বহু বছর পর, বাঙালি-ইংরেজি চলচ্চিত্রের পরিচিত মুখ এবং গায়িকা শ্রুতি হাসান তার কলেজের পুরনো লেনের পথে হেঁটে এক স্মৃতিময় সফর সম্পন্ন করেছেন। এই সফরটি তিনি ইনস্টাগ্রাম স্টোরি ও পোস্টের মাধ্যমে তার অনুসারীদের সঙ্গে ভাগ করে নেন। পোস্টে তিনি এই ভ্রমণকে “স্মৃতির পথে এক সফর” বলে উল্লেখ করেন। ঘটনাটি জানুয়ারি ১৯, ২০২৬ তারিখে প্রকাশিত হয়।
শ্রুতি হাসান, যিনি হিন্দি ও তামিল চলচ্চিত্রে অভিনয় এবং সঙ্গীত রচনায় সক্রিয়, তার ক্যারিয়ার দশকেরও বেশি সময় ধরে গড়ে উঠেছে। তিনি প্রথমবারের মতো বড় পর্দায় দেখা গিয়েছিলেন তার বাবা-মা, বিশাল চলচ্চিত্রশিল্পী রেজি এবং তামিলনাট্যশিল্পী শশিকলা হাসানের ছায়ায়। তার শিক্ষাজীবন মূলত চেন্নাইয়ের একটি কলেজে গড়ে উঠেছিল, যেখানে তিনি দৈনন্দিন জীবনের অংশ হিসেবে ঐ লেনটি অতিক্রম করতেন।
যে লেনটি তিনি পুনরায় পরিদর্শন করেন, তা তার কলেজের পুরনো ভবনের পাশে অবস্থিত এবং এখনো বেশিরভাগই অপরিবর্তিত রূপে রয়ে গেছে। লেনের দু’পাশে পুরনো গাছপালা, কিছু পুরনো দোকান এবং পাথরের বেঞ্চ দেখা যায়, যা তার কলেজের দিনগুলোর পরিবেশকে পুনরায় জীবন্ত করে তুলেছে। লেনটি শহরের ব্যস্ত রাস্তাগুলোর তুলনায় তুলনামূলকভাবে শান্ত, ফলে স্মৃতির ভ্রমণকে আরও স্বচ্ছন্দ করে তুলেছে।
শ্রুতি ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে একাধিক ছবি ও ভিডিও আপলোড করেন, যেখানে তিনি লেনের মাঝখানে হাঁটতে দেখতে পাওয়া যায়। ছবিগুলিতে তিনি ক্যাজুয়াল পোশাকে, হালকা জ্যাকেট ও স্নিকার্সে সজ্জিত, যা তার স্বাভাবিক স্টাইলের প্রতিফলন। প্রতিটি পোস্টের ক্যাপশনে তিনি লেনের দৃশ্য, পুরনো গাছের ছায়া এবং রাস্তার ধারে থাকা ছোট ছোট দোকানের কথা উল্লেখ করেন। তার অনুসারীরা এই পোস্টে দ্রুতই মন্তব্য করে, তার সঙ্গে ভাগ করা স্মৃতিগুলোকে স্মরণীয় করে তোলেন।
লেনে হাঁটার সময়, তিনি স্মরণ করেন যে কলেজের দিনগুলোতে তিনি প্রতিদিন এই লেনটি অতিক্রম করতেন। ক্লাসের আগে ও পরে, বন্ধুদের সঙ্গে হেঁটে যাওয়া, ক্যাফে থেকে কফি নিয়ে গিয়ে পড়াশোনা করা, এসবই তার দৈনন্দিন রুটিনের অংশ ছিল। তিনি উল্লেখ করেন যে লেনের কোণায় থাকা পুরনো গাছটি তার প্রথম পরীক্ষার সময়ের সাক্ষী ছিল। সেই সময়ের ছোট ছোট ঘটনা, যেমন ক্লাসের পরে হঠাৎ বৃষ্টি হওয়া এবং ছাতা ভাগ করে নেওয়া, এখনো তার মনে তাজা।
লেনে ফিরে আসা তার জন্য শুধু শারীরিক হাঁটা নয়, বরং মানসিকভাবে অতীতের সঙ্গে পুনর্মিলন। পুরনো গাছের ছায়া, রাস্তার ধারে থাকা ছোট দোকানের গন্ধ এবং পাথরের বেঞ্চের স্পর্শ সবই তাকে তার কলেজের দিনগুলোর দিকে নিয়ে যায়। তিনি জানান যে লেনের পরিবেশ তাকে সেই সময়ের সরলতা ও উচ্ছ্বাসের স্মৃতি জাগিয়ে তুলেছে। এই স্মৃতিগুলো তার বর্তমান ব্যস্ত শেডিউলের মধ্যে এক ধরনের শ্বাসপ্রশ্বাসের মতো কাজ করেছে।
শ্রুতি হাসান এই সফরকে “স্মৃতির পথে এক সফর” বলে বর্ণনা করেন এবং জানান যে এই লেনটি তার জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তিনি বলেন, লেনের প্রতিটি কোণায় তিনি তার অতীতের একটি অংশ পুনরায় খুঁজে পান। এই অভিজ্ঞতা তাকে তার ক্যারিয়ারের পথে গড়ে তোলা দৃঢ়তা ও সৃজনশীলতাকে পুনর্ব্যক্ত করতে সাহায্য করেছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, এমন স্মৃতিময় মুহূর্তগুলো ভবিষ্যতে তার সৃজনশীল কাজের জন্য অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করবে।
ইনস্টাগ্রাম পোস্টে তার ভক্তদের মন্তব্যগুলো উষ্ণ ও সমর্থনমূলক ছিল। অনেকেই তাদের নিজস্ব কলেজের স্মৃতি শেয়ার করে, একই লেনের সঙ্গে তাদের সংযোগ প্রকাশ করেন। কিছু ভক্ত মন্তব্যে জানিয়েছেন, “আপনার মতোই আমরা আমাদের কলেজের লেনে ফিরে গিয়ে অতীতের সোনালী দিনগুলো স্মরণ করি”। এই ধরনের প্রতিক্রিয়া পোস্টের জনপ্রিয়তা বাড়িয়ে দেয় এবং একটি সম্প্রদায়িক অনুভূতি তৈরি করে।
শ্রুতি হাসানের এই সফরটি তার ব্যক্তিগত জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হিসেবে বিবেচিত হয়। কলেজের দিনগুলো তার শিল্পী জীবনের ভিত্তি গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে, এবং এই পুনরায় ভ্রমণ তার জন্য সেই ভিত্তিকে পুনরায় মূল্যায়নের সুযোগ হয়েছে। তার এই পদক্ষেপটি তরুণ প্রজন্মকে তাদের অতীতকে সম্মান করতে এবং স্মৃতির মূল্যকে স্বীকার করতে উৎসাহিত করে।
ভবিষ্যতে, তিনি সম্ভবত আরও এমন স্মৃতিময় সফর পরিকল্পনা করতে পারেন, যেখানে তিনি তার অতীতের স্থানগুলো পুনরায় পরিদর্শন করবেন। তার সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার করা এই ধরনের মুহূর্তগুলো তার ভক্তদের সঙ্গে সংযোগের সেতু গড়ে তুলতে সাহায্য করবে। শেষ পর্যন্ত, এই সফরটি তার জন্য এক ধরনের মানসিক পুনর্জীবন এবং তার সৃজনশীল যাত্রার নতুন দিক উন্মোচন করতে পারে।



