বাংলাদেশ ইসলামী আন্দোলনের আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম, যাকে চরমোনাই পীর বলা হয়, ২৩ জানুয়ারি শুক্রবার বিকেলে ঢাকার যাত্রাবাড়ীর কাজলা পাড়ায় অনুষ্ঠিত নির্বাচনী সমাবেশে দেশের নিরাপত্তা সম্পর্কে সতর্কবার্তা দেন। তিনি উল্লেখ করেন, “যারা বন্ধুর সঙ্গে ধোঁকাবাজি করতে পারে, দেশের মানুষ তাদের কাছে নিরাপদ নয়”। এই বক্তব্যের পেছনে তিনি অতীতের শাসনকালের আর্থিক দুর্নীতি ও সামাজিক অবহেলার দিকটি তুলে ধরেছেন। সমাবেশটি ইসলামী আন্দোলনের নির্বাচনী প্রচারণার অংশ হিসেবে অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে উপস্থিত ভক্ত ও সমর্থকরা পীরের কথা মনোযোগ সহকারে শোনেন।
পীরের বক্তব্যের মধ্যে অতীত সরকারের কাজের সমালোচনা স্পষ্ট। তিনি বলেন, “অতীতের সরকার হাজারো মায়ের বুক খালি করেছে, দেশের টাকা বিদেশে পাচার করেছে”। এছাড়া তিনি ক্ষমতালোভী এক শ্রেণির স্বপ্নের কথা উল্লেখ করে বলেন, “এক শ্রেণির ক্ষমতালোভীরা ক্ষমতায় যাওয়ার রঙিন স্বপ্ন দেখছে”। এই মন্তব্যগুলো দেশের অর্থনৈতিক ক্ষতি ও সামাজিক অস্থিরতার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত, যা বর্তমান রাজনৈতিক পরিবেশে আলোচনার বিষয়।
চরমোনাই পীর জুলাই মাসের গণ-অভ্যুত্থানকে স্মরণ করিয়ে দেন, যেখানে তিনি উল্লেখ করেন, “জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের উত্তাল দিনগুলোতে কোনো রাজনৈতিক দল নিজেদের ব্যানার নিয়ে প্রকাশ্যে মাঠে না নামলেও ইসলামী আন্দোলনের নেতাকর্মীরা নেমেছেন”। এই বিবৃতি থেকে বোঝা যায়, তিনি তার সংগঠনের সক্রিয়তা ও জনসাধারণের সঙ্গে সংযোগকে গুরুত্ব দিচ্ছেন। সমাবেশে উপস্থিত অংশগ্রহণকারীরা এই কথাগুলোকে আন্দোলনের দৃঢ়তা হিসেবে গ্রহণ করেছে।
সমাবেশের কিছু সময় আগে বিএনপির একজন বড় নেতা ফোনে পীরকে জানিয়ে বলেন, “হযরত দরজা খোলা”। পীর এই কথার প্রতিক্রিয়ায় বলেন, “কিন্তু আমরা দরজা খোলার জন্য তো আন্দোলন সংগ্রাম করিনি”। তিনি প্রশ্ন তোলেন, “যারা পরীক্ষিত, তারা নতুন করে আর কী পরীক্ষা দেবে?”। এই প্রশ্নের মাধ্যমে তিনি রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের নীতিগত দুর্বলতা ও অস্থিরতা প্রকাশের চেষ্টা করছেন।
পীরের এই মন্তব্যগুলো দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপটে নতুন দৃষ্টিকোণ যোগ করেছে। তিনি যেসব বিষয় তুলে ধরেছেন—ধোঁকাবাজি, আর্থিক পাচার, ক্ষমতালোভী স্বপ্ন—সেগুলো বর্তমান সরকারের নীতিমালা ও বিরোধী দলের কৌশলের সঙ্গে তুলনা করা হচ্ছে। বিশেষ করে, তিনি যে বিএনপির নেতার ফোন কলের উল্লেখ করেছেন, তা রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের মধ্যে যোগাযোগের স্বচ্ছতা ও নীতিগত পার্থক্যকে উদ্ঘাটন করে।
বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন, পীরের এই সতর্কবার্তা ও সমালোচনা আসন্ন নির্বাচনের পূর্বে ভোটারদের মনোভাব গঠনে প্রভাব ফেলতে পারে। যদি তার বক্তব্য ব্যাপকভাবে প্রচারিত হয়, তবে তা ভোটারদের মধ্যে নিরাপত্তা ও নৈতিকতা বিষয়ক উদ্বেগ বাড়াতে পারে। একই সঙ্গে, বিরোধী দলগুলোকে তাদের কৌশল পুনর্বিবেচনা করতে বাধ্য করতে পারে, যাতে তারা ধোঁকাবাজি বা অবিশ্বাসের অভিযোগ থেকে মুক্তি পায়।
সামগ্রিকভাবে, চরমোনাই পীরের এই সমাবেশে প্রকাশিত বক্তব্য দেশের রাজনৈতিক নিরাপত্তা, আর্থিক স্বচ্ছতা ও নৈতিক দায়িত্বের প্রশ্নকে তীব্র করেছে। তিনি যে সতর্কতা দিয়েছেন, তা শুধুমাত্র তার সংগঠনের নয়, পুরো দেশের রাজনৈতিক পরিবেশের জন্য একটি চ্যালেঞ্জ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ভবিষ্যতে এই ধরনের মন্তব্যের প্রভাব কী হবে, তা সময়ের সঙ্গে সঙ্গে স্পষ্ট হবে, তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে এটি রাজনৈতিক আলোচনার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে।



