বিএনপি চেয়ারপার্সন তারিক রাহমান ২১ বছরের পর চট্টগ্রামে ফিরে আসছেন। তিনি রবিবার, ২৫ জানুয়ারি, রেলওয়ে পোলো গ্রাউন্ডে অনুষ্ঠিত বৃহৎ জনসমাবেশে ভাষণ দেবেন। এই র্যালি ১২ ফেব্রুয়ারি নির্ধারিত ১৩তম সংসদ নির্বাচনের পূর্বাভাসমূলক ক্যাম্পেইনের অংশ হিসেবে পরিকল্পিত।
শহর কর্পোরেশনের মেয়র ও পূর্বে চট্টগ্রাম শহর ইউনিটের বিএনপি সভাপতি শাহাদত হোসেনের মতে, রাহমানের দল শনিবার রাতেই চট্টগ্রামে পৌঁছাবে এবং র্যালির আগে শহরে এক রাত বিশ্রাম নেবে। মেয়র রাহমানের আগমনের সময়সূচি ও র্যালির সূচি সম্পর্কে বিস্তারিত জানিয়েছেন।
রেলওয়ে পোলো গ্রাউন্ডে বর্তমানে বিশাল মঞ্চের নির্মাণ কাজ চলছে। মঞ্চের দৈর্ঘ্য প্রায় ১০০ ফুট এবং প্রস্থ ৬০ ফুট, যা কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের উপস্থিতি ও বৃহৎ সমাবেশকে সামলাতে সক্ষম। মঞ্চের প্রস্তুতির সময় কর্মীরা সতর্কতা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।
মঞ্চের সামনে নিরাপত্তা কর্মীদের জন্য আলাদা জোন নির্ধারিত হয়েছে। এই ব্যবস্থা ভিড় নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য গৃহীত। এছাড়া, মঞ্চের দু’পাশে দর্শকদের বসার জন্য পরিকল্পিত সিটিং ব্যবস্থা রয়েছে, যা সমাবেশের স্বচ্ছতা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সহায়ক।
মহিলা অংশগ্রহণকারীদের জন্য পৃথক সেকশন এবং মিডিয়ার জন্য নির্দিষ্ট এলাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। এই ব্যবস্থা নারী ও সাংবাদিকদের স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ উপস্থিতি নিশ্চিত করে, যাতে তারা কোনো বাধা ছাড়াই সমাবেশের ঘটনাবলী পর্যবেক্ষণ ও প্রতিবেদন করতে পারে।
গ্রাউন্ডের বাকি অংশটি সাধারণ জনগণ ও বিভিন্ন জেলা থেকে আসা পার্টি কর্মীদের জন্য উন্মুক্ত রাখা হয়েছে। এখানে বিশাল সংখ্যক সমর্থক একত্রিত হয়ে রাহমানের উপস্থিতি প্রত্যাশা করছেন।
চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপি সভাপতি ইদ্রিস মিয়া উল্লেখ করেছেন, রাহমানের সফর পুরো অঞ্চলে উৎসবের মতো পরিবেশ তৈরি করেছে। তিনি বলেন, শুধুমাত্র বিএনপি কর্মী নয়, বিভিন্ন পেশা ও পটভূমির মানুষই রাহমানকে দেখতে ও শোনার জন্য উদগ্রীব।
রাহমানের শেষ চট্টগ্রাম সফর ছিল ২০০৫ সালের ৬ মে, যখন তিনি তখনকার সিনিয়র জয়েন্ট সেক্রেটারি জেনারেল হিসেবে মেয়র প্রার্থি মীর মোহাম্মদ নাসির উরকে সমর্থন জানাতেন। তার এই দীর্ঘ বিরতির পর পুনরায় আসা রাজনৈতিক উন্মাদনা বাড়িয়ে তুলেছে।
র্যালি বিএনপির নির্বাচনী কৌশলের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ, কারণ এটি পার্টির ভিত্তি শক্তিশালী করে এবং ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ স্থাপন করে। রাহমানের উপস্থিতি পার্টির সংগঠনের মনোবল বাড়াবে এবং নির্বাচনের আগে ভোটারদের মনোভাব গঠন করতে সহায়তা করবে।
প্রতিপক্ষের দলগুলো রাহমানের এই সফরকে নির্বাচনী সময়ে রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়ানোর প্রচেষ্টা হিসেবে দেখছে। তারা উল্লেখ করেছে যে, বৃহৎ সমাবেশের মাধ্যমে জনমতকে প্রভাবিত করার চেষ্টার ফলে নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলার প্রশ্ন উত্থাপিত হতে পারে। তবে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য প্রকাশিত হয়নি।
র্যালির পর রাহমানের পরবর্তী পরিকল্পনা ও পার্টির ক্যাম্পেইন কৌশল সম্পর্কে আরও তথ্যের অপেক্ষা থাকবে। নির্বাচনের দিন পর্যন্ত এই ধরনের সমাবেশের সংখ্যা ও প্রভাব রাজনৈতিক দৃশ্যপটকে কীভাবে পরিবর্তন করবে, তা সময়ই প্রকাশ করবে।



