সিরিয়ার উত্তর‑পূর্বের রাক্কা শহরে আল‑অকতান জেল পুনরায় সরকারী হাতে ফিরে এসেছে। সিরিয়ার অভ্যন্তরীণ মন্ত্রণালয় শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) জানিয়েছে যে, কারাগার ও সংশোধন কেন্দ্রের কর্মকর্তারা জেলটির সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করেছেন এবং সেখানে আটক থাকা সন্দেহভাজন আইএসআইএল বন্দিদের রেকর্ড পর্যালোচনা শুরু হয়েছে। এই পদক্ষেপটি কুর্দি নেতৃত্বাধীন সিরিয়ার ডেমোক্র্যাটিক ফোর্সেস (এসডিএফ) যোদ্ধাদের প্রত্যাহার এবং চতুর্থ দিনের যুদ্ধবিরতি চুক্তির অংশ হিসেবে বাস্তবায়িত হয়েছে।
চুক্তি অনুসারে, গত মঙ্গলবার রাত থেকে কার্যকর হওয়া সমঝোতার পর সিরিয়ার সেনাবাহিনী দ্রুত রাক্কা অঞ্চলে অগ্রসর হয়ে এসডিএফের দীর্ঘদিনের দখলভূমি পুনরুদ্ধার করেছে। জেল ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকা থেকে এসডিএফ সদস্যদের আয়ন আল‑আরাব শহরে স্থানান্তরের কাজও সমান্তরালভাবে শুরু হয়। সরকারী সূত্র জানায়, জেল দখল করার সময় কোনো বড় প্রতিরোধের মুখোমুখি হয়নি এবং এটি তুলনামূলকভাবে সহজে সম্পন্ন হয়েছে।
জেলটির ভিতরে সংরক্ষিত বিস্ফোরক পদার্থের নিরাপদ নিষ্কাশন কাজও ত্বরান্বিত হয়েছে। কর্মকর্তারা বলছেন, জেল পুনরায় দখল করার পর থেকে নিরাপত্তা শূন্যতা দ্রুত পূরণ করা হচ্ছে এবং বন্দিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে, জেল ও আশেপাশের এলাকায় নাগরিকদের উপস্থিতি বাড়ছে; গত বৃহস্পতিবার স্থানীয় বাসিন্দারা ব্যারিকেড ভেদ করে জেল ভেতরের আত্মীয়দের অবস্থা জানার চেষ্টা করছিলেন।
আঞ্চলিক পরিস্থিতি সাম্প্রতিক দিনগুলোতে উত্তেজনাপূর্ণ ছিল, তবে জেল দখলের পর থেকে শত্রুতা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে। সরকারী দৃষ্টিকোণ থেকে, এই পদক্ষেপটি দুই প্রান্তের চাপের মধ্যে সামঞ্জস্য রক্ষার লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে। একদিকে, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও আইএসআইএল‑বিরোধী জোটের কাছ থেকে সন্দেহভাজন বন্দিদের নিরাপদে রাখার দাবি রয়েছে; অন্যদিকে, স্থানীয় জনগণ তাদের আত্মীয়দের অবৈধভাবে আটক করা হয়েছে বলে অভিযোগ তুলছে।
সিরিয়ার অভ্যন্তরীণ মন্ত্রণালয় জেল দখলের পর বন্দিদের রেকর্ড পর্যালোচনা চালিয়ে যাচ্ছে এবং এই প্রক্রিয়াকে স্থানীয় উদ্বেগ কমানোর একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেছে। সরকারী কর্মকর্তারা জোর দিয়ে বলেছেন যে, রেকর্ড যাচাইয়ের মাধ্যমে বন্দিদের আইনি অবস্থান স্পষ্ট করা হবে এবং প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি এই অঞ্চলে অব্যাহত রয়েছে। সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহিনীর মাধ্যমে সন্দেহভাজন আইএসআইএল যোদ্ধাদের ইরাকে স্থানান্তরের জন্য প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। এই পদক্ষেপটি আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা কাঠামোর অংশ হিসেবে বিবেচিত হয় এবং সিরিয়ার সরকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে পরিচালিত হচ্ছে।
আসন্ন সময়ে রাক্কা শহরে নিরাপত্তা পরিস্থিতি কীভাবে বিকশিত হবে তা এখনও অনিশ্চিত। তবে সরকারী সূত্রের ভিত্তিতে, জেল দখল এবং বন্দিদের রেকর্ড যাচাইয়ের মাধ্যমে স্থানীয় জনগণের উদ্বেগ কমানো এবং আন্তর্জাতিক চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে, সিরিয়ার সরকার ও এসডিএফের মধ্যে সহযোগিতা কতদূর পর্যন্ত বজায় থাকবে এবং এই ধরনের চুক্তি অন্যান্য দখলকৃত এলাকায় প্রয়োগ হবে কিনা, তা রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের দৃষ্টিতে থাকবে।
সারসংক্ষেপে, রাক্কা শহরের আল‑অকতান জেল সরকারী নিয়ন্ত্রণে ফিরে এসেছে, আইএসআইএল সন্দেহভাজন বন্দিদের রেকর্ড যাচাই চলছে, এবং নিরাপত্তা শূন্যতা পূরণে বিস্ফোরক পদার্থের নিষ্কাশন কাজ দ্রুত অগ্রসর। এই ঘটনাটি সিরিয়ার অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা নীতি, আন্তর্জাতিক চাপ এবং স্থানীয় জনগণের প্রত্যাশার সংযোগস্থলে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।



