স্যান্ডেন্স ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে শুক্রবার লুইজি মাঙ্গিওনের নামের ওপর ভিত্তি করে তৈরি ৮ মিনিটের একটি শর্টফিল্ম প্রথমবার প্রদর্শিত হয়েছে। এই কাজটি লিজা ম্যান্ডেলাপের পরিচালনায় তৈরি এবং পার্ক সিটিতে অনুষ্ঠিত ফেস্টিভ্যালে মোট ৫৪টি শর্টফিল্মের মধ্যে নির্বাচিত হয়েছে। ফিল্মটি মাঙ্গিওনের ব্যক্তিগত জীবনের চেয়ে তার গ্রেফতার পর সামাজিক মিডিয়ায় সৃষ্ট উন্মাদনা ও ভক্তি নিয়ে বেশি মনোযোগ দেয়।
লিজা ম্যান্ডেলাপের মতে, অনলাইন কমিউনিটি এবং ফ্যানডমের প্রতি তার আগ্রহই এই প্রকল্পের মূল চালিকাশক্তি। মাঙ্গিওনের গ্রেফতার পর তার ছবি ও নাম ইন্টারনেটে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে, টি-শার্ট, পোস্টার এবং বিভিন্ন পণ্যতে রূপান্তরিত হয়। এই প্রবাহের পেছনে যে উত্সাহ ও উন্মাদনা রয়েছে, তা বিশ্লেষণ করা ছিল চলচ্চিত্রের প্রধান উদ্দেশ্য।
লুইজি মাঙ্গিওনকে যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কে ৪ ডিসেম্বর ২০২৪ তারিখে ইউনাইটেড হেলথকেয়ার এক্সিকিউটিভ ব্রায়ান থম্পসনের হত্যার সঙ্গে যুক্ত করে গ্রেফতার করা হয়। তার বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে, তবে এখনো আদালতে কোনো রায় দেওয়া হয়নি। এই ঘটনাই জনসাধারণের মনোযোগকে তীব্র করে এবং অনলাইন ভক্তদের মধ্যে মাঙ্গিওনের প্রতি একধরনের মিথ্যা বীরত্বের সৃষ্টিতে ভূমিকা রাখে।
ফিল্মের মধ্যে মাঙ্গিওনের সমর্থকদের কয়েকজনকে ক্যামেরার সামনে নিয়ে তাদের মতামত ও অনুভূতি প্রকাশ করা হয়েছে। তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন বুউ প্যাটারসন, যিনি শিল্পী, লেখক এবং ক্রিয়েটিভ ডিরেক্টর হিসেবে পরিচিত। তিনি “দ্য পিপলস হাব্যান্ড” শিরোনামের তেলচিত্রের মাধ্যমে মাঙ্গিওনের চিত্রকে শিল্পকর্মে রূপান্তরিত করেন এবং মূলত দাতব্য উদ্দেশ্যে নিলাম করার পরিকল্পনা করেন।
বুউ প্যাটারসন জানান, চিত্রটি নিলামের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা খরচ মেটাতে ব্যবহার করা হবে। তবে সামাজিক মিডিয়ায় প্রচুর অনুরোধের পর তিনি চিত্রের ছবি ব্যবহার করে বিভিন্ন পণ্যের মের্চেন্ডাইজ তৈরি করেন। তাতে সমুদ্রতটের তোয়ালে, পানির বোতল এবং অন্যান্য দৈনন্দিন ব্যবহার্য সামগ্রী অন্তর্ভুক্ত হয়েছে, যা ভক্তদের মধ্যে দ্রুত জনপ্রিয়তা অর্জন করে।
এই মের্চ স্টোরের মাধ্যমে মাঙ্গিওনের চিত্রকে বিভিন্ন পণ্যে ছড়িয়ে দেওয়া হয় এবং অনলাইন শপিং প্ল্যাটফর্মে বিক্রি করা হয়। পণ্যগুলির ওপর ক্রেতারা “এটি আমার ফোনে দরকার”, “দেয়ালে ঝুলিয়ে রাখতে চাই” এবং “টিশার্টে পরতে চাই” ইত্যাদি মন্তব্য রেখে ক্রয় করেন। ফলে মাঙ্গিওনের চিত্র একটি বাণিজ্যিক ব্র্যান্ডের রূপ নেয়, যদিও তিনি নিজে কোনো মন্তব্য করেননি।
