27 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিজামায়াত-এ-ইসলামি আমির শফিকুর রহমান রংপুরে নির্বাচনী রালিতে মিথ্যা আশ্বাস না দিয়ে মদিনা...

জামায়াত-এ-ইসলামি আমির শফিকুর রহমান রংপুরে নির্বাচনী রালিতে মিথ্যা আশ্বাস না দিয়ে মদিনা গড়ার প্রতিশ্রুতি দিলেন

১৩তম সংসদ নির্বাচনের প্রচারের দ্বিতীয় দিনে, জামায়াত-এ-ইসলামি আমির শফিকুর রহমান রংপুর জেলা ও মহানগর এলাকার নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত হয়ে পার্টির মূল নীতি ও পরিকল্পনা উপস্থাপন করেন। অনুষ্ঠানটি শুক্রবার রাত প্রায় ৮:৩০ টায় অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে তিনি বেকারত্ব মোকাবিলার নতুন দৃষ্টিভঙ্গি এবং ধর্মনিরপেক্ষতা বজায় রাখার প্রতিশ্রুতি জানান।

শফিকুর রহমান রংপুরের ছয়টি সংসদীয় আসনে জামায়াতের নেতৃত্বাধীন দশ দলীয় জোটের প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দিয়ে ভোটারদের সমর্থন চেয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেন, পার্টি বেকার ভাতা দিয়ে ‘বেকারের কারখানা’ গড়তে চায় না; বরং বেকারত্ব হ্রাসের জন্য যোগ্যতা অনুযায়ী গৌরবময় কাজের ব্যবস্থা করবে। এই নীতি অনুসারে, বেকার ভাতার পরিবর্তে মর্যাদাপূর্ণ কর্মসংস্থান প্রদান করা হবে, যা দেশের অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতা বাড়াবে।

ধর্মীয় বিষয়েও তিনি স্পষ্ট সুরে বলেন, ধর্ম চাপিয়ে দেওয়া নয়, বরং ধর্মকে ব্যক্তিগত অনুভূতির বিষয় হিসেবে গণ্য করা হবে। তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশকে পাকিস্তান, আফগানিস্তান বা ইরান মতো কোনো মডেল দেশে রূপান্তর করার কোনো ইচ্ছা নেই; বরং দেশের ভবিষ্যৎকে ‘মদিনা’র আদর্শে গড়ে তোলার লক্ষ্য রাখে। এই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি দেশের ন্যায়-ইনসাফ ও ন্যায়বিচারকে কেন্দ্র করে একটি স্বচ্ছ ও ন্যায়সঙ্গত সমাজ গড়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেন।

শফিকুর রহমান তিস্তা নদীর উন্নয়ন পরিকল্পনাকে পার্টির অগ্রাধিকার হিসেবে তুলে ধরেন। তিনি বলেন, তিস্তা প্রকল্পের কোনো বিকল্প নেই এবং সরকার ক্ষমতায় আসার পর প্রথম কাজ হবে তিস্তা নদীর সজীবতা নিশ্চিত করা। তিস্তা সজীব হলে উত্তরাঞ্চলের কৃষি ও বাণিজ্যিক কার্যক্রমে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে, যা উত্তরবঙ্গের সামগ্রিক উন্নয়নে সহায়তা করবে।

বেকারত্ব হ্রাসের পাশাপাশি শফিকুর রহমান জোর দিয়ে বলেন, জামায়াত-এ-ইসলামি কোনো অবৈধ মামলা বা চাঁদাবাজি করবে না। তিনি উল্লেখ করেন, পার্টি হাজার হাজার মামলা দায়ের করেনি এবং নিরীহ নাগরিকদের জেলে খাওয়ানোর কোনো ইচ্ছা নেই। এই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি পার্টির আইনি নীতি ও নৈতিক দায়িত্বের প্রতি প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন।

রংপুরের জনসাধারণের প্রতি শফিকুরের মন্তব্যে দেখা যায়, তিনি স্থানীয় মানুষকে ‘সৎ ভাই’ হিসেবে প্রশংসা করেন এবং উল্লেখ করেন, রংপুর ও উত্তরাঞ্চল দেশের শস্যভাণ্ডার। তবে তিনি স্বীকার করেন, কিছু সময়ে মানুষ নিজের দাবিগুলো স্পষ্টভাবে প্রকাশ করতে পারে না, যা রাজনৈতিক আলোচনার জন্য একটি চ্যালেঞ্জ।

এই রালির শেষে শফিকুর রহমান আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি নির্ধারিত সংসদীয় নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়ে পার্টির কর্মসূচি পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি ভোটারদের আহ্বান জানান, নির্বাচনে অংশগ্রহণের মাধ্যমে দেশের ভবিষ্যৎ গঠনে সক্রিয় ভূমিকা নিতে।

প্রতিপক্ষের দৃষ্টিকোণ থেকে, রংপুরে অনুষ্ঠিত এই রালির পর অবিলম্বে কোনো রাজনৈতিক দল থেকে সরাসরি মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে পূর্বে বিরোধী দলগুলো জামায়াত-এ-ইসলামির ধর্মনিরপেক্ষতা ও তিস্তা প্রকল্পের বাস্তবায়নযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। এই রকম মন্তব্যগুলো ভবিষ্যৎ নির্বাচনী আলোচনায় পুনরায় উঠে আসতে পারে।

শফিকুরের বক্তব্যের মূল বিষয়গুলো সংক্ষেপে বলা যায়: মিথ্যা প্রতিশ্রুতি না দিয়ে বাস্তবসম্মত কর্মসংস্থান সৃষ্টির পরিকল্পনা, ধর্মনিরপেক্ষ নীতি বজায় রাখা, তিস্তা নদীর সজীবতা নিশ্চিত করে উত্তরবঙ্গের উন্নয়ন ত্বরান্বিত করা, এবং পার্টির আইনি নীতি ও নৈতিকতা রক্ষা করা। এই নীতিগুলোকে ভিত্তি করে জামায়াত-এ-ইসলামি আগামী নির্বাচনে ভোটারদের সমর্থন অর্জনের লক্ষ্যে কাজ করবে।

সংসদীয় নির্বাচনের দিন নিকটবর্তী হওয়ায়, রংপুরে অনুষ্ঠিত এই রালির মাধ্যমে জামায়াত-এ-ইসলামি তার ভোটার ভিত্তি শক্তিশালী করতে চায় এবং দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপটে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি উপস্থাপন করতে চায়।

৮৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডিনিউজ২৪
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments