খুলনা জেলার ডুমুরিয়া উপজেলার আরাফাত নগর এলাকায় নির্বাচনী সমাবেশের পর শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার ১৯৭১ সালের রাজাকার বিষয়টি শেহরী মুহিবুর রহমানের জীবদ্দশায় সমাধান করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেন। তিনি উল্লেখ করেন, এই বিষয়টি নতুন নয় এবং তা ইতিমধ্যে নিষ্পত্তি করা হয়েছে।
পরওয়ার বলেন, স্বাধীনতার পর ত্রিদেশীয় চুক্তির মাধ্যমে রাজনৈতিক সমাধান গৃহীত হয়। পাকিস্তান, ভারত ও বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা ঐ চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন, যা পরবর্তীতে সিমলা চুক্তি ও ‘ফরগিভ অ্যান্ড ফরগেট’ নীতির মাধ্যমে আরও দৃঢ় হয়। তিনি উল্লেখ করেন, শেহরী মুহিবুর রহমান তখন সাধারণ দায়মুক্তি ঘোষণা করে এবং সহযোগী আইন বাতিল করে দেন।
এছাড়া তিনি জোর দিয়ে বলেন, শেহরী মুহিবুর রহমান দেশের সকল নাগরিককে একত্রে নিয়ে দেশ পরিচালনা করতে চেয়েছিলেন। এই নীতি পরে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানও অনুসরণ করেন। বর্তমান রাজনৈতিক পরিবেশে ১৯৭১ সালের বিষয়টি পুনরায় উত্থাপনের প্রেক্ষাপটে তিনি সতর্ক করেন, এই ধরনের ব্যবহার রাজনৈতিক স্বার্থে বিভাজন সৃষ্টি করার উদ্দেশ্যে করা হচ্ছে।
গোলাম পরওয়ার উল্লেখ করেন, “আপনারা যদি সঙ্গে থাকেন, তবে সঙ্গী, না থাকলে জঙ্গি”—এই মানসিকতা ফ্যাসিবাদী আচরণের প্রতিফলন। তিনি দাবি করেন, ১৯৯১ সালের নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামের সমর্থন ছাড়া সরকার গঠন সম্ভব ছিল না এবং তখন বিএনপিকে কোনো ভাগাভাগি ছাড়া নিঃশর্ত সমর্থন প্রদান করা হয়েছিল।
পরওয়ারের মতে, সেই সময় দেশের ভবিষ্যৎ ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার স্বার্থে জামায়াতে ইসলামী ঐ সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। তিনি অতিরিক্তভাবে উল্লেখ করেন, ত্রিদেশীয় চুক্তি, সিমলা চুক্তি এবং ‘ফরগিভ অ্যান্ড ফরগেট’ নীতি একত্রে ১৯৭১ সালের রাজাকার বিষয়টি সমাধানের মূল ভিত্তি গঠন করেছে।
এই মন্তব্যের পর, সমাবেশে উপস্থিত অংশগ্রহণকারীরা তার বক্তব্যে সম্মতি জানায় এবং রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ঐতিহাসিক বিষয়ের পুনরায় আলোচনার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যায়।
গোলাম পরওয়ার শেষ করে বলেন, বর্তমান সময়ে ১৯৭১ সালের বিষয়টি পুনরায় তোলা রাজনৈতিক স্বার্থের জন্য করা হচ্ছে এবং তা দেশের ঐক্য ও সংহতি ক্ষুণ্ণ করতে পারে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ঐতিহাসিক সমাধানগুলোকে পুনরায় প্রশ্নবিদ্ধ করা উচিত নয়, বরং দেশের উন্নয়ন ও শান্তিপূর্ণ ভবিষ্যৎ গঠনের দিকে মনোযোগ দেওয়া দরকার।
এই বক্তব্যের পর, উপস্থিত সাংবাদিক ও বিশ্লেষকরা ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন তুলেন, বিশেষ করে ২০২৬ সালের নির্বাচনী পরিবেশে এই ধরনের ঐতিহাসিক রেফারেন্স কীভাবে ব্যবহার হবে তা নিয়ে। তবে গোলাম পরওয়ার স্পষ্টভাবে বলেন, জামায়াতে ইসলামী সবসময় দেশের সার্বভৌমত্ব ও স্বার্থ রক্ষার জন্য কাজ করবে।
সামগ্রিকভাবে, গোলাম পরওয়ারের মন্তব্য ১৯৭১ সালের রাজাকার বিষয়ের ঐতিহাসিক সমাধানকে পুনরায় জোরদার করে এবং বর্তমান রাজনৈতিক আলোচনায় এই বিষয়ের ব্যবহারকে সমালোচনা করে। তিনি ঐতিহাসিক চুক্তি ও নীতিগুলোর গুরুত্ব তুলে ধরে, যা দেশের ঐক্য ও শান্তি বজায় রাখতে সহায়ক।
এই বিবৃতি দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ঐতিহাসিক বিষয়ের পুনরাবৃত্তি ও তার ব্যবহার নিয়ে নতুন আলোচনার সূচনা করতে পারে, বিশেষ করে নির্বাচনী সময়ে। ভবিষ্যতে এই ধরনের মন্তব্যের প্রভাব কী হবে তা রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা পর্যবেক্ষণ করবেন।



