27 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিডাভোসে গাজার পুনর্গঠন পরিকল্পনা উপস্থাপন, ট্রাম্প প্রশাসনের বিশাল প্রকল্পের বিবরণ

ডাভোসে গাজার পুনর্গঠন পরিকল্পনা উপস্থাপন, ট্রাম্প প্রশাসনের বিশাল প্রকল্পের বিবরণ

সুইজারল্যান্ডের দাভোসে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের অধিবেশনে বৃহস্পতিবার মার্কিন সরকার গাজার ভবিষ্যৎ নিয়ে একটি বিশদ পুনর্গঠন পরিকল্পনা উপস্থাপন করে। পরিকল্পনাটি গাজার ধ্বংসাবশেষ থেকে নতুন শহর, উচ্চমানের ডেটা সেন্টার এবং পর্যটন‑মুখী সমুদ্রসৈকত গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে তৈরি, যেখানে ফিলিস্তিনিদের স্থানীয় চাহিদা ও ইচ্ছার কোনো উল্লেখ নেই।

প্রেজেন্টেশনের মূল বক্তা ছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা ও উপদেষ্টা জ্যারেড কুশনার, যিনি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে তৈরি করা চমকপ্রদ ভবনের রেন্ডারিং দেখিয়ে পরিকল্পনার দৃষ্টিভঙ্গি ব্যাখ্যা করেন। প্রায় দশটি স্লাইডে তিনি গাজার বর্তমান ৯০ হাজার টন ধ্বংসাবশেষকে নতুন গাজার ভিত্তি হিসেবে ব্যবহার করার কথা উল্লেখ করেন এবং গাজার নিরস্ত্রীকরণ, শাসনব্যবস্থা ও পুনর্গঠনের প্রতি মার্কিন সরকারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।

প্রস্তাবিত পরিকল্পনায় গাজার ভূমধ্যসাগরীয় উপকূলের সম্পূর্ণ অংশকে পর্যটন উন্নয়নের জন্য বরাদ্দ করা হবে, যেখানে ১৮০টি উঁচু টাওয়ার নির্মাণের ধারণা রয়েছে। এছাড়া শিল্প কমপ্লেক্স, আধুনিক উৎপাদন কেন্দ্র, ডেটা সেন্টার এবং ক্রীড়া-মনোরঞ্জন পার্কের নকশা উপস্থাপিত হয়েছে। কুশনারের মানচিত্রে গাজার প্রায় অর্ধেক এলাকা আবাসিক হিসেবে চিহ্নিত, তবে কৃষি জমি সীমিত এবং অধিকাংশই অনুকূল নয় বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

বৈশ্বিক নেতারা, যাঁরা একই দিনে দাভোসে একত্রিত হয়েছিলেন, ট্রাম্পের প্রস্তাবিত ‘শান্তি পর্ষদ’ সনদে স্বাক্ষর করার জন্য সমাবেশিত হয়েছিলেন। প্রথমে গাজার পুনর্গঠন তদারকির জন্য এই সনদকে কেন্দ্রবিন্দু করা হয়েছিল, তবে পরে এটি মার্কিন নেতৃত্বাধীন বৃহত্তর ম্যান্ডেট কাউন্সিলের রূপ নেয়। ট্রাম্পের মতে, গাজার সফল পুনর্গঠন অন্য অঞ্চলের পুনর্গঠন প্রকল্পের জন্য মডেল হিসেবে কাজ করবে।

কুশনারের উপস্থাপিত মানচিত্রে গাজার অধিকাংশ এলাকা এখনও ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে, আর অবশিষ্ট অংশে প্রায় ২০ লক্ষ ফিলিস্তিনি অস্থায়ী শিবিরে বা ধ্বংসপ্রাপ্ত ভবনে বসবাস করছেন। এই পরিস্থিতিতে গাজার পুনর্গঠন প্রকল্প বাস্তবায়নকে জটিল করে তুলছে, কারণ অধিকাংশ বাসিন্দা সীমিত স্থান ও মৌলিক সেবার অভাবে কষ্ট পাচ্ছেন।

জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, অক্টোবর মাসে যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর গাজায় মানবিক সহায়তা প্রায় তিন গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। সরবরাহের বৃদ্ধির ফলে ২০২৩ সালের শেষের দিকে গাজার জনসংখ্যার মৌলিক চাহিদা কিছুটা পূরণ হয়েছে, তবে অবকাঠামোগত পুনর্গঠন ও দীর্ঘমেয়াদী স্থিতিশীলতা এখনও অনিশ্চিত।

বিশ্লেষকরা ইঙ্গিত করছেন যে মার্কিন সরকারের এই বৃহৎ পরিকল্পনা গাজার রাজনৈতিক পরিবেশে নতুন উত্তেজনা সৃষ্টি করতে পারে, বিশেষ করে যখন ফিলিস্তিনিদের স্বায়ত্তশাসন ও পুনর্গঠনের বাস্তব চাহিদা পরিকল্পনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। গাজার পুনর্গঠন প্রকল্পের বাস্তবায়ন কীভাবে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমর্থন পাবে এবং ইসরায়েলি নিরাপত্তা উদ্বেগের সঙ্গে কীভাবে সামঞ্জস্য করা হবে, তা আগামী মাসে রাজনৈতিক আলোচনার মূল বিষয় হয়ে দাঁড়াবে।

মার্কিন সরকার গাজার পুনর্গঠনকে একটি দীর্ঘমেয়াদী কৌশলগত উদ্যোগ হিসেবে উপস্থাপন করেছে, যেখানে প্রযুক্তি, পর্যটন এবং আধুনিক অবকাঠামোকে কেন্দ্রীয় ভূমিকা দেওয়া হয়েছে। তবে গাজার বাস্তব পরিস্থিতি, মানবিক সংকট এবং রাজনৈতিক জটিলতা এই দৃষ্টিভঙ্গিকে বাস্তবায়নের পথে বাধা হিসেবে রয়ে গেছে। ভবিষ্যতে গাজার পুনর্গঠন পরিকল্পনা কীভাবে রূপ নেবে এবং তা গাজার বাসিন্দাদের জীবনে কী প্রভাব ফেলবে, তা আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের নজরে থাকবে।

৮৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডিনিউজ২৪
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments