অস্ট্রেলিয়ার স্বাধীন চলচ্চিত্র নির্মাতা অ্যাড্রিয়ান চিয়ারেলা পরিচালিত হরর ছবি ‘লেভিটিকাস’ ২৩ জানুয়ারি সানড্যান্স চলচ্চিত্র উৎসবে মধ্যরাতের সেকশনে প্রদর্শিত হয়েছে। ছবিটি কনভার্সন থেরাপি নামে পরিচিত গে যুবকদের মানসিক ও শারীরিক দমনকে ভয়াবহ রূপে উপস্থাপন করে। চলচ্চিত্রের মূল থিম হল সামাজিক ভয় ও ধর্মীয় জোরপূর্বক পরিবর্তনের মানসিক প্রভাব।
চিয়ারেলা কয়েক বছর আগে বিভিন্ন দেশে কুইয়ার কিশোর-কিশোরীদের ওপর পরিচালিত এক্সরসিজমের গল্প শুনে অনুপ্রাণিত হন। এক বন্ধুর বর্ণনা অনুযায়ী, তাওয়িস্ট পুরোহিত কুইয়ারিটি ছুরি দিয়ে কেটে ফেলা নকল করে দেখিয়েছিলেন, যা তাকে গভীরভাবে উদ্বেগের মধ্যে ফেলেছিল। এই ধরনের ভয়কে হরর ঘরানার মাধ্যমে অনুসন্ধান করার ইচ্ছা থেকেই ‘লেভিটিকাস’ের ধারণা গড়ে ওঠে।
চিত্রে নায়ক নায়িম (জো বার্ড অভিনীত) একাকী মায়ের সঙ্গে অস্ট্রেলিয়ার দূরবর্তী একটি শহরে স্থানান্তরিত হয়, যেখানে ধর্মীয় উগ্রতাবাদী সম্প্রদায়ের প্রভাব শক্তিশালী। শহরের পরিবেশ ও সামাজিক নিয়ম নায়িমের পরিচয়কে কঠোরভাবে সীমাবদ্ধ করে, যা তার অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বকে তীব্র করে তোলে।
নায়িমের সহপাঠী রায়ান (স্টেসি ক্লসেন অভিনীত) সঙ্গে তার সংক্ষিপ্ত প্রেমের সম্পর্ক প্রকাশ পেলে, স্থানীয় ধর্মীয় গোষ্ঠী নায়িমকে কনভার্সন থেরাপির শিকার করে। এই থেরাপি শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের এক চরম রূপ, যেখানে নায়িমকে তার যৌন পরিচয় থেকে মুক্তি পেতে বাধ্য করা হয়। থেরাপির পর নায়িমের সামনে একটি অদ্ভুত সত্তা প্রকাশ পায়, যা তার প্রেমিক রায়ানের রূপ ধারণ করে, ফলে তার বাস্তবতা ও ভয়ের সীমা মিশে যায়।
চিয়ারেলা এই থেরাপির বাস্তব প্রভাবকে শারীরিক ভয় এবং আত্ম-ঘৃণার মাধ্যমে চিত্রায়িত করতে গভীর গবেষণা করেন। তিনি উল্লেখ করেন, গে পরিচয়কে রাক্ষসেরূপে উপস্থাপন করা সহজ ফাঁদ, তাই তিনি নিজেকে জিজ্ঞাসা করেন, “এই চলচ্চিত্রের মাধ্যমে আসলে কী বলতে চাই?” এবং শেষমেশ সিদ্ধান্ত নেন যে প্রকৃত রাক্ষস হল সমাজের অযৌক্তিক ভয় ও জোরপূর্বক পরিবর্তনের চাপ।
চিত্রের প্রধান চরিত্র নায়িমের ভূমিকায় জো বার্ডের অভিনয়, তার মায়ের ভূমিকায় মিয়া ওয়াসিকোস্কা এবং রায়ানের ভূমিকায় স্টেসি ক্লসেনের পারফরম্যান্স সমালোচকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। এই কাস্টিং নায়কের মানসিক যাত্রাকে বাস্তবসম্মতভাবে তুলে ধরতে সহায়তা করে, বিশেষ করে রূপান্তর থেরাপির ভয়াবহতা প্রকাশে।
‘লেভিটিকাস’ কনভার্সন থেরাপির বাস্তব জীবনের ক্ষতিকর প্রভাবকে হরর ঘরানার মাধ্যমে প্রকাশ করে, যা দর্শকদের মধ্যে গভীর সমবেদনা ও সচেতনতা জাগিয়ে তুলতে লক্ষ্য রাখে। চলচ্চিত্রটি দেখায় কীভাবে ধর্মীয় উগ্রতা ও সামাজিক দমন গে যুবকদের মানসিক স্বাস্থ্যের উপর দীর্ঘস্থায়ী আঘাত হানে।
সানড্যান্সের মধ্যরাতের সেকশনে এই চলচ্চিত্রের প্রিমিয়ার দর্শকদের জন্য বিশেষ অভিজ্ঞতা প্রদান করেছে। উৎসবের এই সময়ে হরর চলচ্চিত্রের স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক মনোযোগ বৃদ্ধি পায়, এবং ‘লেভিটিকাস’কে সমালোচনামূলক আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে আসে।
প্রদর্শনের পর দর্শক ও সমালোচকরা চলচ্চিত্রের ভয়াবহ চিত্রায়ন ও সামাজিক বার্তাকে প্রশংসা করেন, যদিও কিছু মন্তব্যে কনভার্সন থেরাপির বাস্তব কষ্টকে যথাযথভাবে উপস্থাপন করার গুরুত্ব উল্লেখ করা হয়েছে। চলচ্চিত্রটি কুইয়ার অধিকার সংক্রান্ত আলোচনায় নতুন দৃষ্টিকোণ যোগ করেছে।
‘লেভিটিকাস’ কনভার্সন থেরাপি নিয়ে চলমান সামাজিক বিতর্কে একটি গুরুত্বপূর্ণ সাংস্কৃতিক অবদান রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে। হরর ঘরানার মাধ্যমে গে যুবকদের অভিজ্ঞতা ও ভয়কে দৃশ্যমান করে, চলচ্চিত্রটি সমান অধিকার ও মানবিক মর্যাদার পক্ষে একটি শক্তিশালী বার্তা প্রদান করে।



