চট্টগ্রামের বায়েজিদ এলাকায় সন্ধ্যা পাঁচটার দিকে পুলিশ একটি খাল থেকে যুবকের খণ্ডিত মাথা উদ্ধার করেছে। এটি পূর্বে একই এলাকায় দুই হাত ও দুই পা উদ্ধার করার পরের ধারাবাহিক পদক্ষেপ। উদ্ধারকৃত অংশগুলো ফিঙ্গারপ্রিন্ট পরীক্ষায় রাউজান জেলার এক যুবকের বলে নিশ্চিত করা হয়েছে।
বায়েজিদ বোস্তামী থানা, লোহারপুর এলাকার খাল অনুসন্ধান চলাকালীন এই অংশটি পাওয়া যায়। খালটি শহীদনগর এলাকায় অবস্থিত এবং রাতের বেলা তল্লাশি করা হয়। উদ্ধারকৃত মাথা সম্পূর্ণভাবে পলিথিনে মোড়ানো অবস্থায় পাওয়া যায়, যা পূর্বে পাওয়া হাত‑পা অংশের মতোই সুরক্ষিত ছিল।
পুলিশের মতে, উদ্ধার করা দুই হাতের আঙুলের ছাপ বিশ্লেষণে দেখা গেছে যে উক্ত হাতের দু’টি বাহু পর্যন্ত কাটা ছিল। একই সঙ্গে দুই পা কাটা অবস্থায়, হাঁটু থেকে নিচের অংশ পর্যন্ত পাওয়া গিয়েছে। এই তথ্যগুলো থেকে স্পষ্ট হয় যে শিকারের দেহটি বহুবার কেটে ফেলা হয়েছে।
বায়েজিদ বোস্তামী থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জাহিদুল কবির জানান, শিকারের পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর তদন্তে গতি পায়। তিনি উল্লেখ করেন, শিকারের দেহের একাধিক অংশ ইতিমধ্যে উদ্ধার করা হয়েছে এবং এখনো বাকি অংশের সন্ধান চলছে।
প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, শিকারের সঙ্গে প্রেম‑সম্পর্কের জটিলতা ছিল এবং এই সম্পর্কের কারণে তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। তবে এই দিকটি নিশ্চিত করতে আরও প্রমাণ সংগ্রহের প্রয়োজন।
পুলিশের তদারকি দল এখনো খাল ও আশেপাশের এলাকায় অনুসন্ধান চালিয়ে যাচ্ছে, যাতে দেহের বাকি অংশগুলোও উদ্ধার করা যায়। একই সঙ্গে স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহের কাজও ত্বরান্বিত করা হয়েছে।
শিকারের পরিবারকে ঘটনাস্থলে জানানো হয়েছে এবং শোক প্রকাশের জন্য স্থানীয় মসজিদে সমবেত হওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। পরিবারে শোকের ছায়া ছড়িয়ে আছে, কারণ দেহের অংশগুলো ধারাবাহিকভাবে পাওয়া যাচ্ছে।
আইনি দিক থেকে, পুলিশ ইতিমধ্যে ঘটনাস্থলে ফোরেনসিক দল পাঠিয়েছে। ফোরেনসিক বিশ্লেষণ থেকে দেহের কাটা অংশগুলোর সময় ও পদ্ধতি নির্ধারণের চেষ্টা করা হবে।
স্থানীয় প্রশাসনও এই ঘটনার প্রতি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং নিরাপত্তা বাড়ানোর জন্য অতিরিক্ত পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়েছে।
অপরাধের প্রেক্ষাপটের সঙ্গে সঙ্গে, এই ধরনের হিংসাত্মক অপরাধের পুনরাবৃত্তি রোধে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সামাজিক সমস্যার সমাধানে উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
পুলিশের মতে, শিকারের পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর মামলাটি দ্রুত আদালতে উপস্থাপন করা হবে এবং সংশ্লিষ্ট অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এই ধারাবাহিক তদন্তের ফলাফল ও পরবর্তী আদালতীয় প্রক্রিয়া সম্পর্কে তথ্য পাওয়া মাত্রই জনসাধারণকে জানানো হবে।



