27 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিডোনাল্ড ট্রাম্পের ইরান সতর্কতা ও স্বর্ণ‑রূপার দাম রেকর্ডের কাছাকাছি

ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইরান সতর্কতা ও স্বর্ণ‑রূপার দাম রেকর্ডের কাছাকাছি

ডোনাল্ড ট্রাম্প বুধবার গ্রিনল্যান্ড‑সংক্রান্ত শীতল মন্তব্যের পর ইরানের দিকে নতুন সতর্কতা জানিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা বাড়িয়ে দেন। শুক্রবার বিশ্ব শেয়ারবাজারে মন্দা দেখা দিল, আর স্বর্ণের দাম রেকর্ড $5,000/আউন্সের কাছাকাছি পৌঁছায়। একই সঙ্গে রূপার দাম $102/আউন্স অতিক্রম করে, যা বিনিয়োগকারীদের নিরাপদ সম্পদে ঝুঁকি হ্রাসের ইঙ্গিত দেয়।

স্বর্ণ, যা সাধারণত ঝুঁকি‑হ্রাসের জন্য বেছে নেওয়া হয়, $4,950/আউন্সের কাছাকাছি লেনদেন হয় এবং শীর্ষে পৌঁছানোর পথে। রূপা, আরেকটি নিরাপদ সম্পদ, $102/আউন্সের উপরে উঠে যায়, যা ট্রাম্পের পরবর্তী মন্তব্য বা পদক্ষেপের অনিশ্চয়তা থেকে উদ্ভূত উদ্বেগকে প্রতিফলিত করে।

ডলার ইউরোর তুলনায় চার মাসের সর্বনিম্ন স্তরে নেমে আসে, যা মার্কিন মুদ্রার দুর্বলতা নির্দেশ করে। ইউরো তুলনায় ডলারের পতন মূলত ট্রাম্পের বাণিজ্যিক হুমকি এবং ইরান‑সংক্রান্ত সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপের আশঙ্কা থেকে উদ্ভূত।

গ্রিনল্যান্ড বিষয়ক পূর্ববর্তী মন্তব্যে ডোনাল্ড ট্রাম্প ইউরোপীয় দেশগুলোর ওপর শুল্ক আরোপের হুমকি প্রত্যাহার করার পর বাজারে স্বস্তি ফিরে আসে। তবে ইরানের দিকে নতুন সতর্কতা, যেখানে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের একটি “বৃহৎ নৌবহর” সম্ভাব্যভাবে পাঠানোর কথা উল্লেখ করেন, তা আবার উদ্বেগের সঞ্চার করে।

ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপের ইঙ্গিত দেন, যদিও সাম্প্রতিক দিনগুলোতে উভয় পক্ষই কূটনৈতিক সমাধানের দিকে ঝুঁকেছে। তিনি উল্লেখ করেন যে, যুক্তরাষ্ট্র “যেকোনো সময়” ইরানের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিতে পারে, যা ইরান‑সংক্রান্ত উত্তেজনা পুনরায় বাড়িয়ে দেয়।

ইউরোপীয় শেয়ারবাজারে দিকনির্দেশনা খুঁজতে ব্যর্থ হয়, ফ্রাঙ্কফুর্ট সামান্য সবুজে বন্ধ হয়, আর লন্ডন ও প্যারিসের সূচক সপ্তাহের শেষের দিকে লাল রঙে শেষ হয়। এই অস্থিরতা ইউরোপীয় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা বাড়িয়ে দেয়।

যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজারে ডাউনট্রেন্ড দেখা যায়, ডাও জোন্স সূচক হ্রাস পায়, আর নাসডাক সূচক কিছুটা উপরে ওঠে। বাজারের মিশ্র পারফরম্যান্স ট্রাম্পের মন্তব্যের ফলে সৃষ্ট ঝুঁকির প্রতিফলন।

ইন্টেল শেয়ার ১৭% পতন দেখায়, কারণ চিপ নির্মাতার আয় প্রত্যাশার চেয়ে কম হওয়ার আশঙ্কা বাজারে ছড়িয়ে পড়ে। এই পতন প্রযুক্তি সেক্টরের সামগ্রিক দুর্বলতাকে নির্দেশ করে।

এশীয় শেয়ারবাজারে বেশিরভাগ সূচক বন্ধ হয় উঁচুতে, যা যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজারের মন্দার পরেও কিছুটা স্বস্তি প্রদান করে। তবে ডলার দুর্বলতা এবং নিরাপদ সম্পদের চাহিদা এশিয়ার বাজারকেও প্রভাবিত করে।

ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক বাণিজ্যিক হুমকি এবং ইরান‑সংক্রান্ত সতর্কতা ইউরোপ‑মার্কিন সম্পর্কের স্থায়িত্ব নিয়ে বিশ্লেষকদের উদ্বেগ বাড়িয়ে দেয়। নিরাপদ সম্পদের চাহিদা বাড়ার ফলে স্বর্ণ ও রূপার দাম উঁচুতে থাকে, আর ডলারের অবমূল্যায়ন অব্যাহত থাকে। বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, ট্রাম্পের শুল্ক হুমকি কোনো সময় পুনরায় উঠে আসতে পারে, যা বিনিয়োগকারীদের সতর্ক রাখবে।

বিনিয়োগকারীরা পরবর্তী সপ্তাহে মার্কিন সরকার এবং ইরানের মধ্যে কূটনৈতিক আলোচনার অগ্রগতি, পাশাপাশি ডোনাল্ড ট্রাম্পের সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপের সংকেতের দিকে নজর রাখবে। বাজারের দিকনির্দেশনা এখন নিরাপদ সম্পদে রূপান্তরিত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি, এবং ইউরোপীয় ও এশীয় শেয়ারবাজারের পারফরম্যান্স ট্রাম্পের ভবিষ্যৎ মন্তব্যের ওপর নির্ভরশীল থাকবে।

৯১/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ডেইলি স্টার
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments