জন হ্যাম এবং জন স্ল্যাটারি, পূর্বের “ম্যাড মেন” সহ-অভিনেতা, ডেভিড ওয়েইনের নতুন সানড্যান্স কমেডি ছবিতে আবার একসাথে কাজ করছেন। ছবিতে দুজনই নিজেদেরই চরিত্রে অভিনয় করবেন, যা উভয়ের জন্যই অপ্রত্যাশিত সুযোগ হিসেবে বিবেচিত। এই পুনর্মিলনটি চলচ্চিত্রের প্রচারকে নতুন দৃষ্টিকোণ থেকে উন্মোচন করেছে।
জন স্ল্যাটারি বুদাপেস্টে পোস্ট‑ওয়ার দ্বিতীয় নাটক “নুরেমবার্গ” শুটিংয়ের মাঝামাঝি হ্যামের কাছ থেকে ফোন পেয়েছিলেন। হ্যাম, যিনি স্ল্যাটারির পুরনো সহকর্মী, তাকে ডেভিড ওয়েইনের নতুন প্রকল্পের কথা জানিয়ে দেন। ওয়েইন হলেন “ওয়েট হট আমেরিকান সামার”, “চিলড্রেনস হসপিটাল” এবং অন্যান্য অদ্ভুত কমেডির পেছনের স্রষ্টা।
ওয়েইন স্ল্যাটারির জন্য বিশেষভাবে একটি চরিত্র তৈরি করেছিলেন, যার নামও “জন স্ল্যাটারি”। এই চরিত্রটি শুধুমাত্র স্ল্যাটারির অভিনয়শৈলীর সঙ্গে মানানসই বলে তিনি বিশ্বাস করেন। স্ল্যাটারি, জেটল্যাগে ভুগছিলেন, তবু স্ক্রিপ্টের জন্য ওয়েইনের সঙ্গে টেক্সটের মাধ্যমে যোগাযোগ করেন এবং রাত জুড়ে গেইল ডগট্রি ও “সেলিব্রিটি সেক্স পাস” উপন্যাসের পৃষ্ঠাগুলি ঘুরে দেখেন।
ফিল্মের মূল কাহিনী একটি মধ্য-পশ্চিমের কনিষ্ঠ কনে সম্পর্কে, যিনি তার বাগদত্তার সঙ্গে তার সেলিব্রিটি “হল পাস”—জন হ্যাম—কে খুঁজে বের করার জন্য লস এঞ্জেলেসে এক অদ্ভুত যাত্রা শুরু করেন। হ্যামের চরিত্রটি তার স্বামী যে সেলিব্রিটি সঙ্গে সম্পর্ক রাখে, তার প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে উপস্থাপিত। স্ল্যাটারির চরিত্রটি, যাকে মাদ মেনের স্বর্ণযুগের পর কঠিন সময়ে ভুগতে হয়, ভ্যালিতে বাস করে এবং হ্যামের অনুসন্ধানে সহায়তা করে।
স্ল্যাটারি প্রথমবার স্ক্রিপ্টটি পড়ার সময় এটিকে “মজার, অদ্ভুত এবং আগে কখনো না করা” বলে বর্ণনা করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে এই প্রকল্পটি তার জন্য এক নতুন সৃজনশীল চ্যালেঞ্জের মতো। হ্যাম ইতিমধ্যে প্রকল্পে স্বাক্ষর করে ছিলেন, কারণ তিনি ওয়েইন এবং তার দীর্ঘমেয়াদী সৃজনশীল সঙ্গী কেন মারিনোর সঙ্গে দুই দশকের বেশি সময় ধরে কাজ করছেন।
হ্যাম বলেন, তিনি “ওয়েট হট আমেরিকান সামার” সিনেমা থিয়েটারে দেখেছিলেন, যেখানে পল রাডও ছিলেন। সেই সময়ে অ্যামি পোহলার ও ব্র্যাডলি কুপার এখনও অজানা নাম ছিল, কিন্তু হ্যাম সেই তরুণ শিল্পীদের সঙ্গে কাজের সুযোগকে মজার এবং উদ্দীপনাময় হিসেবে স্মরণ করেন। পরে তিনি ওয়েইনের “দ্য টেন” ছবিতে এক ক্ষণিকের ছোট ভূমিকা পালন করেন এবং “ওয়েট হট আমেরিকান সামার” স্পিন‑অফ সিরিজে অংশ নেন।
