28 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeঅপরাধনওগাঁতে ১৯ মাস পর সুমনের হাড়গোড়া উদ্ধার, শাফিউল গ্রেপ্তার

নওগাঁতে ১৯ মাস পর সুমনের হাড়গোড়া উদ্ধার, শাফিউল গ্রেপ্তার

নওগাঁ জেলার আত্রাই উপজেলায় ২০ জুন ২০২৪ রাত ১১ টা ৪৫ মিনিটে সুমন (৩৯) তার বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান এবং ফিরে না আসার পর পরিবার তাকে খুঁজতে বের হয়। দুই দিন পর, ২২ জুন, পরিবারের সদস্যরা স্থানীয় থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি দাখিল করে নিখোঁজের খবর জানায়।

সুমনের বাড়ির পাশে ইটের টুকরায় রক্তের দাগ দেখা যায় এবং তা পুলিশকে জানানো হয়। রক্তের নমুনা পরীক্ষা করে ডিএনএ বিশ্লেষণে শিকারের রক্তের সঙ্গে মেলানো হয়, ফলে শিকারের পরিচয় নিশ্চিত করা যায়।

শিকারের স্ত্রী ১৫ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে আত্রাই থানায় মামলাটি দাখিল করেন, তবে প্রাথমিক তদন্তে কোনো দৃঢ় সূত্র পাওয়া যায় না। ফলে মামলাটি দীর্ঘ সময় অচল থাকে।

প্রায় এক সপ্তাহ আগে, শিকারের আত্মীয়-স্বজন পুলিশ সুপারভাইজার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলামের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। তারিকুল ইসলাম মামলাটিকে অগ্রাধিকার দিতে অতিরিক্ত ক্রাইম সুপার এবং আত্রাই থানা অফিসার ইনচার্জকে নির্দেশ দেন, যাতে তদন্তে নতুন দিক যোগ হয়।

প্রযুক্তিগত সহায়তা ব্যবহার করে সন্দেহভাজন শাফিউলকে শনাক্ত করা হয় এবং তাকে গ্রেফতার করা হয়। শাফিউল, যিনি শিকারের একই গ্রাম কয়শার বাসিন্দা, জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেন যে ২০ জুন রাতে তিনি ও তার ছোট ভাই সায়েম শিকারের বাড়ি থেকে তাকে ডেকে নেন।

শিকারের মাথায় ইটের আঘাতে মারাত্মক আঘাত হানার পর, দুই ভাই তাকে নিকটবর্তী নির্জন রাস্তায় গড়িয়ে ফেলে। শিকারের দেহ গোপনে গুম করার জন্য তারা ডোবা নামের নিম্নভূমি এলাকায় মাটি দিয়ে চাপা দিয়ে রাখে।

শিকারের হাড়গোড়া এবং বিচ্ছিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের সন্ধান কয়শা গ্রামের রমজানের পুকুরে করা হয়। পুকুরের পানির ডোবা সেচে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে হাড়গোড়া উদ্ধার করা হয়, যা তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে কাজ করে।

পুলিশের মতে, শিকারের দেহের অবস্থান ও হাড়গোড়ার বিশ্লেষণ থেকে হত্যার পদ্ধতি ও গোপন করার প্রক্রিয়া স্পষ্ট হয়েছে। শিকারের পরিবারকে পুনরায় দুঃখের মধ্যে রেখে, এই প্রমাণগুলো মামলাকে নতুন দিক দেয়।

শাফিউলকে বর্তমানে অপরাধমূলক দফতরে হেফাজতে রাখা হয়েছে এবং তাকে হত্যা ও দেহ গুম করার অভিযোগে আইনি প্রক্রিয়া শুরু করা হবে। সংশ্লিষ্ট তদন্তকারী কর্মকর্তারা শিকারের মৃতদেহের পুনরুদ্ধার, ডিএনএ মিল, এবং শাফিউলের স্বীকারোক্তি ভিত্তিক প্রমাণগুলো আদালতে উপস্থাপন করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

নওগাঁ পুলিশ সুপারভাইজার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম উল্লেখ করেন যে, এই মামলাটি দীর্ঘ সময়ের নিখোঁজের পর সমাধান হয়েছে এবং ভবিষ্যতে জেলা পর্যায়ের অপরাধ দমন ও তদন্তে একই রকম দৃঢ়তা বজায় রাখা হবে।

অধিক তদন্তের অংশ হিসেবে, শিকারের পরিবারের সঙ্গে অতিরিক্ত সাক্ষাৎকার নেওয়া হবে এবং শাফিউল ও সায়েমের পূর্বের অপরাধমূলক রেকর্ড যাচাই করা হবে। এছাড়া, ডোবা এলাকায় গৃহস্থালীর নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও প্রতিবেশীর জানার জন্য স্থানীয় কমিটি গঠন করা হবে।

শিকারের হাড়গোড়া পুনরুদ্ধার ও সন্দেহভাজনের গ্রেফতার পর, আদালতে মামলার শোনানির তারিখ নির্ধারণের অপেক্ষা চলছে। সংশ্লিষ্ট আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে, শিকারের পরিবারকে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার জন্য যথাযথ শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: Banglastream
অপরাধ প্রতিবেদক
অপরাধ প্রতিবেদক
AI-powered অপরাধ content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments