২৩ জানুয়ারি ২০২৬, শুক্রবার কুমিল্লা জেলায় অবস্থিত দেবিদ্বার নিউ মার্কেট জামে মসজিদে ১০ দলীয় জোটের কুমিল্লা-৪ আসনের প্রার্থী হাসনাত আবদুল্লাহ তার নির্বাচনী প্রচার চালু করেন। তিনি স্থানীয় ন্যাশনাল কংগ্রেস পার্টি (NCP) তরুণ সদস্য, পাশাপাশি দেবিদ্বার জামাতের নেতৃবৃন্দ ও কর্মীদের সঙ্গে মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন।
প্রচারভ্রমণটি মসজিদের প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত একটি সমাবেশে শুরু হয়, যেখানে উপস্থিত ভক্তদের সঙ্গে হাসনাত তার রাজনৈতিক লক্ষ্য ও পরিকল্পনা তুলে ধরেন। সমাবেশে স্থানীয় নেতাদের সমর্থন ও উচ্ছ্বাসের সাড়া শোনা যায়, যা তার প্রচারাভিযানের শক্তি বাড়িয়ে দেয়।
হাসনাতের প্রধান প্রতিশ্রুতি হল ঋণ ডিফল্টারদের জন্য কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া। তিনি উল্লেখ করেন যে, যারা ২,১০০ কোটি টাকার ঋণ ডিফল্ট করেছে এবং সংসদে প্রবেশের চেষ্টা করছে, তাদের জন্য তিনি জীবদ্দশা পর্যন্ত কোনো ছাড় দেবেন না, এমনকি ঋণের এক পয়সা বাকি থাকলেও তাদের পার্লামেন্টে বসতে দেবেন না।
তার বক্তব্যে তিনি স্থানীয় নেতৃত্বের গুরুত্বের ওপর জোর দেন। তিনি বলেন, শাসনকে এমন কোনো বাহ্যিক নেতা দ্বারা পরিচালিত হতে চাই না, বরং এমন ব্যক্তিকে চাই যিনি গ্রাম্য স্তরে কাজ করে উঠে এসেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, ইংরেজি মিডিয়াম স্কুলে পড়া কেউ বাংলা-মিডিয়াম শিক্ষার্থীদের সমস্যাকে কতটা বুঝতে পারবে তা প্রশ্নবিদ্ধ।
হাসনাত আরও একটি রূপক ব্যবহার করে তার মত প্রকাশ করেন। তিনি তুলনা করেন, যারা চিজবুর্গার ও স্যান্ডউইচের স্বাদ জানে, তারা কীভাবে ভাত ও কাঁচা মরিচের স্বাদকে উপলব্ধি করতে পারবে। তার মতে, নিজের জন্মস্থান ও সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচিত ব্যক্তি সেই এলাকার সমস্যার সমাধানে বেশি সক্ষম।
প্রচার সমাবেশে তিনি এক্সাম যোগ্যতার সঙ্গে তুলনা করে বিএনপি-নামিনির মনোনয়ন বাতিলের প্রক্রিয়াকে ব্যাখ্যা করেন। তিনি বলেন, এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিতে হলে যোগ্যতা প্রমাণ করতে হয়, ফর্ম পূরণ করতে হয় এবং অ্যাডমিট কার্ড দরকার। যদি কেউ এই শর্ত পূরণ না করে পরীক্ষা দিতে চায়, তবে তা অন্যের দোষ নয়। এভাবে তিনি মনোনয়ন বাতিলকে প্রক্রিয়াগতভাবে যুক্তি দেন।
এই ঘোষণার পর রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন, হাসনাতের ঋণ ডিফল্টার বিরোধী অবস্থান ও স্থানীয় নেতৃত্বের ওপর জোর দেওয়া তার নির্বাচনী প্রচারকে শক্তিশালী করবে। তবে বিএনপি ও অন্যান্য বিরোধী দলগুলো এই মন্তব্যকে রাজনৈতিক কৌশল হিসেবে দেখছে এবং পরবর্তী সময়ে কুমিল্লা-৪ আসনের প্রতিদ্বন্দ্বিতা তীব্র হবে বলে পূর্বাভাস দিচ্ছে। আগামী সপ্তাহে বিভিন্ন গ্রাম ও শহরে প্রচার চালিয়ে তিনি ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ স্থাপন করবেন, যা তার পার্লামেন্টীয় লক্ষ্যকে বাস্তবে রূপ দিতে সহায়তা করবে।
হাসনাতের এই প্রচারাভিযান কুমিল্লা-৪ে রাজনৈতিক পরিবেশকে নতুন দিকনির্দেশে নিয়ে যাবে, যেখানে ঋণ ডিফল্টারদের বিরুদ্ধে কঠোর নীতি ও স্থানীয় নেতৃত্বের পক্ষে সমর্থন মূল বিষয় হয়ে দাঁড়াবে। ভবিষ্যতে কীভাবে এই নীতি বাস্তবায়িত হবে এবং ভোটাররা কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানাবে, তা দেশের রাজনৈতিক গতিপথে প্রভাব ফেলবে।



