শফিকুল আলম, প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব, শুক্রবার বিকেলে মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার গড়পাড়া ইমামবাড়ি পরিদর্শনের পর উপস্থিত সাংবাদিকদের সামনে নিরাপত্তা, ধর্মীয় সংহতি এবং আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের প্রস্তুতি সম্পর্কে তার মতামত প্রকাশ করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে সরকারে এমন কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি যা শীর্ষস্থানীয় রাজনৈতিক নেতার সঙ্গে তুলনা করা যায়।
প্রশ্নে উঠে আসা “সেফ এক্সিট” সংক্রান্ত উদ্বেগের জবাবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, সরকারের কোনো সদস্যই এমন কাজ করেনি যা হাশিনার মতো হবে। তিনি নিজেকে দেশের গর্বিত সন্তান হিসেবে পরিচয় দেন এবং এই ভূমিতে বসবাস অব্যাহত রাখার ইচ্ছা প্রকাশ করেন।
আলোচনার পরিধি বিস্তৃত করে তিনি জানান, সাম্প্রতিক সময়ে দেশব্যাপী প্রায় ষাটটি মাজারে আক্রমণ ঘটেছে এবং বাউল গায়কদের ওপরও সহিংসতা দেখা গেছে। এসব ঘটনা তিনি নিন্দনীয় এবং জাতীয় সংহতির জন্য হুমকি হিসেবে বর্ণনা করেন।
এ ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা দ্রুত পদক্ষেপ নিয়েছে; ইতিমধ্যে বহু মামলায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে এবং বেশ কিছু সন্দেহভাজন গ্রেফতার করা হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে বাংলাদেশ একটি ধর্মীয় সহনশীল সমাজ হিসেবে তার পরিচয় বজায় রাখবে এবং সকল নাগরিক এই নীতিকে রক্ষা করবে।
মতবিরোধের অস্তিত্ব স্বীকার করে তিনি বলেন, পারস্পরিক সম্পর্ক ও শালীনতা বজায় রাখলে ভবিষ্যতে এ ধরনের হিংসাত্মক ঘটনার সম্ভাবনা কমে যাবে। তিনি সকল ধর্মীয় গোষ্ঠীকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান, যাতে সামাজিক সাদৃশ্য বজায় থাকে।
নির্বাচন সংক্রান্ত প্রশ্নে তিনি অতীতের কিছু সমস্যার দিকে ইঙ্গিত করেন; হাশিনার শাসনকালে ভোটারদের মধ্যে ব্যালট চুরি, ব্যালট বাক্সের অনুপস্থিতি এবং পুলিশ কর্তৃক অযৌক্তিক মন্তব্যের মতো ঘটনা ঘটেছিল। তিনি উল্লেখ করেন, সেই সময়ে মানুষ নির্বাচন প্রক্রিয়ার প্রতি অবিশ্বাসী ছিল।
বর্তমানে পরিস্থিতি পরিবর্তিত হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন, জনগণ এখন নির্বাচনমুখী এবং ১২ ফেব্রুয়ারি নির্ধারিত জাতীয় নির্বাচনকে উৎসবমুখর পরিবেশে পরিচালনা করা হবে। তিনি সকল নাগরিককে আহ্বান জানান, ধর্ম বা বিশ্বাস নির্বিশেষে প্রত্যেকেই ভোটের অধিকার ব্যবহার করবেন।
ইমামবাড়ি পরিদর্শনের সময় উপস্থিত ছিলেন ইমামবাড়ির খাদেম আরিফুর রহমান বাবু এবং অন্যান্য ধর্মীয় ব্যক্তিবর্গ, পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরাও ছিলেন। পূর্বে তিনি ঢাকা জেলার ধামরাই উপজেলার বাটুলিয়া বুচাই পাগলার মাজার পরিদর্শন করে স্থানীয় জনগণের সঙ্গে আলাপ করেন।
শেষে তিনি সকল রাজনৈতিক দল ও নাগরিককে একত্রে কাজ করার, ধর্মীয় সহনশীলতা রক্ষার এবং নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান, যাতে দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও সামাজিক সমন্বয় বজায় থাকে।



