সৌদি আরবের রিয়েল এস্টেট জেনারেল অথরিটি বৃহস্পতিবার নতুন বিধিমালা আনুষ্ঠানিকভাবে চালু করেছে, যার মাধ্যমে বিদেশি নাগরিক ও প্রতিষ্ঠানগুলোকে সম্পত্তি মালিকানার জন্য একক অনলাইন সিস্টেম ব্যবহার করতে হবে। এই ব্যবস্থা তৎক্ষণাৎ কার্যকর এবং দেশের রিয়েল এস্টেট বাজারে স্বচ্ছতা ও নিয়ন্ত্রণ বাড়ানোর লক্ষ্য রাখে।
নতুন নিয়মের অধীনে সব ধরনের আবেদন ‘সৌদি প্রপার্টিজ’ নামের ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে জমা দিতে হবে। আবেদনকারীকে প্রথমে যোগ্যতা যাচাই, পরবর্তী ধাপে নিবন্ধন এবং শেষ পর্যন্ত মালিকানা হস্তান্তর পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়া অনলাইনে সম্পন্ন করতে হবে। ফলে কাগজপত্রের ঝামেলা কমে এবং প্রক্রিয়ার গতি বৃদ্ধি পাবে।
এই বিধি বিদেশি ব্যক্তিগত বাসিন্দা, অনাবাসী বিদেশি এবং বিদেশি কোম্পানি বা সংস্থার ওপর সমানভাবে প্রযোজ্য। তবে প্রত্যেকের অবস্থান ও পরিচয়ভিত্তিক প্রক্রিয়া ভিন্নভাবে পরিচালিত হবে, যাতে নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রণের মান বজায় থাকে।
সৌদি ইকামা (আবাসন অনুমতিপত্র)ধারী বৈধ বিদেশি বাসিন্দারা সরাসরি ‘সৌদি প্রপার্টিজ’ পোর্টালে লগইন করে আবেদন করতে পারবেন। সিস্টেম স্বয়ংক্রিয়ভাবে তাদের যোগ্যতা যাচাই করে এবং অনলাইন পেমেন্ট ও ডকুমেন্ট আপলোডের মাধ্যমে সম্পূর্ণ লেনদেন সম্পন্ন করে।
অন্যদিকে, যারা বর্তমানে সৌদিতে বসবাস করছেন না, তাদের নিজ দেশের সৌদি দূতাবাস বা মিশনের মাধ্যমে প্রথম ধাপ শুরু করতে হবে। দূতাবাস একটি ডিজিটাল পরিচয়পত্র ইস্যু করে, যা ব্যবহার করে আবেদনকারী পোর্টালে প্রবেশ করে সম্পত্তি মালিকানার আবেদন চালিয়ে যেতে পারবেন।
সৌদিতে শারীরিক উপস্থিতি না থাকা বিদেশি কোম্পানি বা প্রতিষ্ঠানকে প্রথমে ‘ইনভেস্ট সৌদি’ পোর্টালের মাধ্যমে বিনিয়োগ মন্ত্রণালয়ের নিবন্ধন সম্পন্ন করতে হবে। নিবন্ধনের পর একটি ইউনিফাইড নম্বর (৭০০) প্রদান করা হয়, যা ব্যবহার করে তারা অনলাইনভাবে সম্পত্তি অধিকার অর্জনের আবেদন করতে পারবে।
মক্কা ও মদিনা শহরে মালিকানার ক্ষেত্রে বিশেষ সীমাবদ্ধতা আরোপ করা হয়েছে; এখানে শুধুমাত্র সৌদি কোম্পানি এবং মুসলিম ব্যক্তিরাই সম্পত্তি কিনতে পারবে। এই বিধি ধর্মীয় সংবেদনশীলতা রক্ষা এবং স্থানীয় স্বার্থ রক্ষার উদ্দেশ্যে গৃহীত।
‘সৌদি প্রপার্টিজ’ পোর্টালই একমাত্র সরকারি চ্যানেল, যা জাতীয় রিয়েল এস্টেট টাইটেল রেজিস্ট্রেশন সিস্টেমের সঙ্গে সরাসরি সংযুক্ত। আবেদনকারীরা এখানে নিয়মাবলী যাচাই, প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট আপলোড এবং চূড়ান্ত মালিকানা রেজিস্ট্রেশন সবকিছু এক জায়গায় সম্পন্ন করতে পারবেন।
অধিকারের স্বচ্ছতা ও সুরক্ষা বাড়ার ফলে আন্তর্জাতিক ডেভেলপার ও উচ্চমানের বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলোকে সৌদিতে বিনিয়োগের জন্য আকৃষ্ট করার আশা করা হচ্ছে। বিশেষ করে গৃহনির্মাণ, বাণিজ্যিক প্রকল্প এবং পর্যটন-সম্পর্কিত রিয়েল এস্টেট সেক্টরে নতুন মূলধনের প্রবাহ বৃদ্ধি পেতে পারে।
বাজার বিশ্লেষকরা উল্লেখ করছেন, ডিজিটাল আবেদন প্রক্রিয়া এবং একক প্ল্যাটফর্মের সংযোজন রিয়েল এস্টেট লেনদেনের সময় কমিয়ে দেবে, ফলে প্রকল্পের বাস্তবায়ন দ্রুত হবে এবং নির্মাণ খাতে কর্মসংস্থান বাড়বে। এছাড়া, স্বচ্ছ রেজিস্ট্রেশন সিস্টেম বিদেশি বিনিয়োগকারীর আস্থা জোরদার করবে।
তবে মক্কা ও মদিনার মালিকানার সীমাবদ্ধতা এবং ডিজিটাল পরিচয়পত্রের প্রয়োজনীয়তা কিছু বিনিয়োগকারীর জন্য অতিরিক্ত সম্মতি ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে অ-ইসলামিক সংস্থাগুলোকে এই শর্তে মানিয়ে নিতে অতিরিক্ত সময় ও খরচ ব্যয় করতে হতে পারে।
সামগ্রিকভাবে, নতুন নিয়মাবলী রিয়েল এস্টেট বাজারে বৈদেশিক মূলধনের প্রবাহ বাড়ানোর পাশাপাশি নিয়ন্ত্রক কাঠামোকে আধুনিকায়ন করার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বাজার অংশীদারদের জন্য সুপারিশ করা হচ্ছে, নতুন প্ল্যাটফর্মের ব্যবহার পদ্ধতি ও প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টেশন সম্পর্কে পূর্ণ জ্ঞান অর্জন করে বিনিয়োগ পরিকল্পনা গঠন করা, যাতে সম্ভাব্য নিয়ন্ত্রক পরিবর্তনের সঙ্গে সামঞ্জস্য বজায় রাখা যায়।
ভবিষ্যতে, সৌদি সরকার যদি এই ডিজিটাল সিস্টেমকে আরও উন্নত করে এবং সীমাবদ্ধতা হ্রাসের দিকে মনোযোগ দেয়, তবে রিয়েল এস্টেট সেক্টরে আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্বের পরিসর ব্যাপকভাবে বিস্তৃত হতে পারে এবং দেশের অর্থনৈতিক বৈচিত্র্যকরণে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখতে পারে।



