শের-ই-বাংলা ন্যাশনাল ক্রিকেট স্টেডিয়ামে শুক্রবার অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (BPL) টি২০ ফাইনালে রাজশাহী ওয়ারিয়র্স ৬৩ রানের পার্থক্যে চট্টগ্রাম রয়্যালসকে পরাজিত করে শিরোপা জিতেছে। এই জয় রাজশাহীর দ্বিতীয় শিরোপা নিশ্চিত করেছে; প্রথমটি ২০২০ সালে রাজশাহী কিংসের নামে অর্জিত হয়েছিল।
ফাইনাল ম্যাচে রাজশাহী ওয়ারিয়র্স প্রথমে ব্যাটিং করে লক্ষ্য নির্ধারণ করে, যার পর চট্টগ্রাম রয়্যালসের প্রচেষ্টা যথেষ্ট না হয়ে ৬৩ রানে হারে। বিজয়ী দলটি চূড়ান্ত স্কোরে চ্যাম্পিয়নশিপ ট্রফি তুলে নেয়, আর শিরোপা জয়ের পর উল্লাসে ভরে ওঠে স্টেডিয়ামের গ্যালি।
রাজশাহীর ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম এই ম্যাচে এক শতকোটি (সেন্টুরি) তৈরি করে নিজের নাম ইতিহাসে যুক্ত করেছে। তানজিদের সেঞ্চুরি BPL ফাইনালের তৃতীয় সেঞ্চুরি, যা আগে ক্রিস গেইল এবং তামিম ইকবাল রেকর্ড করেছেন। তার এই পারফরম্যান্স দলকে শক্তিশালী শুরুর ভিত্তি প্রদান করে।
ইনিংসের শুরুর দিকে তানজিদ সতর্কতা বজায় রাখে, তবে শোরিফুল ইসলামকে লক্ষ্য করে স্কোয়্যার-লেগের দিকে ঘূর্ণায়মান পুল দিয়ে ছয়টি রান করে প্রথম আক্রমণ দেখায়। এই আক্রমণাত্মক শটের পর তিনি ধারাবাহিকভাবে আক্রমণ চালিয়ে যান, যা রাজশাহীর স্কোরে দ্রুত বাড়তি যোগ করে।
শোরিফুলের ওপর আবার চারটি রান করে তানজিদের আক্রমণাত্মক মনোভাব স্পষ্ট হয়। পাওয়ারপ্লে শেষে রাজশাহী ৪০ রান কোনো উইকেট না হারিয়ে স্কোরে পৌঁছায়, যা দলের ওপর আত্মবিশ্বাসের ঢেউ তুলেছে।
দ্বিতীয় ওয়াইডে চট্টগ্রামের ক্যাপ্টেন মাহেদি হাসানের ওপর তানজিদের আক্রমণ তীব্র হয়; তিনি এক ওভারেই দুটি ছয়টি রান করেন—একটি ডিপ মিডউইকেট এবং অন্যটি এক্সট্রা কভার—যা চট্টগ্রামের বোলিং আক্রমণকে চাপের মধ্যে ফেলে দেয়।
রাজশাহী ওয়ারিয়র্সের ওপেনিং পার্টনার সাইবহজাদা ফারহান ৩০ রান করে রানের গতি বজায় রাখে, তবে তার দ্রুত আউট হওয়ার পর ৮২ রানের শক্তিশালী ওপেনিং স্ট্যান্ড শেষ হয়। তানজিদ ৫৪ রান পর্যন্ত ড্রপ হয়ে যায়, তবে তিনি দ্রুত পুনরুদ্ধার করে পরবর্তী পার্টনারশিপে প্রবেশ করেন।
কেন উইলিয়ামসনের সঙ্গে তানজিদের তৃতীয় উইকেটের পার্টনারশিপে তিনি অতিরিক্ত ৪৭ রান যোগ করেন, যেখানে উইলিয়ামসন ১৫ বলের মধ্যে ২৪ রান করেন। এই দ্রুত রানগুলো চূড়ান্ত স্কোরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে এবং দলের আক্রমণকে আরও শক্তিশালী করে।
১৯তম ওভারে তানজিদ শেষমেশ সেঞ্চুরি অর্জন করেন, পয়েন্টের দিকে এক সিঙ্গল নিয়ে তার ব্যাট ও হেলমেট উঁচু করে গর্বের মুহূর্তে পৌঁছান। স্টেডিয়ামের দর্শকগণ তার এই পারফরম্যান্সে উল্লাসে মাতিয়ে তোলেন।
এই জয় রাজশাহীর জন্য ঐতিহাসিক গুরুত্ব বহন করে; ২০২০ সালের শিরোপার পর আবার শিরোপা জয় করে দলটি BPL-এ তার অবস্থান দৃঢ় করেছে। তানজিদের সেঞ্চুরি এবং দলের সমন্বিত পারফরম্যান্স ভবিষ্যৎ মৌসুমে আরও উচ্চতায় পৌঁছানোর সম্ভাবনা নির্দেশ করে।
বিএফএল চ্যাম্পিয়নশিপের এই সমাপ্তি পরবর্তী মৌসুমের প্রস্তুতির সূচনা হবে, যেখানে দলগুলো নতুন রোস্টার ও কৌশল নিয়ে আবার মাঠে নামবে। রাজশাহী ওয়ারিয়র্সের এই বিজয়ী পারফরম্যান্স ভক্তদের মধ্যে আনন্দের সঞ্চার করেছে এবং দেশের টি২০ ক্রিকেটের মানোন্নয়নে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।



