জাতীয় নাগরিক দল (এনসিপি) আগামী ২৫ জানুয়ারি থেকে শুরু করে ১১ দিনের নির্বাচনী পদযাত্রা চালু করার ঘোষণা দিল। দলটি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ঘুরে ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ স্থাপন করবে এবং একই সঙ্গে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করার দাবি তুলে ধরবে।
এই সিদ্ধান্তটি ২৩ জানুয়ারি, শুক্রবার, ঢাকার রাজধানীতে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে দলীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া জানিয়ে দেন। তিনি উল্লেখ করেন, এনসিপি দেশের ২৭০টি আসনের জন্য প্রার্থীর তালিকাও প্রকাশ করেছে।
আসিফ মাহমুদ নির্বাচন কমিশনের কার্যপ্রণালীর ওপর কঠোর সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, বর্তমান কমিশনের তত্ত্বাবধানে সমান সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা যাচ্ছে না, ফলে নির্বাচনের নিরপেক্ষতা নিয়ে জনমনে সন্দেহ তৈরি হচ্ছে। কমিশনকে দলীয়করণ থেকে সরে এসে ন্যায়সঙ্গত ভূমিকা পালন করতে আহ্বান জানানো হয়।
চেয়ারম্যানের মতে, নির্বাচনী প্রচারণার প্রথম দিন থেকেই একটি রাজনৈতিক দল ও তার চেয়ারম্যান তারেক রহমানের আচরণবিধি লঙ্ঘন হচ্ছে। তিনি গভীর রাতে মাইকের শব্দে প্রচারণা চালানো, পোস্টার ও মাইক ব্যবহারে বিধিনিষেধ অমান্য করা ইত্যাদি অভিযোগ তুলে বলেন, এসব কাজের ফলে সমতা নষ্ট হচ্ছে।
আসিফ মাহমুদ আরও জোর দিয়ে বলেন, “নির্বাচনকে অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য করতে হলে কেন্দ্রগুলোতে সেনাবাহিনীকে নিজস্ব ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা দিতে হবে এবং সব ভোটকেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করতে হবে।” তিনি নিরাপত্তা ও পর্যবেক্ষণের দিক থেকে এই পদক্ষেপগুলোকে অপরিহার্য বলে উল্লেখ করেন।
মাধ্যমিক ভূমিকা নিয়ে তিনি সতর্কতা প্রকাশ করেন। মিডিয়াতে দলীয়করণের প্রবণতা পুনরায় দেখা যাচ্ছে, যা অতীতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে এবং ভবিষ্যতেও তা বাড়তে পারে বলে তিনি আশঙ্কা করেন। সকল রাজনৈতিক দলকে সমানভাবে কভারেজ দেওয়ার জন্য মিডিয়া হাউসগুলোকে আহ্বান জানান।
প্রেস কনফারেন্সে উল্লেখ করা হয়, এনসিপি ২৭০টি আসনের জন্য প্রার্থীর তালিকা ইতিমধ্যে প্রকাশ করেছে। তালিকায় বিভিন্ন পেশা ও সামাজিক গোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে, যাতে ভোটারদের বিস্তৃত পছন্দের সুযোগ থাকে।
দলটি দাবি করে, লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত না হলে ভোটারদের আস্থা হারিয়ে যাবে এবং নির্বাচনের ফলাফল প্রশ্নবিদ্ধ হবে। তাই, নির্বাচন কমিশনের তদারকি শক্তিশালী করা এবং সকল প্রার্থীর সমান সুযোগ প্রদান করা জরুরি।
এনসিপি এছাড়াও ভোটার তালিকা পরিষ্কার করা, ভোটারদের পরিচয় যাচাই প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করা এবং ভোটার শিক্ষা কার্যক্রম বাড়ানোর প্রস্তাব দেয়। এসব ব্যবস্থা ভোটারদের অংশগ্রহণ বাড়াবে এবং ভোটের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করবে।
দলীয়করণ ও মিডিয়া পক্ষপাতের বিরুদ্ধে চেয়ারম্যানের মন্তব্যের পর, কিছু মিডিয়া বিশ্লেষক মন্তব্য করেন যে স্বাধীনতা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে মিডিয়ার ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। তবে বিশ্লেষকরা কোনো নির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা না দিয়ে বিষয়টি উন্মুক্ত রাখেন।
জাতীয় নাগরিক দল নির্বাচনী পদযাত্রা শুরু করার আগে নিরাপত্তা ব্যবস্থার ব্যাপারে স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করার পরিকল্পনা জানায়। তিনি বলেন, ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা এই প্রচারণার মূল লক্ষ্য।
সংবাদ সম্মেলনের শেষ অংশে আসিফ মাহমুদ উল্লেখ করেন, এনসিপি দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে একটি স্বচ্ছ ও ন্যায়সঙ্গত প্রক্রিয়া গড়ে তুলতে সব স্টেকহোল্ডারকে একত্রে কাজ করতে আহ্বান জানাচ্ছেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সকল পক্ষের সহযোগিতায় একটি সুষ্ঠু জাতীয় নির্বাচন সম্ভব হবে।



