বিপিএল চূড়ান্তে রাজশাহী ওয়ারিয়র্স ৬৩ রান করে চট্টগ্রাম রয়্যালসের ১১১ রানকে পেছনে ফেলে শিরোপা জিতেছে। চূড়ান্ত ম্যাচে চট্টগ্রাম ১৮ ওভারে ১১১ রান সংগ্রহ করে, তবে লক্ষ্য‑নির্ভর বলের কারণে রানের গতি থেমে যায়।
লিগের মাঝামাঝি পর্যায়ে তানজিদ হাসান ১০০ বলের ইনিংসে ৬২ রান করে দলের পুঁজি বাড়িয়ে দেন। তার আগে তিনি মাত্র একবারই ৫০‑এর বেশি রান করেননি, ফলে ফাইনালের জন্য তিনি শীর্ষ ফর্মে ছিলেন।
ফাইনালে রাজশাহী ওয়ারিয়র্সের ব্যাটিং লাইন‑আপে সাহিবজাদা ৩০ রান, তানজিদ ১০০ বলে ১০০ রান, উইলিয়ামসন ২৪ এবং নিশাম ৭* চালিয়ে দলকে লক্ষ্য‑নির্ভর রানে এগিয়ে নিয়ে যায়। শান্তের ১১ রান ও সামগ্রিক রন‑স্ট্রিক সহ দল ৬৩ রনে লক্ষ্য পূরণ করে।
চট্টগ্রাম রয়্যালসের ব্যাটিংয়ে মুকিদুল ইসলাম ১ বলে ১ রান, তানভির ইসলাম ১ বলে ১ রান করে অপ্রতিদ্বন্দ্বী থাকে। তবে তাদের শীর্ষ স্কোরার সংখ্যা কমে যায়, এবং শেষ পর্যন্ত ১১১ রানেই থেমে যায়।
চট্টগ্রামের বোলিংয়ে বিনুরা ফার্নান্দে ৪ উইকেটের সঙ্গে মাত্র ৯ রান দিয়ে দুইটি মেইডেন নেয়। মুরাদ ৩ উইকেট নেন, আর নিশাম ৪ ওভারে ২৪ রান দিয়ে দুইটি উইকেট সংগ্রহ করেন। তানিজিম ও সাকলাইন যথাক্রমে ৩ ও ৩.৫ ওভারে এক‑একটি উইকেট নেন।
রাজশাহীর বোলিংয়ে বিনুরা ফার্নান্দে ৪ উইকেটের সঙ্গে ৯ রান দিয়ে চট্টগ্রামের ব্যাটিংকে কঠিন করে তোলেন। নিশাম ৪ ওভারে ২৪ রান দিয়ে দুইটি উইকেট নেন, তানিজিম ৩ ওভারে ৩৭ রান দিয়ে কোনো উইকেট না পেলেও চাপ বজায় রাখেন। সাকলাইন ৩.৫ ওভারে ২৪ রান দিয়ে একটি উইকেট নেন, আর মুরাদ ৪ ওভারে ১৫ রান দিয়ে তিনটি উইকেট নেন।
চূড়ান্তের মাঝামাঝি পর্যায়ে তানজিদের হাতে মুকিদুল ইসলাম ছক্কা মারার চেষ্টায় ধরা পড়ে, ফলে দলকে প্রথম বড় উইকেটের সুবিধা দেয়। একই ওভারে আসিফ আলি ১৬ বলে ২১ রান করেন, দুইটি ছক্কা ও একটি চারে দিয়ে উইলিয়ামসনের হাতে ধরা পড়ে।
একই ওভারে শারিফুল ইসলাম এসএম মেহরবের হাতে ক্যাচ হয়ে যান, যদিও তিনি সাতটি বল খেলেও কোনো রান সংগ্রহ করতে পারেননি। জেমস নিশামের প্রথম বলে আমির জামাল ছক্কা মারেন, পরের বলেই তিনি লাইন মিস করে বোল্ড হয়ে যান।
চূড়ান্তের শেষ ওভারে নিউ জিল্যান্ডের অলরাউন্ডার একটি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট নেন, যা চট্টগ্রামের রানের প্রবাহকে আরও ধীর করে দেয়। শেষ পর্যন্ত চট্টগ্রাম ১১১ রানেই থেমে যায়, আর রাজশাহী ৬৩ রনে শিরোপা নিশ্চিত করে।
এই জয় দিয়ে রাজশাহী ওয়ারিয়র্স বিপিএলের ইতিহাসে দ্বিতীয় শিরোপা অর্জন করে, যদিও ফ্র্যাঞ্চাইজি ভিন্ন হলেও তারা একই প্রতিযোগিতায় দু’বার শিরোপা জিতেছে। পরবর্তী মৌসুমের সূচি এখনও প্রকাশিত হয়নি, তবে ভক্তরা নতুন চ্যালেঞ্জের অপেক্ষায় রয়েছেন।



