচে সিলেট টাইটান্সের সূচি এখনও নির্ধারিত, তবে এই দুই খেলোয়াড়ের ফর্ম বজায় রাখলে দলটি শীর্ষে পৌঁছানোর সম্ভাবনা বাড়বে।



