ঢাকা পুলিশ সদর দপ্তর সম্প্রতি একটি আনুষ্ঠানিক চিঠি জারি করেছে, যেখানে ইউনিট প্রধানদের অনুমতি ছাড়া কর্মস্থল ত্যাগে কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, কিছু ইউনিটের প্রধান অনুমতি না নিয়ে ছুটি বা অন্য কোনো কাজের জন্য দপ্তর ত্যাগ করছেন, যা শৃঙ্খলা লঙ্ঘনের গুরুতর উদাহরণ।
চিঠির স্বাক্ষরকারী হলেন পার্সোনাল ম্যানেজমেন্ট‑১ শাখার অতিরিক্ত ডিআইজি খন্দকার শামিমা ইয়াছমিন, যিনি উল্লেখ করেছেন যে, এই ধরনের অনিয়ম শৃঙ্খলা ভঙ্গের শীর্ষে অবস্থান করে এবং তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। তিনি জোর দিয়ে বলেছেন যে, কোনো ইউনিট প্রধানকে ছুটি, ভ্রমণ বা অন্য কোনো উদ্দেশ্যে দপ্তর ত্যাগের আগে আইজিপির স্পষ্ট অনুমতি নিতে হবে।
এই নির্দেশনা সকল ডিএমপি কমিশনার, র্যাব মহাপরিচালক, পুলিশ ইউনিটের প্রধান, রেঞ্জ ডিআইজি, মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার এবং দেশের প্রতিটি জেলার পুলিশ সুপারিন্টেন্ডেন্টকে প্রেরণ করা হয়েছে। চিঠিতে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে, অনুমতি ছাড়া কর্মস্থল ত্যাগ করা শৃঙ্খলাভঙ্গ হিসেবে গণ্য হবে এবং তাৎক্ষণিক শাস্তি আরোপ করা হবে।
পুলিশ সদর দপ্তরের সূত্রে জানানো হয়েছে যে, শৃঙ্খলা ও কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে ইউনিট প্রধানদের দায়িত্বশীল আচরণ নিশ্চিত করা অপরিহার্য। দপ্তরের এই পদক্ষেপের মূল লক্ষ্য হল, সকল স্তরে শৃঙ্খলা বজায় রেখে পুলিশ বাহিনীর কার্যকারিতা ও জনসেবার মান উন্নত করা।
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ভবিষ্যতে যদি কোনো ইউনিট প্রধান এই নির্দেশনা অমান্য করে অনুমতি ছাড়া দপ্তর ত্যাগ করেন, তবে তা শৃঙ্খলাভঙ্গের শাস্তি হিসেবে বিবেচিত হবে। শৃঙ্খলা ভঙ্গের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য শাস্তি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য চিঠিতে সংযুক্ত করা হয়েছে, যা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে।
পুলিশ বাহিনীর অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য এই ধরনের নির্দেশনা পূর্বে জারি করা হয়েছে, তবে এই নতুন চিঠি বিশেষভাবে ইউনিট প্রধানদের উপর কেন্দ্রীভূত। পূর্বে মোবাইল ফোন ব্যবহার নিষেধাজ্ঞা এবং উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের বদলি সংক্রান্ত পদক্ষেপের পরিপ্রেক্ষিতে এই নির্দেশনা আরও কঠোর শৃঙ্খলা বজায় রাখার লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে।
আইজিপি ও সংশ্লিষ্ট উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা এই নির্দেশনা বাস্তবায়নে ত্বরান্বিত পদক্ষেপ নেবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন। তদুপরি, সকল ইউনিটের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের কাছ থেকে নিয়মিত রিপোর্ট সংগ্রহ করে শৃঙ্খলা লঙ্ঘনের কোনো ঘটনা দ্রুত সনাক্ত করা হবে।
শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গৃহীত হবে, যার মধ্যে রয়েছে শৃঙ্খলাভঙ্গের ক্ষেত্রে শাস্তি প্রদান, দায়িত্বশীলতা নিশ্চিত করা এবং ভবিষ্যতে অনুরূপ লঙ্ঘন রোধে প্রশিক্ষণ ও সচেতনতা বৃদ্ধি।
পুলিশ দপ্তর এই নির্দেশনা অনুসরণে সকল ইউনিটের প্রধানকে অনুরোধ করেছে যে, কোনো ছুটি বা দপ্তর ত্যাগের আগে আইজিপির অনুমতি নেয়া বাধ্যতামূলক এবং তা না করলে শৃঙ্খলাভঙ্গের শাস্তি আরোপ করা হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে শৃঙ্খলা বজায় রেখে পুলিশ বাহিনীর কার্যকারিতা নিশ্চিত করা হবে।
এই নির্দেশনা বাস্তবায়নের মাধ্যমে প্রশাসনিক শৃঙ্খলা আরও দৃঢ় হবে এবং পুলিশ বাহিনীর অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থাপনা স্বচ্ছতা বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে শৃঙ্খলা লঙ্ঘনের কোনো ঘটনা ঘটলে তাৎক্ষণিকভাবে যথাযথ শাস্তি প্রদান করা হবে।
পুলিশের এই কঠোর পদক্ষেপের পরিপ্রেক্ষিতে, সংশ্লিষ্ট সকল ইউনিটের প্রধানকে অনুরোধ করা হচ্ছে যে, শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য আইজিপির অনুমোদন প্রক্রিয়া মেনে চলবেন এবং কোনো অননুমোদিত কর্মস্থল ত্যাগ থেকে বিরত থাকবেন। এভাবে শৃঙ্খলা বজায় রেখে পুলিশ বাহিনীর সেবা গুণমান উন্নত হবে।



