একজন উচ্চপদস্থ ইরানি কর্মকর্তার মতে, মার্কিন সামরিক বাহিনীকে অন্তর্ভুক্ত করে একটি বিমানবাহী ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপের মধ্যপ্রাচ্যে আগমনের পূর্বে, ইরান যে কোনো আক্রমণকে “সর্বমোট যুদ্ধ” হিসেবে বিবেচনা করবে। এই মন্তব্যটি গোপনীয়তার শর্তে প্রকাশিত হয়েছে এবং ইরান সরকারের সামরিক প্রস্তুতির ওপর জোর দেয়।
অফিসারটি উল্লেখ করেন, সাম্প্রতিক সামরিক সংযোজনের উদ্দেশ্য বাস্তব সংঘর্ষ নয় বলে আশা করা হচ্ছে, তবে ইরানের সেনাবাহিনী সর্বোচ্চ প্রস্তুতিতে রয়েছে। তিনি বলেন, দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সব স্তরে সতর্কতা বাড়ানো হয়েছে।
তিনি আরও স্পষ্ট করে বলেন, সীমিত হোক, অপ্রতিবন্ধক হোক, অথবা নির্দিষ্ট কোনো কৌশলগত আক্রমণ হোক, ইরান তা সর্বমোট যুদ্ধের সমতুল্য হিসেবে গণ্য করবে এবং সর্বোচ্চ কঠোর পদক্ষেপে প্রতিক্রিয়া জানাবে। এই অবস্থানটি ইরানের প্রতিরক্ষা নীতির একটি নতুন দিক নির্দেশ করে।
ইউ.এস. প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও একই সপ্তাহে উল্লেখ করেন, মার্কিন সামরিক বাহিনী একটি “বহুমাত্রিক নৌবহর” ইরানের দিকে পাঠাচ্ছে, তবে তা ব্যবহার না করার আশাবাদ প্রকাশ করেন। তিনি তেহরানের প্রতি সতর্কতা বাড়িয়ে বলেন, প্রতিবাদকারীদের হত্যা বা পারমাণবিক কর্মসূচি পুনরায় শুরু করা যাবে না।
ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই সতর্কতা ইরানের অভ্যন্তরীণ অশান্তি এবং পারমাণবিক চ্যালেঞ্জের সঙ্গে যুক্ত, যা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। তবু ইরান সরকার এই সতর্কতাকে অস্বীকার করে না, বরং তার স্বার্থ রক্ষার জন্য সব উপায় ব্যবহার করতে প্রস্তুত বলে জানায়।
ইরানি কর্মকর্তার মতে, যদি মার্কিন সামরিক বাহিনী ইরানের সার্বভৌমত্ব বা ভূখণ্ডীয় অখণ্ডতা লঙ্ঘন করে, তবে ইরান যথাযথ প্রতিক্রিয়া জানাবে, যদিও সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ এখনো প্রকাশ করা হয়নি। এই অজানা প্রতিক্রিয়া সম্ভাব্য সংঘাতের মাত্রা বাড়িয়ে তুলতে পারে।
তিনি আরও যোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্রের ধারাবাহিক সামরিক হুমকির মুখে থাকা কোনো দেশকে তার সব সম্পদ ব্যবহার করে প্রতিক্রিয়া জানাতে হবে, যাতে সমতা পুনরুদ্ধার করা যায় এবং আক্রমণকারীকে নিরুৎসাহিত করা যায়। এই বক্তব্য ইরানের কৌশলগত স্ব-রক্ষা নীতির প্রতিফলন।
মার্কিন সামরিক বাহিনী অতীতে উত্তেজনা বাড়ার সময় মধ্যপ্রাচ্যে অতিরিক্ত সেনা পাঠায়, যা প্রায়শই প্রতিরক্ষামূলক পদক্ষেপ হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়। তবে এই ধরনের সংযোজনের ফলে অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিবেশে অস্থিরতা সৃষ্টি হয়।
গত বছরেও মার্কিন সামরিক বাহিনী ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির বিরুদ্ধে জুন মাসে আক্রমণ চালানোর প্রস্তুতিতে বৃহৎ পরিসরের সংযোজন করে থাকে। সেই সময়ের সংযোজন ইরানের প্রতিক্রিয়ার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রেক্ষাপট তৈরি করে।
এই পরিস্থিতি ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা বাড়িয়ে তুলতে পারে, যা পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর নিরাপত্তা নীতিতে প্রভাব ফেলবে। বিশেষ করে গলফ অঞ্চলের তেল রপ্তানি ও শিপিং রুটে সম্ভাব্য বিঘ্নের ঝুঁকি রয়েছে।
আন্তর্জাতিক পর্যায়ে, বহু দেশ ও সংস্থা এই উত্তেজনা কমাতে কূটনৈতিক আলোচনার আহ্বান জানিয়েছে। তবে উভয় পক্ষের কঠোর অবস্থান মীমাংসা সহজ করে না, ফলে ভবিষ্যতে সংঘাতের ঝুঁকি অব্যাহত থাকতে পারে।
সারসংক্ষেপে, ইরান যে কোনো সামরিক হুমকিকে সর্বমোট যুদ্ধের সমানভাবে গণ্য করার প্রস্তুতি প্রকাশ করেছে, আর মার্কিন সামরিক বাহিনীর ক্রমবর্ধমান উপস্থিতি এই উত্তেজনাকে আরও জটিল করে তুলছে। উভয় দেশের নেতৃত্বের এই রেটোরিক এবং সামরিক পদক্ষেপের পরিণতি অঞ্চলীয় স্থিতিশীলতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ উপস্থাপন করছে।



