28 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeআন্তর্জাতিকযুক্তরাজ্য ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র গাল্ফে সামরিক উপস্থিতি বাড়িয়ে ইরান উদ্বেগ মোকাবিলা

যুক্তরাজ্য ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র গাল্ফে সামরিক উপস্থিতি বাড়িয়ে ইরান উদ্বেগ মোকাবিলা

ইরানের প্রতি বাড়তে থাকা সন্দেহজনক কার্যকলাপের প্রেক্ষাপটে, যুক্তরাজ্য ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র গাল্ফ অঞ্চলে সামরিক উপস্থিতি শক্তিশালী করেছে। যুক্তরাজ্য শুক্রবার কাতারের দোহা শহরের নিকটবর্তী আল‑উদেইদ বিমানঘাঁটিতে টাইফুন যুদ্ধবিমান পাঠানোর সিদ্ধান্ত জানায়, আর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহী রণতরী USS Abraham Lincoln এবং আরেকটি রণতরী George H.W. Bush মধ্যপ্রাচ্যের দিকে রওনা হয়েছে। এই পদক্ষেপগুলো উভয় দেশের নিরাপত্তা কৌশলকে একত্রিত করে, ইরান‑সংশ্লিষ্ট উত্তেজনা কমাতে লক্ষ্য রাখে।

যুক্তরাজ্যের রয়্যাল এয়ার ফোর্স (RAF) আল‑উদেইদে মোট কয়েকটি টাইফুন জেট মোতায়েন করেছে। এই বিমানগুলো কাতার সরকারের আমন্ত্রণে এবং যুক্তরাজ্য‑কাতার যৌথ ইউনিট নং ১২ স্কোয়াড্রনের অংশ হিসেবে কাজ করবে। উদ্দেশ্য হল গাল্ফের সামুদ্রিক ও আকাশীয় নিরাপত্তা বাড়িয়ে, সম্ভাব্য হুমকির মোকাবিলায় দ্রুত প্রতিক্রিয়া সক্ষমতা নিশ্চিত করা।

যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী জন হিলি এই সহযোগিতাকে দু’দেশের জাতীয় নিরাপত্তা ও গাল্ফের স্থিতিশীলতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, যৌথ স্কোয়াড্রনের মাধ্যমে যুক্তরাজ্য কাতারের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় অতিরিক্ত সমর্থন প্রদান করবে, যা উভয় দেশের কৌশলগত স্বার্থকে শক্তিশালী করবে।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর বিমানবাহী রণতরী USS Abraham Lincoln, যার সঙ্গে F‑35 যুদ্ধবিমানসহ একটি স্ট্রাইক গ্রুপ রয়েছে, আগামী সপ্তাহের শুরুর দিকে গাল্ফে পৌঁছানোর পরিকল্পনা রয়েছে। রণতরিটি বুধবার মালাক্কা প্রণালি অতিক্রম করে, এবং এতে গাইডেড মিসাইল ডেস্ট্রয়ার, সাবমেরিন, পাশাপাশি Patriot ও THAAD (থাড) আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

এই সামরিক গোষ্ঠীর মধ্যে অতিরিক্ত প্রতিরক্ষামূলক সরঞ্জামও রয়েছে, যা গাল্ফের আকাশ ও সমুদ্রপথকে সম্ভাব্য হুমকি থেকে রক্ষা করার জন্য পরিকল্পিত। যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপটি ইরানের দিকে সম্ভাব্য কোনো আক্রমণ বা উত্তেজনা বৃদ্ধির পূর্বে প্রস্তুতি হিসেবে ব্যাখ্যা করা হচ্ছে।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বৃহস্পতিবার রাতে একটি বিবৃতি দিয়ে জানান, গাল্ফে পাঠানো এই নৌবহরটি “যেকোনো পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুতি” হিসেবে কাজ করবে এবং বিশেষভাবে ইরানের দিকে লক্ষ্য করে। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা নীতি অনুযায়ী, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জোর দেন।

অন্যদিকে, গাল্ফের দিকে রওনা হওয়া আরেকটি মার্কিন রণতরী George H.W. Bush, ভার্জিনিয়ার নরফোক ঘাঁটি থেকে প্রস্থান করেছে এবং কয়েক সপ্তাহের মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে। এই রণতরীর উপস্থিতি যুক্তরাষ্ট্রের সামগ্রিক সামরিক উপস্থিতি বাড়িয়ে, ইরানের সম্ভাব্য প্রতিক্রিয়ার মোকাবিলায় অতিরিক্ত সুরক্ষা স্তর যোগ করবে।

একজন কূটনৈতিক বিশ্লেষক মন্তব্য করেন, যুক্তরাজ্যের টাইফুন জেটের মোতায়েন এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর বিস্তৃত গোষ্ঠীর সমন্বয় গাল্ফে একটি বহুমুখী প্রতিরক্ষা নেটওয়ার্ক গড়ে তুলছে। তিনি যোগ করেন, এই ধরনের সমন্বিত পদক্ষেপগুলো ইরানের সম্ভাব্য প্রতিশোধমূলক আক্রমণকে নিরুৎসাহিত করার পাশাপাশি আঞ্চলিক মিত্রদের মধ্যে নিরাপত্তা আস্থা বাড়াবে।

আসন্ন সপ্তাহগুলোতে গাল্ফের সামরিক অবস্থা আরও স্পষ্ট হবে। যুক্তরাজ্য ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিমান ও নৌবাহিনীর উপস্থিতি কীভাবে ইরানের কূটনৈতিক পদক্ষেপকে প্রভাবিত করবে, তা পর্যবেক্ষণ করা হবে। পাশাপাশি, কাতার ও অন্যান্য গাল্ফ দেশগুলোর সঙ্গে সমন্বয় সভা এবং সম্ভাব্য নিরাপত্তা চুক্তি স্বাক্ষরের সময়সূচি নির্ধারিত হয়েছে, যা অঞ্চলের সামগ্রিক নিরাপত্তা কাঠামোকে পুনর্গঠন করতে পারে।

৮০/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ইত্তেফাক
আন্তর্জাতিক প্রতিবেদক
আন্তর্জাতিক প্রতিবেদক
AI-powered আন্তর্জাতিক content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments