28 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeব্যবসাইউরোপীয় শীর্ষবক্তারা ভারতের প্রজাতন্ত্র দিবসে ফ্রি ট্রেড চুক্তি আলোচনা করবেন

ইউরোপীয় শীর্ষবক্তারা ভারতের প্রজাতন্ত্র দিবসে ফ্রি ট্রেড চুক্তি আলোচনা করবেন

দিল্লি, ২৪ জানুয়ারি – ভারতের প্রজাতন্ত্র দিবসের অনুষ্ঠান আগামী সোমবার ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট অ্যান্টোনিও লুইস স্যান্টোস দা কোস্টা এবং ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডের লেয়েনকে প্রধান অতিথি হিসেবে স্বাগত জানাবে। রাষ্ট্রীয় ভোজ ও আনুষ্ঠানিক অনুষ্ঠান ছাড়াও দুই নেতার মূল এজেন্ডা হবে এশিয়ার তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির সঙ্গে চলমান মুক্ত বাণিজ্য আলোচনার অগ্রগতি।

ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ভারতের বাণিজ্যিক সম্পর্কের চূড়ান্ত রূপ দিতে এই চুক্তি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে বিবেচিত। দুই দশকের দীর্ঘ আলোচনার পর এখন চুক্তি স্বাক্ষরের কাছাকাছি পৌঁছেছে, যা উভয় পক্ষের জন্যই কৌশলগত ও অর্থনৈতিক দিক থেকে বড় প্রভাব ফেলবে।

বৈশ্বিক বাণিজ্য পরিবেশে অনিশ্চয়তা বাড়িয়ে তুলেছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পূর্ববর্তী হুমকি, যেখানে তিনি ইউরোপীয় মিত্রদের বিরুদ্ধে গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণের বিরোধে বাণিজ্য যুদ্ধ বাড়ানোর ইঙ্গিত দেন, পরে আবার তা প্রত্যাহার করেন। এই পরিবর্তনশীল নীতি ভারতের বাণিজ্যিক কৌশলে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করেছে।

ইউরোপীয় নেতাদের আমন্ত্রণের মাধ্যমে দিল্লি তার বহুমুখী বৈদেশিক নীতি জোরদার করতে চায় এবং কোনো একক দেশের নীতি পরিবর্তনের ওপর নির্ভর না করার সংকেত পাঠাচ্ছে। এই কূটনৈতিক পদক্ষেপটি আন্তর্জাতিক বাজারে ভারতের স্বতন্ত্র অবস্থানকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে।

উচ্চ পর্যায়ের শীর্ষ সম্মেলনে ২৭ জানুয়ারি উভয় পক্ষের নেতারা একত্রিত হলে চুক্তি স্বাক্ষরের সম্ভাবনা রয়েছে। সূত্র অনুযায়ী, এই তারিখে অনুষ্ঠিত শীর্ষ সম্মেলনে চুক্তির মূল শর্তাবলী প্রকাশিত হতে পারে।

ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডের লেয়েন এবং ভারতের বাণিজ্য মন্ত্রী পিয়ুষ গয়াল উভয়েই এই চুক্তিকে “সবচেয়ে বড় চুক্তি” হিসেবে উল্লেখ করেছেন, যা দুই পক্ষের জন্যই কৌশলগত গুরুত্বকে তুলে ধরে।

যদি চুক্তি সম্পন্ন হয়, এটি ভারতের চতুর্থ বছরে নয়টি ফ্রি ট্রেড এগ্রিমেন্টের মধ্যে একটি হবে; পূর্বে যুক্তরাজ্য, ওমান, নিউজিল্যান্ড এবং অন্যান্য দেশগুলোর সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। এই ধারাবাহিকতা ভারতের বাণিজ্যিক নেটওয়ার্ককে বৈশ্বিক পর্যায়ে বিস্তৃত করতে সহায়তা করবে।

ইউরোপীয় ইউনিয়নও সাম্প্রতিক সময়ে মারকোসুর বাণিজ্য গোষ্ঠী, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া এবং ভিয়েতনামের সঙ্গে চুক্তি সম্পন্ন করেছে। ইউরোপীয় বাজারের সঙ্গে গভীর সংযোগ গড়ে তোলার এই প্রচেষ্টা, চীন-ইউরোপ বাণিজ্যের ওপর নির্ভরতা কমাতে সহায়তা করবে।

ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা ও বাণিজ্যিক ঝুঁকির মুখে উভয় পক্ষই নির্ভরযোগ্য অংশীদার খুঁজছে। ভারতের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ৫০% শুল্কের প্রভাব কমানো এবং ইউরোপের জন্য চীনের ওপর নির্ভরতা হ্রাস করা এই চুক্তির প্রধান লক্ষ্য। সফল হলে, স্বয়ংচালিত, ফার্মাসিউটিক্যাল এবং সেবা খাতের মধ্যে বাণিজ্য প্রবাহে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসবে।

শীর্ষ সম্মেলনের ফলাফল আন্তর্জাতিক বাণিজ্য বাজারে নতুন গতিবিধি তৈরি করবে বলে আশা করা হচ্ছে। উভয় পক্ষের উচ্চ পর্যায়ের নেতারা চুক্তির চূড়ান্ত রূপ প্রকাশের মাধ্যমে বৈশ্বিক বাণিজ্য কাঠামোর পুনর্গঠনকে ত্বরান্বিত করতে প্রস্তুত।

৯৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিবিসি
ব্যবসা প্রতিবেদক
ব্যবসা প্রতিবেদক
AI-powered ব্যবসা content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments