বহু দশক পর, ১৯৮৯ সালে শুট করা ‘হুম মেইন শাহেনশাহ কাউন’ চলচ্চিত্রটি এখন থিয়েটারে প্রদর্শনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। রাজিনিকান্ত, শত্রুঘন সিংহা এবং হেমা মালিনীর মুখ্য ভূমিকায় অভিনয় করা এই মল্টি-স্টারারটি ৩৭ বছর পর প্রথমবারের মতো দেশের সব সিনেমা হলের পর্দায় আসবে। চলচ্চিত্রটি রজা রয় ফিল্মসের অধীনে তৈরি হয়েছিল এবং বলিউড হাঙ্গামা ২৩ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে এই খবর প্রকাশ করেছে।
এই ছবিটি ১৯৮০-এর শেষের দিকে পরিকল্পনা করা হয়েছিল, যখন রাজিনিকান্তের উত্থান, শত্রুঘন সিংহার শক্তিশালী উপস্থিতি এবং হেমা মালিনীর ক্লাসিক স্টাইল একত্রিত হয়। তবে শুটিং শেষ হওয়ার পর বিভিন্ন কারণবশত ছবিটি মুক্তি পায়নি এবং দীর্ঘ সময় অপ্রকাশিত রইল।
সম্প্রতি ছবির মূল নেগেটিভগুলো ডিজিটালভাবে রেস্টোর করা হয়েছে। আধুনিক রঙ সংশোধন, সাউন্ড রিমাস্টারিং এবং ভিজ্যুয়াল ইফেক্টের আপডেটের মাধ্যমে ছবিটিকে বর্তমান দর্শকের চাহিদা অনুযায়ী সাজানো হয়েছে। রেস্টোরেশন কাজটি অভিজ্ঞ টেকনিশিয়ানদের তত্ত্বাবধানে সম্পন্ন হয়েছে, যাতে মূল শিল্পীর পারফরম্যান্সের স্বাদ অক্ষুণ্ণ থাকে।
এই রিলিজটি চলচ্চিত্রের ভক্তদের জন্য বিশেষ আকর্ষণ সৃষ্টি করেছে। রাজিনিকান্তের ভক্তরা, যিনি এখনো সক্রিয়ভাবে চলচ্চিত্রে কাজ করছেন, তার প্রাথমিক কাজগুলো দেখার সুযোগ পাবে। শত্রুঘন সিংহা এবং হেমা মালিনীর সঙ্গে তার পারস্পরিক ক্রিয়া ১৯৮০-এর দশকের স্মৃতি জাগিয়ে তুলবে এবং নতুন প্রজন্মের দর্শকদের জন্য একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত হবে।
চলচ্চিত্রটি এখন দেশের প্রধান শহরগুলোতে সমানভাবে প্রদর্শিত হবে। রজা রয় ফিল্মসের প্রকাশনা দল বলেছে, ছবিটি আধুনিক সাউন্ড সিস্টেম এবং ডিজিটাল প্রোজেকশন ফরম্যাটে থিয়েটারগুলোতে দেখানো হবে, যাতে পুরনো এবং নতুন উভয় দর্শকেরই অভিজ্ঞতা সমৃদ্ধ হয়।
‘হুম মেইন শাহেনশাহ কাউন’ এর উৎপাদন দল ছবির রিলিজের জন্য প্রচারমূলক কার্যক্রম চালু করেছে। পোস্টার, ট্রেলার এবং সামাজিক মাধ্যমে টিজার প্রকাশের মাধ্যমে আগ্রহ জাগিয়ে তোলা হয়েছে। যদিও ছবির বাণিজ্যিক দিকের তথ্য এখনো প্রকাশিত হয়নি, তবে শিল্পের বিশ্লেষকরা এটিকে একটি নস্টালজিক সাফল্য হিসেবে দেখছেন।
এই রিলিজটি ভারতের সিনেমা ইতিহাসে একটি বিরল ঘটনা, যেখানে তিনজন আইকনিক অভিনেতা একসাথে কাজ করা একটি চলচ্চিত্র বহু বছর পর দর্শকের সামনে আসে। চলচ্চিত্রের পুনরায় মুক্তি কেবল নস্টালজিয়া নয়, বরং পুরনো সিনেমার রেস্টোরেশন ও সংরক্ষণের গুরুত্বও তুলে ধরে।
‘হুম মেইন শাহেনশাহ কাউন’ এর থিয়েটার প্রদর্শন চলচ্চিত্রের ঐতিহ্যকে নতুন করে সংজ্ঞায়িত করবে এবং ভবিষ্যতে অনুরূপ রেস্টোরেশন প্রকল্পের জন্য মডেল হিসেবে কাজ করবে। দর্শকরা এখনই সিনেমা হলের টিকিট বুক করে এই অনন্য অভিজ্ঞতা উপভোগ করতে পারেন।



