রংপুরের পাবলিক লাইব্রেরি গ্রাউন্ডে শুক্রবার রাতের নির্বাচনী র্যালিতে জামাত‑ই‑ইসলামির আমীর শাফিকুর রহমান তার রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেন। তিনি জানিয়ে দেন, জামাত‑ই‑ইসলামি শাসন গ্রহণ করলে বাংলাদেশ তার স্বতন্ত্র পরিচয় বজায় রাখবে এবং পাকিস্তান, আফগানিস্তান বা ইরানের মতো কোনো রূপ নেবে না। এই বক্তব্যের পেছনে দলটির ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও বর্তমান সরকারের নীতির সমালোচনা রয়েছে।
শাফিকুর রহমান র্যালিতে বলেন, “আমরা বাংলাদেশকে আরও সমৃদ্ধ ও মানবিক রাষ্ট্রে রূপান্তরিত করতে চাই। শাসনকালে মদিনার সনদকে মডেল হিসেবে গ্রহণ করে ন্যায়বিচার ও আইনের শাসন নিশ্চিত করব, যাতে সব ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষ সমান অধিকার ভোগ করতে পারে।” তিনি এভাবে দেশের মৌলিক নীতি ও ধর্মনিরপেক্ষতা বজায় রাখার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন।
বেকারত্ব দূর করার প্রতিশ্রুতি তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন। “আমরা মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভোটের হাওয়া নেব না; তবে বেকারত্বের শাপ থেকে দেশের প্রতিটি পরিবারকে মুক্ত করার লক্ষ্য রাখি,” শাফিকুর বলেন। এই প্রতিশ্রুতি দেশের তরুণ শ্রমশক্তির উদ্বেগের প্রতিক্রিয়া হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।
দলীয় নেতৃত্বের মধ্যে পারদর্শিতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে তিনি জোর দেন, “দলীয় কর্মীদের দুর্নীতি আমাদের নেতৃত্বকে ফ্যাসিস্টে পরিণত করতে পারে না। জামাত‑ই‑ইসলামি ন্যায়বিচারের ভিত্তিতে রাজনীতি করবে, যেখানে সক্রিয় সদস্য ও নেতারা আইনের সামনে সমান হবে।” এই বক্তব্যে তিনি রাজনৈতিক নৈতিকতা ও আইনশৃঙ্খলার গুরুত্ব তুলে ধরেন।
বহুবার শাসনরত আওয়ামী লীগের প্রধান শেখ হাসিনার প্রতি তার সমালোচনা তীব্র। “তিনি মানবতার মা নয়, বরং নিষ্ঠুরতার মা,” শাফিকুর বলেন, যা সরকারী নীতি ও মানবাধিকার সংক্রান্ত বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করে। তিনি নতুন কোনো ফ্যাসিস্ট শাসনের সম্ভাবনা দূর করতে চান এবং স্বচ্ছ রাজনৈতিক পরিবেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানান।
শাফিকুরের মতে, ৫ই আগস্ট ২০২৪ সালের পর দেশের শান্তি বজায় রাখতে ব্যর্থতা এবং অব্যাহত অরাজকতা সমস্যার মূল। “মিথ্যা মামলায় দেশ ভরে গেছে, নির্দোষ মানুষকে অভিযুক্ত ও শোষণ করা হচ্ছে,” তিনি উল্লেখ করেন, যা বর্তমান আইনি ব্যবস্থার দুর্বলতা ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের ইঙ্গিত দেয়।
রংপুর অঞ্চলের উন্নয়ন নিয়ে তিনি হতাশা প্রকাশ করেন। “৫৪ বছর পার হলেও রংপুরে কোনো উল্লেখযোগ্য উন্নয়ন দেখা যায়নি,” শাফিকুর বলেন। তিনি উল্লেখ করেন, উত্তরাঞ্চল দেশের ধানভাণ্ডার, তবু কৃষকদের জীবনযাত্রা উন্নত হয়নি। এই মন্তব্য স্থানীয় ভোটারদের মধ্যে বিদ্যমান অবহেলার অনুভূতি প্রকাশ করে।
যদি জামাত‑ই‑ইসলামি শাসন গ্রহণ করে, তবে শাফিকুর উন্নয়নমূলক পদক্ষেপের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, “শক্তিশালী নীতি ও কার্যকরী পরিকল্পনার মাধ্যমে রংপুরের অবকাঠামো, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন করা হবে,” যা নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি হিসেবে উল্লেখযোগ্য।
এই র্যালির মাধ্যমে শাফিকুরের বক্তব্য দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপটে নতুন আলো ফেলতে পারে। জামাত‑ই‑ইসলামির শাসনকালে ন্যায়বিচার, স্বচ্ছতা ও বেকারত্বমুক্তি কীভাবে বাস্তবায়িত হবে, তা নির্বাচনের ফলাফলের ওপর নির্ভরশীল। একই সঙ্গে, শাসন পরিবর্তনের পর দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা কীভাবে বজায় থাকবে, তা রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন রয়ে যায়।
শাফিকুরের র্যালি বক্তৃতা দেশের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা, সরকারী নীতি ও বিরোধী দলের অবস্থান স্পষ্ট করে। তার মন্তব্যগুলো নির্বাচনের পূর্বে ভোটারদের মনোভাব গঠনে প্রভাব ফেলবে এবং রাজনৈতিক পার্টিগুলোর কৌশল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।



