বিএনপি চেয়ারপার্সন তারেক রহমান গতকাল ঢাকার ভাসান্তেক, ধারা‑১৭ এলাকার একটি র্যালিতে উপস্থিত হয়ে, দলটি জনগণের সঙ্গে সবসময় সংযুক্ত এবং ক্ষমতায় আসলে জনগণের চাওয়া পরিবর্তন বাস্তবায়ন করতে প্রস্তুত থাকবে বলে জানালেন। র্যালিটি ব্রিক রোড ব্যাসিক্স (BRB) গ্রাউন্ডে অনুষ্ঠিত হয় এবং তারেকের প্রথম রাজধানী ক্যাম্পেইন ইভেন্ট হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
র্যালিতে তিনি পূর্ববর্তী শাসনকালের অস্থিরতা ও দুর্নীতির পরিপ্রেক্ষিতে এখন জনগণ সুশাসন ও উন্নয়নের দাবি রাখে, তা তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, যখনই দেশের মানুষ প্যাডি শেফের প্রতীকী চিহ্নে ভোট দেয়, তখনই উন্নয়ন ও ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা যায়। এই বক্তব্যের সঙ্গে তিনি বিএনপি অতীতের সাফল্যকে পুনরায় উল্লেখ করে, জনগণের উন্নয়নের জন্য দলটি প্রস্তুত রয়েছে বলে জোর দেন।
তাঁরেকের ক্যাম্পেইন যাত্রা বৃহস্পতিবার সিলেটের একটি র্যালি দিয়ে শুরু হয়। এরপর তিনি মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কিশোরগঞ্জ, নারসিংদি ও নারায়ণগঞ্জে ধারাবাহিকভাবে র্যালিতে অংশ নেন এবং শেষ পর্যন্ত ঢাকায় পৌঁছান। এই র্যালিগুলোতে তিনি বিভিন্ন স্থানীয় সমস্যার সমাধান ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরেছেন।
ধারা‑১৭ থেকে নির্বাচিত হওয়ার প্রতিশ্রুতি নিয়ে তিনি যুবকদের জন্য বিদেশে কাজের প্রস্তুতি হিসেবে দক্ষতা প্রশিক্ষণ, নারীদের জন্য পরিবার কার্ড এবং ক্রীড়াকে পেশা হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা ঘোষণা করেন। এছাড়া তিনি স্লাম বাসিন্দাদের পুনর্বাসনের প্রতিশ্রুতি দেন, যেখানে ভাসান্তেকের বাসিন্দারা প্রধানত বাসস্থানের সমস্যাকে তাদের সর্বোচ্চ উদ্বেগ হিসেবে উল্লেখ করছিলেন। তিনি নিশ্চিত করেন যে, এই সমস্যার সমাধান করা হবে এবং ভোটারদের বিএনপির দিকে মনোযোগ দিতে আহ্বান জানান।
তাঁরেকের মতে, নিরাপত্তা, কর্মসংস্থান, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার মতো মৌলিক চাহিদা পূরণে একটি গণতান্ত্রিক সরকার অপরিহার্য। তিনি অতীত ১৫‑১৬ বছরকে বিশ্লেষণ করে বলেন, ৫ই আগস্ট ২০২৪ তারিখে দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপটে একটি পরিবর্তন ঘটেছে এবং দেশের মানুষ ইতিবাচক পরিবর্তনের প্রত্যাশা করছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, কেবল জনগণের নির্বাচিত সরকারই এই সমস্যাগুলো সমাধান করতে সক্ষম।
পূর্ববর্তী শাসনকালে দুর্নীতি ও প্রতিষ্ঠানগত অবক্ষয় দেশের অগ্রগতিকে বাধাগ্রস্ত করেছে, তা স্বীকার করে তিনি পুনর্নির্মাণের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, গণতন্ত্রের পুনঃপ্রতিষ্ঠা ছাড়া দেশের পুনরুদ্ধার সম্ভব নয় এবং জনগণের প্রতিনিধিদের গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত করা এই প্রক্রিয়ার মূল চাবিকাঠি।
অবশ্যই, বিরোধী দলগুলোর দৃষ্টিভঙ্গি উল্লেখ করা গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমান শাসক আওয়ামী লীগ এই র্যালি ও তারেকের ঘোষণার প্রতি কোনো মন্তব্য করেনি, তবে পূর্বে সরকারী দৃষ্টিকোণ থেকে নির্বাচনী ক্যাম্পেইনকে স্বচ্ছ ও শান্তিপূর্ণ রাখতে আহ্বান জানানো হয়েছে। এদিকে, কিছু বিশ্লেষক উল্লেখ করেছেন যে, বিএনপির এই র্যালি ও প্রতিশ্রুতিগুলো নির্বাচনের আগে ভোটারদের মনোযোগ আকর্ষণ করার একটি কৌশল হতে পারে।
আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে তারেকের এই র্যালি ও প্রতিশ্রুতি রাজনৈতিক গতিবিধিকে প্রভাবিত করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তিনি ভোটারদের কাছে আহ্বান জানিয়েছেন যে, পরিবর্তনের জন্য ভোট দিন এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দেশের উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করুন। ভবিষ্যতে ভোটের ফলাফল কীভাবে গঠিত হবে, তা দেশের রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।