গেইল ডগট্রির কাজ, যার কাজের শিরোনাম প্রাথমিকভাবে “আইল টেক দ্য হ্যাম” ছিল, হ্যামের জন্য আকর্ষণীয় সুযোগ হয়ে ওঠে। তিনি উল্লেখ করেন যে কেন মারিনো ও ডেভিড ওয়েইনের দৃষ্টিকোণ থেকে নিজের চরিত্রকে দেখার অভিজ্ঞতা বেশ মজাদার। এই প্রকল্পে তিনি নিজের স্বভাবকে নতুন রূপে উপস্থাপন করার সম্ভাবনা দেখেন।
চিত্রনাট্যটি হ্যাম এবং স্ল্যাটারির বাস্তব জীবনের পারস্পরিক সম্পর্ককে কমেডি ফরম্যাটে উপস্থাপন করে, যা দর্শকদের জন্য স্বতঃস্ফূর্ত হাস্যরসের উৎস হতে পারে। উভয় অভিনেতা তাদের পূর্বের কাজের সঙ্গে তুলনা না করে, নতুন চরিত্রে নিজস্ব স্বকীয়তা যোগ করছেন। ছবির নির্মাণে সানড্যান্স চলচ্চিত্র উৎসবের পরিবেশকে কাজে লাগিয়ে আন্তর্জাতিক দর্শকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হবে।
প্রকল্পের প্রাথমিক শিরোনাম “আইল টেক দ্য হ্যাম” ছিল, তবে পরে তা পরিবর্তন করে বর্তমান শিরোনাম গ্রহণ করা হয়েছে। এই পরিবর্তনটি চলচ্চিত্রের মূল থিমকে আরও স্পষ্টভাবে প্রকাশ করে, যেখানে দুজনই নিজেদেরই চরিত্রে অভিনয় করে বাস্তবতা ও কল্পনার সীমানা মুছে দেয়।
সানড্যান্সে এই কমেডি ছবির প্রিমিয়ার হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে শিল্প সমালোচকরা উভয় অভিনেতার পারফরম্যান্সের ওপর দৃষ্টি নিবদ্ধ করবেন বলে আশা করা হচ্ছে। হ্যাম এবং স্ল্যাটারির পুনর্মিলনটি শুধু নস্টালজিক নয়, বরং নতুন সৃজনশীল দৃষ্টিকোণ থেকে চলচ্চিত্রকে সমৃদ্ধ করবে।
চিত্রনাট্যকার এবং পরিচালক ডেভিড ওয়েইন এই প্রকল্পকে তার পূর্বের কাজের তুলনায় আরও স্বতঃস্ফূর্ত এবং অপ্রত্যাশিত রসিকতা যুক্ত করতে চেয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেন যে হ্যাম ও স্ল্যাটারির স্বাভাবিক রসিকতা ও অভিনয়শৈলী ছবির মূল শক্তি হবে।
উল্লেখযোগ্য যে, হ্যাম এবং স্ল্যাটারির পুনর্মিলনটি শুধুমাত্র তাদের ব্যক্তিগত বন্ধুত্বের পুনরায় জোরদার নয়, বরং মাদ মেনের ভক্তদের জন্যও একটি বিশেষ উপহার। উভয়ই তাদের ক্যারিয়ারের বিভিন্ন পর্যায়ে নতুন চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করে শিল্পে অবদান রাখছেন।
চলচ্চিত্রটি সানড্যান্সের মূল প্রোগ্রামে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার পর, আন্তর্জাতিক বাজারে বিক্রয়ের সম্ভাবনা বাড়বে বলে বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন। হ্যাম ও স্ল্যাটারির নামের আকর্ষণ এবং ওয়েইনের অনন্য কমেডি শৈলী মিলিয়ে ছবিটি বক্স অফিসে সফলতা অর্জন করতে পারে।
সামগ্রিকভাবে, ডেভিড ওয়েইনের নতুন সানড্যান্স কমেডি ছবিতে জন হ্যাম এবং জন স্ল্যাটারির পুনর্মিলনটি চলচ্চিত্র জগতে একটি তাজা বাতাস নিয়ে এসেছে। উভয়ের পারস্পরিক সমন্বয় এবং স্ক্রিপ্টের অদ্ভুততা দর্শকদের জন্য নতুন হাস্যরসের দিগন্ত উন্মোচন করবে।



