মন্ত্রণালয় অব রোড ট্রান্সপোর্ট অ্যান্ড হাইওয়েজ (MoRTH) জাতীয় সড়ক নিরাপত্তা প্রচারণা “সড়ক নিরাপত্তা অভিযান ২০২৬” (SSA 2026) আনুষ্ঠানিকভাবে চালু করেছে। এই উদ্যোগের প্রধান দায়িত্বে রয়েছেন রাষ্ট্রীয় সড়ক মন্ত্রী নিটিন গডকারি, যিনি নিরাপদ রাস্তায় চলাচলকে জাতীয় দায়িত্ব হিসেবে তুলে ধরেছেন।
প্রচারাভিযানে দেশের সর্ববৃহৎ চলচ্চিত্র ও সঙ্গীত জগতের কিছু মুখ্য ব্যক্তিত্ব অংশগ্রহণ করছেন। অমিতাভ বচ্চন, আলিয়া ভট্ট, বিকি কৌশল, কে কে মেনন, শঙ্কর মাহাদেবন এবং স্বানন্দ কিরকিরে সবাই একত্রে সড়ক নিরাপত্তার বার্তা ছড়াতে সহায়তা করবেন। তাদের উপস্থিতি ও কণ্ঠস্বর জনসচেতনতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
SSA ২০২৬-র চতুর্থ বর্ষে একটি বৃহৎ টেলিথন অনুষ্ঠান CNN-News18-এ সম্প্রচারিত হবে। এই টেলিফোনটি ২৫ জানুয়ারি, মুম্বাইতে অনুষ্ঠিত হবে এবং এতে আলোচনাসভা, সঙ্গীত পারফরম্যান্স এবং বিশেষ সেগমেন্ট থাকবে, যা সড়ক আচরণে পরিবর্তন আনার লক্ষ্যে পরিকল্পিত।
মন্ত্রিপরিষদের তথ্য অনুযায়ী ২০২৪ সালে ভারতীয় সড়কে মোট ৪,৮৭,৭০৭টি দুর্ঘটনা ঘটেছে, যার ফলে ১,৭৭,১৭৫ জনের প্রাণহানি হয়েছে। গড়ে প্রতিদিন প্রায় ৪৮৫ জনের মৃত্যু হয়, যা সড়ক নিরাপত্তা সমস্যার তীব্রতা প্রকাশ করে।
বিশেষত, মোট মৃত্যুর দুই-তৃতীয়াংশের বেশি ১৮ থেকে ৪৫ বছর বয়সের তরুণ ও মধ্যবয়সী নাগরিকের মধ্যে ঘটেছে। এই বয়স গোষ্ঠী দেশের কর্মশক্তির মূল অংশ, তাই সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি জরুরি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
দুর্ঘটনার প্রধান কারণগুলোর মধ্যে অতিরিক্ত গতি, হঠাৎ গাড়ি চালানো, অনিরাপদ ওভারটেকিং, পায়ে চলা পথচারীর অযথা রাস্তা পারাপার, হেলমেট ও সিটবেল্ট না ব্যবহার এবং জরুরি সময়ে (গোল্ডেন আওয়ার) সহায়তা না করা উল্লেখযোগ্য। এসব ঝুঁকি উপাদানগুলোকে কমাতে কঠোর নিয়ম ও জনসচেতনতা প্রয়োজন।
SSA ২০২৬-র থিম “কার্তব্য” (দায়িত্ব) হিসেবে নির্ধারিত হয়েছে, যা সড়ক নিরাপত্তাকে শুধুমাত্র আইনি বাধ্যবাধকতা নয়, সামাজিক দায়িত্ব হিসেবে উপস্থাপন করে। প্রচারণার স্লোগান “পর্বা থেকে কার্তব্য পর্যন্ত” উদ্বেগকে কার্যকর পদক্ষেপে রূপান্তরিত করার আহ্বান জানায়।
প্রচারণা চারটি মূল স্তম্ভের উপর ভিত্তি করে গড়ে তোলা হয়েছে: কার্তব্য (দায়িত্ব), কায়দা (শৃঙ্খলা), কাভাচ (সুরক্ষা) এবং ক্রান্তি (পরিবর্তন)। এই স্তম্ভগুলো সচেতনতা বৃদ্ধি, শৃঙ্খলাবদ্ধ আচরণ, প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার এবং সম্প্রদায়ভিত্তিক দীর্ঘমেয়াদী পরিবর্তনকে সমর্থন করবে।
প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সমন্বয় বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। ডেটা বিশ্লেষণ, রিয়েল-টাইম ট্রাফিক মনিটরিং এবং স্মার্ট সিগন্যাল সিস্টেমের মাধ্যমে দুর্ঘটনা কমানোর নতুন উপায় প্রয়োগ করা হবে। এই আধুনিক পদ্ধতি সড়ক ব্যবস্থাপনা ও জরুরি সেবা প্রদানকে দ্রুততর ও কার্যকর করবে।
সড়ক নিরাপত্তা সম্পর্কে জনসাধারণের অংশগ্রহণ বাড়াতে সরকার ও শিল্প জগতের এই যৌথ উদ্যোগের গুরুত্ব অপরিসীম। রাস্তায় গতি কমানো, হেলমেট ও সিটবেল্ট ব্যবহার করা এবং দুর্ঘটনা ঘটলে দ্রুত সাহায্য করা মৌলিক দায়িত্ব। এই মৌলিক অভ্যাসগুলোকে দৈনন্দিন জীবনে অন্তর্ভুক্ত করলে সড়ক দুর্ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে।
সড়ক নিরাপত্তা সংক্রান্ত তথ্য ও সচেতনতামূলক উপকরণ MoRTH-এর অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে পাওয়া যাবে। পাঠকগণকে আহ্বান জানানো হচ্ছে, নিজের ও অন্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এই নির্দেশনা মেনে চলতে এবং সামাজিক মিডিয়ায় সঠিক তথ্য শেয়ার করে সচেতনতা বাড়াতে।