শর্টফিল্মের অন্য অংশে মাঙ্গিওনের সমর্থকরা কেন তার প্রতি এত আকৃষ্ট হয় তা নিয়ে ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা শেয়ার করেন। তারা বলেন, মাঙ্গিওনের গল্পে একটি অদ্ভুত আকর্ষণ আছে যা তাদেরকে সামাজিক ন্যায়বিচার ও ব্যক্তিগত স্বায়ত্তশাসনের প্রশ্নে উদ্বুদ্ধ করে। এই অনুভূতি চলচ্চিত্রে দৃশ্যমানভাবে তুলে ধরা হয়েছে, যেখানে সমর্থকদের মুখে উচ্ছ্বাস ও প্রত্যাশা স্পষ্টভাবে দেখা যায়।
লিজা ম্যান্ডেলাপের কাজটি ৮ মিনিটের সংক্ষিপ্ত সময়ে এই জটিল সামাজিক গতিবিদ্যা উপস্থাপন করে। ফিল্মটি দ্রুতগতির সম্পাদনা, সঙ্গীত এবং ভিজ্যুয়াল উপাদানের মাধ্যমে ভক্তি ও উন্মাদনার তীব্রতা প্রকাশ করে। যদিও মাঙ্গিওনের ব্যক্তিগত দিক নিয়ে গভীর বিশ্লেষণ করা হয়নি, তবে তার চিত্রের চারপাশে গড়ে ওঠা অনলাইন সংস্কৃতি স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে।
স্যান্ডেন্সে চলচ্চিত্রটি প্রদর্শনের পর দর্শক ও শিল্প সমালোচকরা ম্যান্ডেলাপের এই দৃষ্টিভঙ্গিকে প্রশংসা করেন। তারা উল্লেখ করেন, মাঙ্গিওনের অপরাধমূলক দিককে না গিয়ে সামাজিক মিডিয়ার প্রভাবকে কেন্দ্র করে একটি সূক্ষ্ম বিশ্লেষণ উপস্থাপন করা হয়েছে। এই দৃষ্টিকোণ থেকে চলচ্চিত্রটি বর্তমান সময়ের ডিজিটাল ফ্যানডমের একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হয়।
একই সময়ে, আলেক্স গিবনি লুইজি মাঙ্গিওনের ওপর একটি পূর্ণদৈর্ঘ্য ডকুমেন্টারি তৈরি করছেন, যা হুলুতে প্রকাশের পরিকল্পনা রয়েছে। গিবনির কাজটি মাঙ্গিওনের মামলার আইনি দিক এবং তার সামাজিক প্রভাবের গভীর বিশ্লেষণ প্রদান করবে বলে আশা করা হচ্ছে। হুলুতে এই ডকুমেন্টারির প্রকাশ মাঙ্গিওনের গল্পকে আরও বিস্তৃত দর্শকের সামনে তুলে ধরবে।
স্যান্ডেন্সে প্রদর্শিত এই শর্টফিল্মটি মাঙ্গিওনের অপরাধমূলক অভিযোগের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত নয়, বরং তার চিত্রের চারপাশে গড়ে ওঠা অনলাইন উন্মাদনা ও ভক্তি নিয়ে আলোকপাত করে। চলচ্চিত্রটি দেখায় কীভাবে একটি অপরাধী ব্যক্তির ছবি দ্রুতই একটি সাংস্কৃতিক আইকনে রূপান্তরিত হতে পারে এবং তা কীভাবে বাণিজ্যিক ও সামাজিক স্তরে প্রভাব ফেলে।
মাঙ্গিওনের মামলার আইনি প্রক্রিয়া এখনও চলমান, এবং তার ভবিষ্যৎ কী হবে তা অনিশ্চিত। তবে স্যান্ডেন্সে তার নামের ওপর ভিত্তি করে তৈরি এই চলচ্চিত্রটি ইতিমধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ সাংস্কৃতিক নথি হিসেবে স্বীকৃত হয়েছে, যা ডিজিটাল যুগে ভক্তি ও মিডিয়া কীভাবে একে অপরকে প্রভাবিত করে তা স্পষ্টভাবে উপস্থাপন করে।



