গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার নীলকুঠি গ্রামে এক সপ্তাহের মধ্যে দুজনের মৃত্যু ঘটেছে। ২৮ বছর বয়সী আশরাফুল ইসলাম, যিনি ঢাকায় চাকরির জন্য বসবাস করতেন, হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান; তার মা একই দিনে শোক সামলাতে না পেরে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন। এ ঘটনার ফলে আশরাফুলের বাবা রহিম উদ্দিন গুরুতর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
আশরাফুলের মৃত্যু শুক্রবার সকাল প্রায় ১১টায় ঘটেছে। তিনি জুম্মা নামাজের জন্য বাড়ি থেকে বের হওয়ার সময় হঠাৎ হৃদযন্ত্রের ব্যর্থতা অনুভব করেন। দ্রুত চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হলেও, তার জীবন রক্ষা করা সম্ভব হয়নি। মৃত্যুর সংবাদ গ্রামবাসীদের কাছে দুপুরের দিকে পৌঁছায়।
মৃত্যুর শোক সহ্য করতে না পারা মায়ের অবস্থা দ্রুত খারাপ হয়ে ওঠে। সংবাদ শোনার পর তিনি নিজেও হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে অল্প সময়ের মধ্যেই শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। পরিবার জানায়, মায়ের শোকের তীব্রতা এবং হৃদরোগের পূর্ব ইতিহাস একসাথে কাজ করে এই দুর্ভাগ্য ঘটিয়েছে।
আশরাফুলের বাবা রহিম উদ্দিন, যিনি নিজের ছেলেকে ঢাকায় কাজ করতে দেখে গর্বিত ছিলেন, একই সময়ে শোকের প্রভাবের ফলে শারীরিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছেন। বর্তমানে তিনি স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি আছেন এবং চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে।
পরিবারের কাছ থেকে জানা যায়, আশরাফুল তার পরিবারে অত্যন্ত দায়িত্বশীল এবং কঠোর পরিশ্রমী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তিনি ঢাকায় চাকরির জন্য কঠোর পরিশ্রম করতেন এবং পরিবারের আর্থিক চাহিদা মেটাতে নিজেকে উৎসর্গ করতেন। তার অকাল মৃত্যু পরিবারকে গভীর শোকের মধ্যে ফেলেছে।
আশরাফুলের চাচা রফিকুল ইসলাম জানান, “এত ছোট বয়সে এমন দুঃখের মুখোমুখি হতে হয়নি। ছেলের শোকেই মা চলে গেলেন, একদিনে আমাদের পরিবার যেন সবকিছু হারিয়ে ফেলেছে।” পরিবার বর্তমানে মৃতদেহের পরিবহন ও দাফন কাজের প্রস্তুতি নিচ্ছে। গ্রামবাসীরা জানিয়েছে, মৃতদেহ পৌঁছানোর পর মা ও ছেলের দাফন একসাথে করা হবে।
হৃদরোগ, বিশেষ করে হঠাৎ হৃদযন্ত্রের ব্যর্থতা, যেকোনো বয়সের মানুষকে প্রভাবিত করতে পারে। উচ্চ রক্তচাপ, ধূমপান, অতিরিক্ত চর্বি গ্রহণ এবং শারীরিক অনুশীলনের অভাব এসবের প্রধান কারণ। যদিও আশরাফুলের বয়স তুলনামূলকভাবে কম, তবে কাজের চাপ ও জীবনযাত্রার ধরণ হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিতে পারে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দেন যে, হৃদরোগের প্রাথমিক লক্ষণ—যেমন বুকে ব্যথা, শ্বাসকষ্ট, হঠাৎ দুর্বলতা—দেখা মাত্রই চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করা উচিত। নিয়মিত রক্তচাপ ও কোলেস্টেরল পরীক্ষা, সুষম খাবার এবং নিয়মিত ব্যায়াম হৃদযন্ত্রের স্বাস্থ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
এই দুঃখজনক ঘটনার পর পরিবার ও গ্রামবাসীরা শোকের মধ্যে হলেও, সমাজের প্রতিটি সদস্যের জন্য হৃদরোগের ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতন হওয়া জরুরি। আপনি কি আপনার স্বাস্থ্যের নিয়মিত পরীক্ষা করাচ্ছেন? আপনার পরিবারে যদি হৃদরোগের ইতিহাস থাকে, তবে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ মেনে চলা উচিত।



